শিশু অপুষ্টির ছবিটা এক সময়ে ভয় ধরাত। আর এখন স্থূলত্ব চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। শিশু ও কমবয়সিদের মধ্যে স্থূলত্ব বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বিশ্ব জুড়েই চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র মতে, বডি মাস ইন্ডেক্স (বিএমআই) ২৫-এর বেশি হলে অতিরিক্ত ওজন বলে চিহ্নিত করা হয়, আর ৩০-এর বেশি হলেই তা স্থূলতার অবস্থা বলে ভাবা হয়। এক সময় মনে করা হত, শৈশবকালীন স্থূলত্ব আসলে উন্নত দেশগুলিরই সমস্যা, যেখানে মানুষের মাথাপিছু আয় বেশি। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, উন্নয়নশীল দেশগুলিতেও শিশুদের স্থূলতা ক্রমবর্ধমান। আর এ দেশের ছবিটা ভয় ধরানোর মতোই।
‘ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ফেডারেশন’-এর তথ্য বলছে, ভারতে ৫ থেকে ৯ বছর এবং ১০ থেকে ১৯ বছরের শিশু ও কমবয়সিদের মধ্যে স্থূলত্বের হার সবচেয়ে বেশি। ওজন যে ভাবে বেড়ে চলেছে ছোটদের, তাতে আগামী দিনে আরও বড় বিপদ আসতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। গবেষকদের আশঙ্কা, শৈশবে মেদবাহুল্য ও মাত্রাতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি এ দেশের জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠবে। ২০৪০ সালের মধ্যে এ দেশের অন্তত ১২ কোটি শিশু ও কমবয়সিরা স্থূলত্ব জনিত নানা রোগের শিকার হবে। তার মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, মেটাবলিক সিনড্রোম জনিত লিভারের জটিল অসুখ, কিডনির রোগ এবং থাইরয়েডের মতো অসুখ।
আরও পড়ুন:
ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেল্থ সার্ভে (এনএফএইচএস) দীর্ঘ সময় ধরেই শিশুদের ওজন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সমীক্ষা চালাচ্ছে। জানানো হয়েছে, ২০২১ সালের পর থেকে দেশে ছোটদের স্থূলত্বের হার অনেকটাই বেড়েছে। গ্রামীণ এলাকাতেও ছোটদের মধ্যে স্থূলত্বের হার ৩০ শতাংশের বেশি। অস্বাস্থ্যকর খাওয়া, কম ঘুম, বেশি ভাজাভুজি, তেলমশলাদার খাবারের প্রতি আসক্তি ওজন বাড়িয়ে দিচ্ছে অনেকটাই। স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরাও স্থূলকায় হয়ে উঠছে। এই দশাকে ‘ট্রাঙ্কাল ওবেসিটি’ বলে। মেদ তো কেবল বাইরে জমে না, পাকস্থলীর ভিতরেও জমে। তখন অগ্ন্যাশয়ে চাপ পড়তে থাকে। ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণও বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ওজন ফ্যাটি লিভার, ডায়াবিটিস ও হৃদ্রোগেরও কারণ হয়ে ওঠে।
ওজন কমাতে গেলে প্রথমেই খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানতে হবে। বাইরের খাবার, জাঙ্ক ফুডের বদলে শিশুর টিফিন বাক্সে গুছিয়ে দিতে হবে নানা ধরনের ফল, সব্জি ও ঘরে তৈরি হালকা খাবার। রোজ নিয়ম করে চল্লিশ থেকে ষাট মিনিট শিশুকে শারীরিক কসরত করতে হবে। বাইরে গিয়ে খেলাধূলার সুযোগ না থাকলে, বাড়িতে যোগাসন, ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম করা যেতে পারে। বাইরের খাবার খাওয়ার প্রবণতা এবং মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়া— এই দুই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে স্থূলত্বের সমস্যা কমবে। শিশুর ওজন যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেই অনুযায়ী সন্তানের খাদ্যতালিকা তৈরি করা বাঞ্ছনীয়। দরকার হলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।