Advertisement
E-Paper

দুকূলপ্লাবী

উইলিয়াম শেক্সপিয়রের জন্মের সাড়ে চারশত বর্ষ সম্প্রতি অতিক্রান্ত। তাঁহার সৃষ্টির অনন্যতা এবং জনপ্রিয়তা এখনও হাত ধরাধরি করিয়া চলিয়াছে। তিনি কেবল বিশ্বসাহিত্যের ছাত্রদের দ্বারা সবর্জনীন ভাবে পঠিত ও চর্চিতই নন, মঞ্চসফল তাঁহার নাটকগুলি এখনও পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহ নিশ্চিত করে। সাহিত্যের ক্লাসে বা সেমিনারে, উচ্চশিক্ষিত অভিজাতবর্গের সম্ভ্রান্ত আলোচনাচক্রে যেমন সমীহ ও শ্রদ্ধার সহিত তিনি চর্চিত, ততটাই আবেগ ও আসক্তির সহিত আম দর্শক-শ্রোতারা ধাবিত হন তাঁহার নাটকগুলির মঞ্চায়ন বা চলচ্চিত্রায়নের স্বাদ লইতে।

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০১৪ ০০:০৪

উইলিয়াম শেক্সপিয়রের জন্মের সাড়ে চারশত বর্ষ সম্প্রতি অতিক্রান্ত। তাঁহার সৃষ্টির অনন্যতা এবং জনপ্রিয়তা এখনও হাত ধরাধরি করিয়া চলিয়াছে। তিনি কেবল বিশ্বসাহিত্যের ছাত্রদের দ্বারা সবর্জনীন ভাবে পঠিত ও চর্চিতই নন, মঞ্চসফল তাঁহার নাটকগুলি এখনও পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহ নিশ্চিত করে। সাহিত্যের ক্লাসে বা সেমিনারে, উচ্চশিক্ষিত অভিজাতবর্গের সম্ভ্রান্ত আলোচনাচক্রে যেমন সমীহ ও শ্রদ্ধার সহিত তিনি চর্চিত, ততটাই আবেগ ও আসক্তির সহিত আম দর্শক-শ্রোতারা ধাবিত হন তাঁহার নাটকগুলির মঞ্চায়ন বা চলচ্চিত্রায়নের স্বাদ লইতে। শেক্সপিয়র এক বিরল প্রতিভা, যিনি উচ্চ বর্গের পাশাপাশি নিম্নবর্গীয় জনতাকেও আলোড়িত, আন্দোলিত করিয়াছেন।

জীবৎকালেও এ ভাবেই তিনি দর্শক-শ্রোতাদের টানিয়া আনিতেন গ্লোব থিয়েটারে। সেখানে যেমন অভিজাত দর্শকরা দামি কুশন মোড়া আসনে বহুমূল্য টিকিটে আসীন থাকিতেন, তেমনই মঞ্চের চারপাশ ঘিরিয়া দণ্ডায়মান থাকিতেন নাট্যকাতর দরিদ্র, শ্রমজীবী মানুষেরা, সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর যাঁহারা বিনোদনের খোঁজে থিয়েটারে প্রবেশ করিতেন। শেক্সপিয়র এই দুই শ্রেণির দর্শকদেরই মনোরঞ্জন করিতেন অকৃপণ। তাঁহার নাটকে তাই ভাঁড় জাতীয় চরিত্ররা অনায়াসে আসা-যাওয়া করিত, নাটকের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মোড় যাহাদের কথায় বা কাজে চমকপ্রদ চেহারা লইত। কেবল রাজারাজড়া কিংবা যুবরাজ-রাজকুমারি নন, কেবল ব্যারন, কাউন্ট আদি রাজপুরুষরা নন, অতি সাধারণ সব চরিত্র, চারপাশে অহোরহ যাহাদের দেখিতে পাওয়া যায়, তেমনই রকমারি বৃত্তিজীবী ও ভাগ্যান্বেষী লোকজন, খলনায়ক, সুদখোর, কসাই, কর্মকার, পদাতিক যোদ্ধা, ধাত্রী শেক্সপিয়রের থিয়েটারে ছড়াইয়া আছে। সমসাময়িক দর্শকরা এই সব চরিত্রের সহিত একাত্মতা অনুভব করিতেন। মঞ্চের চারপাশ ঘিরিয়া দাঁড়াইয়া থাকা সাধারণ দর্শকরা এই সব চরিত্রের কাজকর্ম দেখিয়া ও কথাবার্তা শুনিয়া কখনও উত্তেজিত, কখনও হতাশ, কখনও ক্রুদ্ধ, কখনও শোকবিহ্বল হইতেন। তাঁহাদের সেই প্রতিক্রিয়া গোটা থিয়েটারকে স্পর্শ করিত, প্রভাবিত করিত, নাট্যকারকে ভবিষ্যৎ মঞ্চায়নের আগে পরিমার্জন ও সংশোধনেও প্ররোচিত করিত। আবার দামি আসনে উপবিষ্ট অভিজাত, উচ্চশিক্ষিত, উচ্চবর্গীয় দর্শকরা নাট্যকারের উচ্চাঙ্গ জীবনবোধ, নায়কনায়িকার চরিত্রগুলির মহৎ আদর্শ ও কর্মপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হইতেন। এ ভাবেই শেক্সপিয়র সর্বজনীন হইয়া ওঠেন।

সাহিত্য-শিল্পের ‘অভিজাত’ ও ‘গণ’, এই দুই পৃথক বিভাজনের ধারণা অতএব সার্বভৌম নয়। প্রকৃত স্রষ্টা যিনি, তাঁহার হাতে ধ্রুপদী সাহিত্য ও শিল্পকলাকে গণ বা লোকচরিত্রও অর্জন করিতে পারে। প্রকৃত প্রতিভাবান, বস্তুত শেক্সপিয়রের মতো বিরল প্রতিভার অধিকারীরা ধ্রুপদী ও গণ শিল্পের কৃত্রিম বিভাজন ঘুচাইয়া দেন। শেক্সপিয়রের নাট্যকলার উৎসসন্ধানও দেখাইয়া দেয়, তিনি কেবল ধ্রুপদী লেখকদের রচনা হইতেই তাঁহার নাট্যবিষয় আহরণ করেন নাই, প্রচলিত লোককথা, খ্রিস্টীয় পুরাণ ও বাইবেলের আখ্যানও তাঁহার রচনার উৎস থাকিয়াছে। যাঁহারা ইহা পারেন, তাঁহারাই কিন্তু জনপ্রিয়তার নিরিখেও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরিয়া মানবাত্মার কারিগর থাকিয়া যান। যুগান্ত তাঁহাদের প্রাসঙ্গিকতা বিনাশ করিতে পারে না। বরং যুগাবসানে পাঠক-দর্শক-শ্রোতারা নূতন করিয়া তাঁহাদের ফিরিয়া পড়িতে থাকেন, নূতন ব্যাখ্যা লইয়া হাজির হন উত্তরকালের স্রষ্টা ও গবেষকরা। অবশ্যই এই কাজ অতি কঠিন। দুকূলপ্লাবী প্রতিভা কোনও দেশে এবং কোনও যুগেই সুলভ নহে। ক্ষণজন্মা শব্দটি অহেতুক তৈয়ারি হয় নাই। কিন্তু এই বিরল প্রতিভাবান অবশিষ্ট দুনিয়াকে দেখাইয়া দেন, সৃষ্টির ভুবনে অনেক বিভাজনই আসলে কৃত্রিম।

য ৎ কি ঞ্চি ৎ

বাবা রামদেব রাহুল গাঁধী এবং দলিত মানুষদের সম্পর্কে যাচ্ছেতাই মন্তব্য করে বিস্তর নিন্দেমন্দ এবং (হয়তো বা পরমারাধ্য মোদীজির তিরস্কার) শুনে না না, ক্ষমা চাননি, এত বড় মহাযোগীর ক্ষমা চাইতে নেই রীতিমত দাপটের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, ‘ওই কথাটা আমি ফিরিয়ে নিচ্ছি’। জানা ছিল, হাতের তির আর মুখের কথা এক বার নিক্ষিপ্ত হলে আর ফেরানো যায় না। কিন্তু সে তো সাধারণের জন্য। রামদেব অসাধারণ। যোগ যখন জানেন, বিয়োগই বা নয় কেন?

anandabazar editorial jatkinchit
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy