মরসুম বদলের সময় সর্দিজ্বরের মতো অসুখে কমে যায় খিদে এবং রুচি। তা ছাড়া জ্বর হলে শরীর দুর্বলও হয়ে পড়ে। অসুখের পথ্য হতে পারে গরম গরম চিকেন স্যুপ। তরল খাবারটি শুধু গলা ব্যথা বা সর্দির সময় শরীরে আরাম দেয় না, বরং সুস্থ করে তোলার পুষ্টিগুণও মজুত থাকে এতে।
মাংস সেদ্ধ করে তা টুকরো করে, মুরগি বা সব্জি সেদ্ধ করা জল বা ব্রথটি ব্যবহার করে স্যুপ তৈরি হয়। কখনও তাতে যোগ করা হয় রকমারি সব্জি। তাতে থাকে গাজর, ক্যাপসিকাম, কড়াইঁশুঁটি। আবার কখনও সস্ দিয়ে তৈরি স্যুপেও যোগ করা সেদ্ধ করা চিকেনের টুকরো। তবে রোগের পথ্য হিসাবে খেতে হলে সব্জি দেওয়া মুরগির হালকা স্যুপই ভাল। নানা রকম সস্ দিয়ে তৈরি স্যুপ এই সময় হজম করাটা একটু কঠিন হতে পারে।
কী এর উপকারিতা
তৃপ্তিদায়ক: গলা ব্যথা বা সর্দি-কাশির সময় গরম খাবার খেতেই ভাল লাগে। তরল বলে তেমন খিদে না থাকলেও খেতে অসুবিধা হয় না। তা ছাড়া, স্যুপ হালকা খাবার, সহজপাচ্যও। গলাব্যথার সময় যখন খাবার চিবিয়ে খেতে কষ্ট হয়, তখন পাতলা স্যুপ খাওয়াই সুবিধাজনক।
আরও পড়ুন:
শক্তি জোগায়: মুরগির মাংসও প্রোটিনের অন্যতম উৎস। শরীর যখন অসুস্থ হয়, তখন সেরে ওঠার জন্য ভিটামিন এবং খনিজের পাশাপাশি প্রোটিনের দরকার পড়ে। এতে পাওয়া যায় ভিটামিন বি৬, বি১২, ফসফরাস, সেলেনিয়াম, জ়িঙ্ক, আয়রনের মতো ভিটামিন এবং খনিজ। সুস্থ হওয়ার সময় এই ধরনের ভিটামিন-খনিজ দুর্বল শরীরের জন্য জরুরি হয়ে ওঠে।
সব্জি: অসুখের পথ্য হিসাবে খেতে হলে স্যুপ রান্নায় মরসুমি সব্জি ব্যবহার করা ভাল। এতে গাজর, বিন্স, পেঁপে, ক্যাপসিকাম, কাঁচালঙ্কার মতো সব্জি যোগ করা যায়। টাটকা সব্জিতে ভিটামিন-খনিজের পাশাপাশি থাকে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ভিটামিন সি। কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
মশলা-ভেষজের ব্যবহার: ধনেপাতা, পেঁয়াজশাক, গোলমরিচ, আদা, রসুন ব্যবহৃত হতেই পারে স্যুপে। এই ধরনের শাক-পাতা এবং মশলার নিজস্ব পুষ্টিগুণ রয়েছে। আদা জ্বর-সর্দি-কাশিতে দারুণ উপকারী। রসুনও ভাল। গোলমরিচের গন্ধ এবং ঝাঁঝও শরীর খারাপের সময় রুচি ফেরায়।