চৈত্রের শেষ থেকে বাজারে যেমন তরমুজ পাওয়া যায়, তেমনই পাওয়া যায় ফুটি। কিন্তু ফলপ্রেমীদের মধ্যে তরমুজ খাওয়ার যতটা আগ্রহ দেখা যায়, ফুটির ভক্তসংখ্যা তত বেশি নয়। তার কারণ হতে পারে এর স্বাদ। তরমুজের মিষ্টত্বের তুলনায় ফুটির স্বাদ কিছুটা হলেও ফিকে। যদিও ফুটির ভক্তেরা সেই মিষ্টি স্বাদ মধু বা আখের গুড় ছড়িয়ে পুষিয়ে নেন। ওই বাড়তি পরিশ্রম ছাড়াই সুস্বাদু হওয়ায় তরমুজের কদর বেশি। কিন্তু তরমুজ কি স্বাস্থ্যগুণেও ফুটির থেকে এগিয়ে? মরসুমের ওই দুই ফলের মধ্যে কোনটি খেলে উপকার হবে বেশি?
১. জলের পরিমাণ
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আর তার জন্য শরীরকে ভিতর থেকে আর্দ্র রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি। সেই হিসাবে বিচার করলে তরমুজে জলের পরিমাণ প্রায় ৯২ শতাংশ। অন্য দিকে, ফুটিতে জলের পরিমাণ প্রায় ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ, শরীরকে ঠান্ডা করতে দুই ফলই প্রায় সমান। যদিও তরমুজ এ ব্যাপারে কিছুটা এগিয়ে। তরমুজ খেলে নিমেষেই চনমনে ভাব ফেরে।
২. ক্যালোরিমিটারে
যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য ফুটি তুরুপের তাস। তরমুজে প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ বেশি। ১০০ গ্রাম তরমুজে থাকে প্রায় ৩০ ক্যালোরি। ফুটির ক্যালোরি তরমুজের চেয়ে কম। ১০০ গ্রাম ফুটিতে থাকে ২৫-২৬ ক্যালোরি। তাই ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে এবং শরীরে জমা মেদ ঝরাতে চাইলে ফুটিই বেশি কার্যকরী।
৩. ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ
মিষ্টি স্বাদের কারণেই তরমুজের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি। এর জিআই প্রায় ৭২ থেকে ৮০। ফলে তরমুজ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই ডায়াবেটিকদের জন্য তরমুজ পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। অন্য দিকে, ফুটিতে শর্করার মাত্রা থাকে কম। বেশি থাকে ফাইবার। ফলে এটি রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে মিশতে সাহায্য করে।
৪. পেটের জন্য
বাঙালি মানেই হজমের গোলমাল। গ্যাস-অম্বলের জ্বালা। ফুটিতে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে যা হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর করে। যাঁদের একটুতেই অম্বল বা গ্যাস হওয়ার প্রবণতা আছে, তাঁদের জন্য তরমুজের চেয়ে ফুটি খাওয়া বেশি ভাল।
৫. পুষ্টিগুণ
তরমুজে আছে ‘লাইকোপেন’ নামের একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা হৃদযন্ত্র ভালো রাখে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। অন্য দিকে, ফুটিতে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’। এ ছাড়া এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন চোখের জন্য উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি সাহায্য করে।
সেরা কে?
দু’টি ফলের উপকারের ধরন দু’রকম। তাই কোনও এক জনকে সেরা বলা যাবে না। যদি দ্রুত এনার্জি আর মিষ্টি স্বাদ পেতে চান, তবে তরমুজ ভাল। আর যদি মেদ ঝরানো, হজম শক্তি বৃদ্ধি এবং ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবেন, তবে মধু বা গুড় ছাড়া ‘ফিকে’ স্বাদের ফুটিকেই পাতে রাখুন।