রজোনিবৃত্তি মানেই বড়সড় ধাপ পেরোনো। শরীর ও মন, দুইয়ের নিরিখেই জীবন বড় মাইলফলক পেরোয়। হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নানা রকমের ওলট-পালটের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় মহিলাদের। কিন্তু তারই মধ্যে এমন কিছু লক্ষণ থেকে যায়, যা সাধারণ নয়। রজোনিবৃত্তি হওয়ার পর স্বাস্থ্যের কিছু কিছু ঝুঁকি তৈরি হয়। এই সময়ের পর শরীরের কিছু পরিবর্তনকে অনেকেই ‘স্বাভাবিক’ ভেবে এড়িয়ে যান সচেতনতার অভাবে। কিন্তু কখনও কখনও সেগুলিই গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই চিকিৎসকেরা বলছেন, রজোনিবৃত্তির পর শরীরের কিছু লক্ষণকে কখনওই উপেক্ষা করা উচিত নয়। সেগুলি কী কী?
রজোনিবৃত্তির পরের লক্ষণ। ছবি: সংগৃহীত
১. রক্তপাত: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত হল যোনিপথে রক্তপাত। রজোনিবৃত্তির পর এক বার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে আবার রক্তপাত হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক নয়। সামান্য দাগ পড়লেও তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত, কারণ এটি জরায়ু বা জরায়ুমুখের গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে।
২. যোনির পরিবর্তন: যোনি ও মূত্রনালির পরিবর্তন হলে সতর্ক হতে হবে। রজোনিবৃত্তির পর ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ার কারণে অনেক সময়ে সেই অংশে শুষ্কতা, জ্বালা, চুলকানি দেখা যায়। কখনও আবার যৌনমিলনের সময় ব্যথা বা অস্বাভাবিক স্রাবের মতো সমস্যাতেও ভোগেন অনেকে। পাশাপাশি, বার বার মূত্রনালির সংক্রমণও হতে পারে। এই লক্ষণগুলিকে সাধারণ ভেবে এড়িয়ে গেলে দীর্ঘ মেয়াদে সমস্যা হতে পারে।
৩. তলপেটে অস্বস্তি: পেলভিস এবং তলপেটে ব্যথা হওয়াটাকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নেন অধিকাংশ। অনেক সময়ে অল্প ব্যথা বা চাপের অনুভূতি থাকলেও তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু ব্যথা একটানা হতে থাকলে বা বার বার ফিরে এলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা দরকার। কারণ, এটি ডিম্বাশয় বা জরায়ুর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
রজোনিবৃত্তি কোনও অসুখ নয়, কিন্তু এর পর শরীরের পরিবর্তনকে অবহেলা করলে সমস্যা হতে পারে। রজোনিবৃত্তির আগের লক্ষণ সম্পর্কে জানলেও, রজোনিবৃত্তির পরের সমস্যাগুলি সম্পর্কে তেমন ধারণা থাকে না অনেকের। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার সকলের।