এক জনের ঠিকানা সুলভ শৌচালয়! অন্য জনের ঝুপড়ি। পরিবার বলতে বাবা মাদকাসক্ত, অধিকাংশ সময় খোঁজ মেলে না মায়ের। ফুটপাথের আর পাঁচটা বন্ধুদের সঙ্গেই কেটে যায় দিনরাত। শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে মাধ্যমিক পাশ করল প্রিয়াঙ্কা প্রামাণিক ও সোনিয়া ঘোষ।
আরও পড়ুন:
দু’জনেরই মাথার উপরে ছাদ বলে কিছু নেই। ২০১৯-এরও আগে থেকে কলকাতার সাদার্ন অ্যাভিনিউ-এর এক ফুটপাথে থাকত ওরা। হঠাৎই প্রশাসনিক চাপে উঠে যেতে হয়। তার পর থেকেই সোনিয়া থাকে সুলভ শৌচালয়ে এবং প্রিয়াঙ্কা টালিগঞ্জ রেলসেতুর এক ঝুপড়িতে। বাড়ির কেউই চায় না ওরা পড়াশোনা করুক, জীবনে এগিয়ে যাক। কিন্তু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ কলকাতা নিবাসী মিত্রবিন্দা ঘোষ। সাদার্ন অ্যাভিনিউ-এর ফুটপাথে ২০১৯-এ যে সমস্ত শিশু ছিল তাদের সকলকে পড়াশোনার রাস্তা দেখান মিত্রবিন্দা। তিনি বলেন, ‘‘ওদের পরিবারের সঙ্গে এক প্রকার যুদ্ধ করতে হয়েছে স্কুলে ভর্তি করানো, পড়াশোনা শেখানো নিয়ে। আমি নিজেই ওদের পড়াশোনার দায়িত্বভার তুলে নিয়েছি। চাই ওরা যাতে আরও এগিয়ে যাক’’।
মাধ্যমিকে প্রথম তিন।
সোনিয়া মাধ্যমিক দিয়েছে টালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে। প্রাপ্ত নম্বর ২০০। বড় হয়ে ট্যাটু আর্টিস্ট হতে চায় সে। এমন ফলাফল কখনওই আশা করেনি বলে জানিয়েছে সোনিয়া। মিত্রবিন্দা বলেন, ‘‘নেশার ঘোরে ওর বাবা ওকে খুন পর্যন্ত করতে চেয়েছিল। সেখান থেকে পালিয়ে বেঁচেছে মেয়েটা। আমি চাইছি খুব শীঘ্রই যাতে ওর থাকার ব্যবস্থা করতে পারি। বড় হচ্ছে! এই সময় সুলভ শৌচালয়ে থাকা অনেকটাই চিন্তার।’’
অন্য দিকে, ১২ বছর বয়সে প্রিয়ঙ্কাকে ৪০ বছর বয়সি এক জনের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিতে চেয়েছিল তার পরিবার। সেখান থেকে আজ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ সে, রেজ়াল্ট জানার পর কেঁদে ফেলে প্রিয়াঙ্কা। সে বলে, ‘‘পাশ করা তো দূরের কথা, আদৌ পড়াশোনা করতে পারব তাই-ই ভাবিনি কখনও। এর পর কলা বিভাগে পড়তে চাই। ছবি আঁকা নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছি’’। প্রিয়াঙ্কা মাধ্যমিক দিয়েছে কালীধন ইনস্টিটিউশন ফর গার্লস স্কুল থেকে। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ২১২। ছবি আঁকার সেই অর্থে কোনও শিক্ষক পায়নি সে। তবুও ছবি আঁকাই তার ভালবাসা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রেগুলার পরীক্ষার্থী ছিল ৯ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৮৩ জন। পাশের হার ৮৬.৫৬ শতাংশ। যা গতবছরের তুলনায় বেশি। প্রথম দশে রয়েছে ৬৬ জন পরীক্ষার্থী।
- ২ মে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হল ২০২৫-এর মাধ্যমিক ফলাফল। এ বার ৬৯ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১০ ফেব্রুয়ারি। শেষ হয় ২২ ফেব্রুয়ারি। পরীক্ষার্থী ছিল ৯ লক্ষ ৬৯ হাজার ৪২৫ জন।
-
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কলকাতার কৃতী ফোন থেকে দূরে, সমাজমাধ্যমে নেই কোনও অ্যাকাউন্ট
-
মাধ্যমিকে নম্বর বাড়তে পারে? স্ক্রুটিনি এবং রিভিউ কী ভাবে করাতে হবে জানাল পর্ষদ
-
প্রথম দশে ৬৬, কলকাতার মাত্র এক, শিক্ষকদের সাফল্য উৎসর্গ ‘ফার্স্ট’ আদৃত সরকারের
-
অভাবের সংসারে আলোর হদিস দিল সুন্দরবনের দিশা, মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বর ৬১৩
-
চাকরিহারা শিক্ষকদের পাশে মাধ্যমিকে দশম স্থান পাওয়া রাহুল, ফেরাতে চায় দেশের অর্থনৈতিক হাল