Advertisement
E-Paper

জাপানে স্থূলত্বের হার বিশ্বে সবচেয়ে কম! কোন বিশেষ পন্থায় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন সে দেশের মানুষ?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, জাপানে স্থূলত্বের হার মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ, যেখানে ভারতে স্থূলত্ব ও অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন ২৫ শতাংশেরও বেশি। কী উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন জাপানিরা?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৩
How Japan maintains one of the lowest obesity rates in the world

কেন জাপানিদের ওজন বাড়ে না? ফাইল চিত্র।

থলথলে চর্বি, মোটাসোটা গড়ন, জাপানিদের মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না। বিশেষ করে জাপানি মেয়েদের চেহারা দেখার মতোই। ছিপছিপে চেহারায় মেদের লেশমাত্র নেই। তেমনই স্বাস্থ্যোজ্জ্বল তাঁদের ত্বক ও চুল। জাপানিদের ওজন বাড়ে না সহজে। এ শুধু কথার কথা নয়, কাগজেকলমেও প্রমাণিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, জাপানে স্থূলত্বের হার মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ। আর ভারত স্থূলত্বের হারে সব সীমা প্রায় অতিক্রমই করে ফেলেছে। এ দেশে স্থূলত্বের হার প্রায় ২৫ শতাংশ। প্রতি ৪ জন প্রাপ্তবয়স্কের ১ জনই স্থূলত্বের শিকার। গোটা বিশ্বে জাপানিরাই এক আশ্চর্য পন্থায় স্থূলত্বকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তাই বলে কি তাঁরা সব খাওয়াদাওয়া ছেড়ে কঠোর ডায়েটের মধ্যে থাকেন? একেবারেই না। বরং রোজের খাবার খেয়েই এমন ছিপছিপে গড়ন ধরে রেখেছেন তাঁরা।

কেন জাপানিদের ওজন বাড়ে না?

জাপানিরা এমন ভাবে খাওয়াদাওয়া ও শরীরচর্চা করেন যাতে তাঁদের ওজন তো নিয়ন্ত্রণে থাকেই, অসুখবিসুখও সহজে হয় না। রোজ বাড়িতে যা রান্না হয় সেই খাবার খেয়েই এমন সতেজ ও চনমনে দেখায় তাঁদের। শুধু কিছু নিয়ম মেনে চলেন জাপানিরা। যেমন, কখনওই পেট ঠেসে খাবার খান না তাঁরা। যখনই মনে হয় পেটের ৮০ শতাংশ ভরে গিয়েছে, তখন খাওয়া থামিয়ে দেন। জাপানি ভাষায় এই পন্থার নাম ‘হারা হাচি বু’। খাবার যতই লোভনীয় হোক না কেন, ঠিক সংযম বজায় রেখে চলেন তাঁরা।

দ্বিতীয় উপায় হল, ছোট ছোট থালায় বা বাটিতে খাওয়া। বড় থালায় পঞ্চব্যঞ্জন সাজিয়ে খেতে দেখবেন না জাপানিদের। তাঁরাও ভাত, সব্জি, মাছ সবই খান, তবে পরিমাণে অনেক কম। কেবল পরিমাণ মেপে খাওয়া নয়, ক্যালোরি মেপে খাওয়াও জরুরি। রোজের ডায়েটে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট পরিমিত মাত্রায় থাকায় জরুরি। জাপানিরা এই নিয়মই মেনে চলেন।

সময় ধরে খাওয়া ও সময় নিয়ে খাওয়া— এই দুই অভ্যাসই শরীরে মেদ জমতে দেয় না। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার অভ্যাস যেমন ঠিক নয়, তেমনই খাওয়ার সময়ে তাড়াহুড়ো করে প্রায় না চিবিয়েই খেয়ে ফেলার অভ্যাসও ক্ষতিকর। জাপানিরা এই নিয়ম কঠোর ভাবেই মানেন। অল্প অল্প করে খাবার মুখে নিয়ে ভাল করে চিবিয়ে খান। সে কারণেই একবারে অনেক বেশি পরিমাণে খেতে পারেন না তাঁরা।

প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়েই চলেন জাপানিরা। টাটকা সব্জি, মাছই থাকে রোজের খাদ্যতালিকায়। আর থাকে নানা রকম মরসুমি ফল। প্যাকেটজাত খাবার, প্যাকেটজাত পানীয়, জাঙ্ক ফুড জাপানিদের খাদ্যতালিকায় তেমন ভাবে নেই।

জাপানিরা ঠান্ডা জলে স্নান করেন না। গরম জলে স্নান করলে শরীরে ‘হিট শক প্রোটিন’ তৈরি হয়। এই প্রোটিন মেদ ঝরার প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে।

খাওয়াদাওয়া সেরেই ভাত ঘুম দেওয়া বা শুয়ে পড়া জাপানিদের ধাতে নেই। বরং তাঁরা হাঁটাহাঁটি করেন অনেক বেশি। জাপানি পদ্ধতিতে হাঁটার অনেক উপকারিতা আছে। এই পদ্ধতির নাম ‘হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ওয়াকিং’। সহজ করে বললে, বেশি সময় ধরে হাঁটা ও বিরতি নিয়ে হাঁটা। প্রথম ৫ মিনিট হবে ‘ওয়ার্ম আপ’। এই সময়ে ধীর গতিতে হাঁটতে হবে। অর্থাৎ, শরীরকে আগে মানিয়ে গুছিয়ে নিতে হবে। যদি এই পদ্ধতিটি ১০ মিনিট করতে চান, তা-ও পারেন। সবটাই নির্ভর করবে শারীরিক সক্ষমতার উপরে। ৫-১০ মিনিট ধীর পায়ে হাঁটার পর গতি বৃদ্ধি করতে হবে। পরবর্তী ৫-১০ মিনিট খুব দ্রুত গতিতে হাঁটতে হবে। পরের ৫ মিনিট ধীর গতিতে হাঁটতে হবে। অন্তত ২০-৩০ মিনিট এই ভাবে হাঁটলে অতিরিক্ত ক্যালোরি পুড়বেই। আর ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

Obesity Weight Gain Japan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy