দিনভর কাজের ব্যস্ততা শেষে ঘড়ির কাঁটা যখন বিকেল ৪টে ছুঁইছুঁই করে, তখনই খিদেটা চাগাড় দিয়ে ওঠে। ধোঁয়া ওঠা গরম চা আর মুচমুচে চপ-সিঙাড়া কিংবা ফুচকা-চাট খেতেই ইচ্ছে হয় বেশি। তবে এখন অনলাইনে নানা রকম স্ন্যাক্স সহজলভ্য। চাইলেই বার্গার, সসেজ, পিৎজ়া চলে আসবে হাতের কাছে। কিন্তু এই সাময়িক তৃপ্তিই দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি আর ওজনের বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছে অজান্তে।
শরীরকে চনমনে রাখতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিকেলের এই সময়টিই হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভাজাভুজির বদলে যদি পাতে থাকে পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, তবে তা কেবল খিদে মেটাবে না, শক্তির জোগানও দেবে। এখন মনে হতে পারে বিকেলের স্ন্যাক্সে কী খাবেন। স্বাস্থ্যকর হলেও কি একঘেয়ে খাবার খেতে ভাল লাগে? একদমই নয়! স্বাদের সঙ্গে আপস না করে বানিয়ে নিন প্রোটিন ও ফাইবারে ঠাসা মুখরোচক ফিউশন স্ন্যাক্স, রইল কিছু প্রণালী।
গ্রিক স্টাইল পনির র্যাপ
বড় লেটুস পাতা বা বাঁধাকপির পাতার মধ্যে সতে করা পনিরের টুকরো, কুচনো ক্যাপসিকাম, কুচনো পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা কুচি এবং অল্প টক দইয়ের ড্রেসিং দিয়ে মুড়িয়ে নিন। তাতে অল্প নুন, গোলমরিচ গুঁড়ো ও চাটমশলা মিশিয়ে নিতে পারেন। এ বার র্যাপগুলি অল্প আঁচে সামান্য তেলে চাটুতে সেঁকে নিতে পারেন। অথবা, এয়ার ফ্রায়ারে ১৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ১০-১৫ মিনিট ভেজে নিতে পারেন।
সয়া চাঙ্ক ফ্রাই
ছোট সয়া চাঙ্ক সেদ্ধ করে জল ঝরিয়ে নিন। কড়াইতে সামান্য তেলে কারিপাতা, কাঁচালঙ্কা, পেঁয়াজ, রসুন কুচি এবং গোলমরিচ দিয়ে সয়াগুলি লালচে করে ভাজুন। উপরে সামান্য লেবুর রস ও বিটনুন ছড়িয়ে দিন। চাইলে এর সঙ্গে অল্প সব্জিও মেশাতে পারেন।
আরও পড়ুন:
এগ হোয়াইট মাফিন
ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে পালংশাক কুচি, মাশরুম কুচি এবং নুন ও গোলমরিচ মিশিয়ে ছোট ছোট বাটি বা মাফিন মোল্ডে দিয়ে বেক করুন অথবা ভাপে বসান। খুব সহজে তৈরি হয় এবং দেখতেও আকর্ষণীয়।
বেকড আপেল ও পনির নাচোস
আপেল পাতলা টুকরো করে কেটে নিন। প্রতিটি টুকরোর উপর অল্প গ্রেট করা পনির বা চিজ় এবং সামান্য দারচিনি গুঁড়ো দিন। অভেনে বা তাওয়ায় ঢেকে ২-৩ মিনিট গরম করুন যত ক্ষণ না পনির বা চিজ় গলে যায়। এর পর উপরে সামান্য মধু ছড়িয়ে দিন। ছোটরাও এই স্ন্যাক্স খেতে পারে।
কড়াইশুঁটি-পনিরের প্যাটিস
পনির ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। কড়াইশুটি হালকা সতে করে নিয়ে তার সঙ্গে পনিরের টুকরো আদাকুচি, কাঁচালঙ্কা মিশিয়ে মিক্সারে ব্লেন্ড করে নিন। শুকনো করে পেস্ট তৈরি করতে হবে। এ বার কড়াইতে ঘি গরম করে তাতে পেস্টটি ঢেলে দিয়ে আঁচ কমিয়ে ভাজুন। এ বার এতে স্বাদমতো নুন, জিরেগুঁড়ো, আমচুর, চাট মশলা মিশিয়ে ভাল করে নাড়াচাড়া করুন। ভাজা হয়ে গেলে কাঁচালঙ্কা কুচি ও ধনেপাতা ছড়িয়ে দিন। এ বার পুরটা নামিয়ে নিয়ে ঠান্ডা করতে হবে। তার পর হাতে নিয়ে গোল গোল করে বা চ্যাপ্টা করে প্যাটিসের মতো গড়ে নিন। তার পর ওট্স পাউডারে মাখিয়ে কম আঁচে ঘি বা তেলে ভেজে নিন।