স্মুদি হোক বা অমলেট— কচি পালং মিশিয়ে নিলেই বেড়ে যায় পুষ্টিগুণ। এটি এমন এক সব্জি যা হজমে সহায়ক, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকায় রোগ প্রতিরোধকও। ভিটামিন সি, কে তো আছেই, এতে রয়েছে আয়রন, ক্যালশিয়ামের মতো খনিজও।
নিয়ম করে পালংশাক খেলে যেমন পেটের স্বাস্থ্য ভাল থাকে, তেমনই এতে থাকা আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও ঠিক রাখে।
তা সত্ত্বেও, এই শাক শরীরে সমস্যা তৈরি করতে পারে। বাধা হতে পারে পুষ্টি শোষণে। খাওয়ার ভুলেই পালংয়ের পুষ্টি অধরা রয়ে যেতে পারে। কাঁচা পালং খাওয়ার বিপদ নিয়েই সতর্ক করলেন চেন্নাইয়ের পুষ্টিবিদ দীপলক্ষ্মী শ্রীরাম। পালংয়ে রয়েছে অক্সালিক অ্যাসিড যা শরীরে থাকা আয়রন, ক্যালশিয়াম বা অন্য খনিজের সঙ্গে মিশে ক্রিস্টাল বা পাথর তৈরি করে। তা ছাড়া, খনিজের পুষ্টি পেতেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি কাঁচা পালং ভাল করে না ধুলে তা থেকে ব্যাক্টেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা পেটে ব্যথা বা সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পুষ্টিবিদের মতে, কাঁচা পালংয়ের বদলে স্যালাড বা স্মুদিতে খেলেও তা যদি অল্প একটু ভাপিয়ে নেওয়া যায়, এই সমস্যা থাকবে না। শরীরের পক্ষে খনিজ শোষণ সহজ হবে।
রান্না করলে পালংশাকে থাকা অক্সালিক অ্যাসিড ভেঙে যায়।তা ছাড়া, যাঁদের হজমের সমস্যা থাকে, তাঁদের জন্য রান্না করা শাক খাওয়া ভাল। পুষ্টিবিদেরা মনে করাচ্ছেন, খাবারের পুষ্টি যথাযথ পেতে হলে উচ্চ তাপমাত্রায় বেশি তেল-মশলায় কষিয়ে রাঁধলে চলবে না। বরং রান্না হতে হবে কম আঁচে, কম তেলে।
পালংয়ের পুষ্টি সঠিক ভাবে পেতে হলে ভাপানো পালংয়ের সঙ্গে বাদাম, বীজ জুড়তে পারেন। ভাল হয় এর সঙ্গে প্রোটিন, ভিটামিন সি জুড়লে। পালংশাক দিয়ে স্যুপ বানিয়ে উপর থেকে সেঁকা বাদাম এবং বীজ ছড়িয়ে খেতে পারেন। আবার স্যালাড করেও খাওয়া যায়।