হাঁটতে যাওয়ার সুযোগ হয় না নিয়ম করে? কাজ সামলে জিমই বা ক’জন যেতে পারেন? অথচ শরীর জুড়েই মেদের আধিক্য। বাড়তি ওজন কমাতে উপায় হোক সিঁড়ি। একবার অভ্যাস করে ফেলতে পারলে সিঁড়ি ভাঙার অঙ্কের মতো অতটাও কঠিন হবে না এই কাজ। তবে ফিটনেস কোচ মিকি মেহতা বলছেন, ‘‘সিঁড়ি ভাঙতে পারলে, মেদ গলবে হাঁটার চেয়েও বেশি গতিতে।’’ এক সাক্ষাৎকারে ফিটনেস কোচ জানাচ্ছেন, স্থূলত্বের একাধিক কারণ হতে পারে। কখনও হরমোনের ভারসাম্যের অভাব হলেও মেদ জমে। কারও ওজন বাড়ে ভাজাভুজি, জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ফলে। কারও ওজন বৃদ্ধির কারণ শরীর সঞ্চালনের অভাব। তবে শরীরচর্চা এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।
হাঁটা এবং সিঁড়ি ভাঙায় তফাৎ কেন
হাঁটার উপকারিতা অনেক। ওজন কমাতে সাহায্য করে। খোলা জায়গায় হাঁটলে মনও ফুরফুরে হয়। তা ছাড়া নিয়মিত হাঁটাহাটি করলে ওজনও কমে। তবে ফিটনেস কোচ বলছেন, যখন কেউ হাঁটছেন সমতলে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময়ে অভিকর্ষের বিরুদ্ধে যেতে হয়। শরীরের সামগ্রিক ওজন নিয়ে মাধ্যাকর্ষণ বলের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে চড়তে হয় বলে শক্তিক্ষয় বেশি হয়। ‘হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং’- নামক জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট বলছে, সিঁড়ি উঠলে সমতলে হাঁটার চেয়ে তিন গুণে দ্রুত গতিতে মেদ গলে।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। বিপাক হারও এতে বৃদ্ধি পায়। ফলে মেদ গলতে সুবিধা হয়। কেউ যদি তিন তলাও ওঠেন, হাঁটার চেয়ে অনেক বেশি লাভ হবে।
আরও পড়ুন:
কী কী সুবিধা
পেশির ব্যায়াম: হাঁটলেও পেশির ব্যায়াম হয়। তবে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠলে তলপেট, ঊরু, নিতম্ব-সহ একাধিক পেশির কার্যক্ষমতা বাড়ে। পায়ের পেশিও মজবুত হয়। তা ছাড়া, শরীরের নিম্নাংশের মেদও দ্রুত ঝরে।
হার্টের জন্য ভাল: শুধু ওজন কমানো নয়, সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠা হার্টের জন্যও ভাল ব্যায়াম। ‘মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্স ইন স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সটারনাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত সপ্তাহে ৩০ মিনিট সিঁড়িতে চড়লেও হার্টের স্বাস্থ্য ভাল থাকে।
ফিটনেস প্রশিক্ষক জানাচ্ছেন, দিনে ৮-১০ মিনিট সিঁড়ি চড়ার অভ্যাস করলেও লাভ হবে। প্রথম ধাপেই পাঁচ তলা পর্যন্ত উঠতে গেলে মুশকিল। অফিস যাওয়ার সময় লিফটের বদলে ২-৩ তলা হেঁটে উঠতে পারেন। বাড়িতেও মাঝেমধ্যেও সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করে নিতে পারেন। সিঁড়ি দিয়ে ওঠা উপকারী হলেও, তার সঙ্গে হাঁটার অভ্যাসও রাখা দরকার।
তবে হার্টের সমস্যা থাকলে বা শ্বাসের কষ্ট থাকলে—জোর করে এই ধরনের শরীরচর্চা অপ্রয়োজনীয়। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে শরীরচর্চা জরুরি।