বসন্তের আমেজ আর আবিরের রঙে চারপাশ যখন রঙিন হয়ে ওঠে, তখন বাঙালির আড্ডার মেজাজটাও থাকে তুঙ্গে। রঙের উৎসব মানেই তো ভূরিভোজ! কিন্তু দোলের এই হুল্লোড়ে অনেক সময় বাধ সাধে শরীরের কিছু সীমাবদ্ধতা। যাঁদের হার্টের রোগ আছে কিংবা রক্তে শর্করার মাত্রা একটু চড়া, উৎসবের ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত মিষ্টির থালা দেখে তাঁদের মনটা একটু খারাপ হওয়াই স্বাভাবিক। তবে উৎসব মানেই কিন্তু অনিয়ম নয়। রান্নার কৌশলে সামান্য বদল আনলেই স্বাদ ও স্বাস্থ্য দু’টিই বজায় রাখা সম্ভব। ডুবো তেলে ভাজা স্ন্যাক্সের বদলে ভাপা বা অল্প তেলে সাঁতলানো খাবারও মন্দ নয়। আড্ডা হবে জমজমাট, শরীরও থাকবে ফিট, এমন কিছু স্ন্যাক্সের রেসিপি রইল।
স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স মানেই রোস্টেড মাখানা, ছোলার চাট বা দইবড়ার কথাই মাথায় আসে। গতানুগতিক রান্নার বাইরে অন্য কিছুও বানিয়ে ফেলতে পারেন। উপকরণ সামান্য, শুধু রন্ধনপ্রণালীতে কিছু বদল আনা প্রয়োজন।
বেকড ওট্স অ্যান্ড ভেজিটেবল কাটলেট
এটি সাধারণ আলু টিক্কির এক স্বাস্থ্যকর বিকল্প। আলুর বদলে এখানে ওট্স এবং প্রচুর সবুজ সব্জি ব্যবহার করতে পারেন। ওট্স শুকনো খোলা নেড়ে আগে গুঁড়িয়ে নিন। যত জনের জন্য বানাবেন, তেমন মাপেই উপকরণ নেবেন। সঙ্গে লাগবে গাজর, বিন,ক্যাপসিকাম, ব্রকোলি। সব সব্জি কুচিয়ে নিতে হবে। সব্জি সেদ্ধ করে তাতে নুন, হলুদগুঁড়ো, আদা-কাঁচালঙ্কা বাটা, ধনে ও জিরেগুঁড়ো ও সামান্য গোলমরিচ দিয়ে মেখে নিন। এ বার মাখা সব্জি ওট্সের গুঁড়ো দিয়ে মেখে গোল গোল টিক্কির মতো গড়ে নিন। প্যানে সামান্য অলিভ অয়েল বা ঘি মাখিয়ে এ পিঠ, ও পিঠ ভেজে নিন। চাইলে এয়ার ফ্রায়ারেও ভেজে নিতে পারেন।
আরও পড়ুন:
পালং-পনিরের তন্দুরি টিক্কা
পনির প্রোটিনের ভাল উৎস এবং পালং শাক আয়রনে ভরপুর। পালং-পনিরের টিক্কা যেমন মুখরোচক, তেমনই সঠিক ভাবে বানাতে পারলে পুষ্টিকরও। প্রথমে ২০০ গ্রামের মতো পনির নিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। পালং শাক ধুয়ে জল ঝরিয়ে সামান্য আদা, রসুন ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে বেটে নিন। এক কাপের মতো দই ফেটিয়ে রাখুন। এ বার পনিরের টুকরোগুলি দই ও পালং শাকের মিশ্রণে মাখিয়ে ভাল করে ম্যারিনেট করে রেখে দিন। গ্রিল প্যানে হালকা করে সেঁকে নিন।
সুস্বাদু স্ন্যাক্সও তৈরি করতে পারেন স্বাস্থ্যকর উপায়ে। ছবি: ফ্রিপিক।
পালং-মেথি মুঠিয়া
গুজরাতি খাবারটি ভাপিয়ে রান্না করা হয়। এর জন্য লাগে বেসন, আটা, কুচনো পালং শাক ও মেথি শাক, আদা-কাঁচালঙ্কা বাটা, সামান্য দই ও লেবুর রস। সব উপকরণ ভাল করে মেখে গোল গোল বা লম্বাটে রোলের মতো করে গড়ে নিতে হবে। এ বার এই রোলগুলি ভাপিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে ছোট টুকরো করে কেটে নিন। প্যানে সামান্য তেল দিয়ে তাতে সর্ষে, কারিপাতা ফোড়ন দিয়ে টুকরোগুলি হালকা করে ভেজে নিন।
রাগির ধোকলা
রাগির আটা দিয়ে ধোকলা তৈরি করতে পারেন। এই স্ন্যাক্স ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্যও ভাল। কটি বড় পাত্রে রাগির আটা, সুজি, টক দই, আদা-লঙ্কাবাটা এবং নুন ভাল করে মেশান। মাপমতো জল দিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। এতে ইনো বা সামান্য বেকিং সোডা মেশাতে পারেন। একটি বড় পাত্রে জল ফুটতে দিয়ে তার উপর স্ট্যান্ড রেখে ধোকলার পাত্রটি ঢাকা দিয়ে বসিয়ে দিন। ১০-১৫ মিনিট ভাপে রান্না হতে দিন। মাইক্রোওয়েভ অভেনেও রান্নাটি করা যায়। মাইক্রোওয়েভে রান্না করা যায়, এমন কাচের পাত্রে তেল ব্রাশ করে মিশ্রণটি ঢেলে ৪-৫ মিনিট রান্না করলেই ধোকলা তৈরি হয়ে যাবে। এর পর সাদা তেলে সামান্য সর্ষে, কাঁচালঙ্কা, কারিপাতা, হিং ফোড়ন দিন। তার পর সেটি ধোকলার উপর ছড়িয়ে দিন। উপর থেকে ধনেপাতাকুচি, নারকেলকোরা ছড়িয়ে চৌকো করে কেটে সেদ্ধ কাঁচালঙ্কা আর মিষ্টি সস দিয়ে পরিবেশন করুন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- বসন্ত প্রকৃতিতে রং ধরেছে। লাল, হলুদ, কমলা ফুলে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে পলাশ গাছগুলি। সেজেছে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া। ফুটেছে শিমুলও। তবে এই রং যেন পূর্ণতা পায় দোলোৎসবে। আবিরে, রঙে, হাসিতে, গানে, আড্ডায় ছড়িয়ে পড়ে খুশির আবহ।
- দোলোৎসবের আগে সেজে উঠুক অন্দরমহল। টাটকা ফুল, আবির, প্রদীপে কী ভাবে ঘরের ভোল পাল্টাতে পারেন?
- ‘খেলব হোলি রং দে না, তাই কখনও হয়!’ বরং রং তোলার সহজ কিছু উপায় জানা থাকলেই হতে পারে মুশকিল আসান। তবে দোল খেলার আগেই জেনে নিন কী ভাবে সহজেই তুলে ফেলতে পারেন রং।
-
রঙের ছুতোয় শরীর ছোঁয়ার ছাড়পত্র! বলিউডের এই সব গানে শুধুই কি নারী শরীরের উদ্যাপন?
-
প্রথম বার ভাঙের নেশা করেছেন? শারীরিক অস্বস্তি দূর করবেন কী ভাবে, কী ভুলেও করবেন না?
-
দোলের দুপুরে পাঁঠার মাংস দিয়ে ভূরিভোজ করে পেট আইঢাই! বিকেলে খান ‘হজমি-চা’
-
দোলের সন্ধ্যায় আড্ডা বসবে, বাদাম দিয়েই বানিয়ে ফেলুন মুখরোচক খাবার
-
দোলের রং কখনও প্রেমের, কখনও ধ্বংসের! উৎসবে কোন কোন ছবি দেখে রঙিন করবেন দিন?