ফল খেলে স্বাস্থ্য ভাল থাকবে। এই ভেবে দাম দিয়েই আপেল ও আঙুর কিনে আনলেন। অথচ জানতেই পারলেন না, কী পরিমাণ ভেজাল মিশে আছে সেই ফলে। খাদ্যে ভেজাল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে প্রায়ই। কিন্তু ফলও কি নিরাপদ? দেশের খাদ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসএসএআই (ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া) জানিয়েছে, আপেল, আঙুরের মতো ফল চকচকে দেখাতে সেগুলিতে মেশানো হচ্ছে কৃত্রিম রং বা মোমের স্তর। আঙুরের গায়ে লেগে থাকছে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ। এমনকি, ফলের গুণমান বোঝাতে তার গায়ে যে স্টিকার সেঁটে দেওয়া হচ্ছে, সেটিও বিপজ্জনক।
কী কী মিশছে ফলে?
ফল উজ্জ্বল ও সতেজ দেখাতে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সিন্থেটিক মোম ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন অনেক মোম রয়েছে, যেগুলি শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত হয়। কম খরচে সেগুলির প্রয়োগই বেশি হয়।
আঙুর চাষে প্রচুর পরিমাণে ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, যা ধোয়ার পরেও ফলের গায়ে থেকে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
আঙুরের আকার বড় করতে এবং রঙ গাঢ় করতে অনেক সময় জিবেরেলিক অ্যাসিড বা সিন্থেটিক রং ব্যবহার করা হয়।
ফল দ্রুত পাকাতে ক্যালশিয়াম কার্বাইড বা অ্যাসিটিলিন গ্যাস ব্যবহার করা হয় বেশির ভাগ সময়েই। এই ধরনের রাসায়নিক শরীরের জন্য বিপজ্জনক।
ফলের গায়ে স্টিকার কি নিরাপদ?
এফএসএসএআই-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফলের গায়ে যে স্টিকার লাগানো হয় তার আঠা ও কালিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে। খাওয়ার আগে স্টিকার তুলে সেই অংশটি ভাল করে না ধুলে আঠা পেটে গিয়ে বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।অনেক সময় ফলের গায়ে পচন ধরলে বা কোনো দাগ থাকলে অনেক বিক্রেতা সুকৌশলে সেই জায়গায় স্টিকারটি লাগিয়ে দেন। ফলে যিনি কিনছেন, তিনি বুঝতে পারেন না যে, ফলটি খাঁটি বা তাজা কি না। এফএসএসএআই সতর্ক করে জানিয়েছে, স্টিকার দেখে সেই ফল খুব ভাল মানের ভেবে বিভ্রান্ত হবেন না। স্টিকার অনুমোদিত কি না, তা আগে দেখে নিতে হবে।
এফএসএসএআইয়ের অনুমোদিত স্টিকার হলে তাতে ৪ সংখ্যার কোড দেখে বুঝতে হবে, ফলটিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়েছে, ৯ দিয়ে শুরু ৫ সংখ্যার কোড মানে সম্পূর্ণ জৈব বা অর্গ্যানিক পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে, আর ৮ দিয়ে শুরু ৫ সংখ্যার কোড হলে বুঝতে হবে, তা গবেষণাগারে জিনগত ভাবে পরিবর্তিত বীজ থেকে তৈরি করা হয়েছে।
আপেলের গায়ে মোম আছে কি না তা বোঝার জন্য ধারালো ছুরি দিয়ে হালকা করে খোসার গায়ে আঁচড় দিয়ে দেখুন। যদি সাদা গুঁড়োর মতো বার হয়, তা হলে বুঝতে হবে সেটি মোম।
আঙুরের গায়ে অনেক সময় সাদাটে পাউডারের মতো স্তর থাকে। সেটির নীচে নীলচে আস্তরণ দেখা গেলে সতর্ক হতে হবে। ওই অংশটি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ হতে পারে। তাই ফল কিনে এনে তা নুন-জল, ভিনিগার মেশানো জল বা বেকিং সোডা দিয়ে ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।