Advertisement
E-Paper

ফার্মাসির কাজে ব্যবহার হচ্ছে কৃত্রিম মেধা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ কোথায় কেমন?

চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রোগীকে কোন ওষুধ দিতে হবে তা নিয়ে কাজ করেন। কোন ওষুধের কী কাজ, কখন-কী ভাবে খেতে হবে, বয়স অনুযায়ী কী পরিমাণ ওষুধ খেতে হবে, তার কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে কি না, তা দেখেন ফার্মাসিস্ট।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫২

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

চিকিৎসা পরিষেবার অন্যতম ধারক ফার্মাসিস্ট। এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা রোগনির্ণয় করেন না। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রোগীকে কোন ওষুধ দিতে হবে তা নিয়ে কাজ করেন। কোন ওষুধের কী কাজ, কখন-কী ভাবে খেতে হবে, বয়স অনুযায়ী কী পরিমাণ ওষুধ খেতে হবে, তার কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে কি না, তা দেখেন ফার্মাসিস্ট।

আধুনিক বিশ্বে এই কাজে কৃত্রিম মেধার সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। ফার্মাসি পড়ার ক্ষেত্রে কী ভাবে কৃত্রিম মেধার পাঠ নিতে হবে, জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত—

স্নাতকের কোর্সে কৃত্রিম মেধার সংযোজন

Advertisement

ফার্মাসি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (পিসিআই) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ফার্মাসির স্নাতকের পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম মেধা ও মেশিন লার্নিং যুক্ত করেছে। নয়া পাঠ্যক্রমে উল্লিখিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগীর চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ তৈরি করা, নতুন ওষুধের ফর্মুলার সন্ধান করার মতো কাজ শেখার উপর জোর দেওয়া হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি, বিভিন্ন হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কী কী বিষয় শেখানো হবে?

নতুন পাঠ্যক্রমের অধীনে কম্পিউটার এডেড ড্রাগ ডিজ়াইন, বায়োস্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড ডেটা অ্যানালিসিস, ফার্মাকোভিজিলেন্স সিস্টেমস-এর খুঁটিনাটি ফার্মাসি বিষয়ের পঠনপাঠনে শেখানো হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

ফার্মাসি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পড়ুয়াদের দ্বাদশ শ্রেণিতে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা ও অঙ্ক নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া প্রয়োজন। ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর থাকলেই তাঁরা রাজ্য বা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রবেশিকা দিয়ে ফার্মাসি বিষয়টি স্নাতক স্তরে পড়ার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। এ রাজ্যের ফার্মাসি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তি হওয়ার জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজ়ামিনেশন-এর মাধ্যমে প্রার্থীদের মেধা যাচাই করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে যে সব ডিগ্রি এবং ডিপ্লোমা কোর্স ফার্মাসি বিষয়ে পড়ানো হয়ে থাকে, সেগুলি হল— ব্যাচেলর অফ ফার্মাসি (বিফার্ম), ডিপ্লোমা ইন ফার্মাসি (ডিফার্ম), ডক্টর অফ ফার্মাসি (ফার্ম ডি)।

কোথায় পড়ানো হয়?

দেশের বাছাই করা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক স্তরে নয়া পাঠ্যক্রমে পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লির ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিভার্সিটি। এখান থেকে বিফার্ম-এ স্নাতকেরা বিশেষ ডিপ্লোমাও করার সুযোগ পেতে পারেন।

উল্লিখিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমা ইন আর্টিফিশিয়াল অ্যান্ড ড্রাগ ডিসকভারি’ বিষয়টি পড়ানো হয়ে থাকে। ওই কোর্সের মাধ্যমে মলিকিউলার মডেলিং, বায়োইনফরমেটিক্স অ্যান্ড কেমোইনফরমেটিক্স, প্রেডিক্টিভ ড্রাগ ডিজ়াইন বিষয়গুলি শেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট কোর্সটিতে বিফার্ম কিংবা ফার্ম ডি সম্পূর্ণ করার পর ভর্তি হওয়া যাবে।

পাশাপাশি, দেশের কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিফার্ম কোর্সে কৃত্রিম মেধা, মেশিন লার্নিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স-এর সংযোজন করা হয়েছে।

কাজের সুযোগ

ফার্মাসি নিয়ে গবেষণা কাজের পাশাপাশি বেশ কিছু পদেও কাজের চাহিদা রয়েছে। ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফার্মাসিস্ট, কমিউনিটি ফার্মাসিস্ট— এর মধ্যে অন্যতম। তবে মার্কেটিং এবং রেগুলেটরি বিভাগেও ফার্মাসি শাখায় উচ্চ শিক্ষা থাকলে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে তাঁদের সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট, সার্টিফায়েড ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট কিংবা সার্টিফায়েড ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনিশিয়ান— যে কোনও একটি শংসাপত্র থাকা আবশ্যক।

impact of artificial intelligence Pharmacy Education in India
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy