৩ মার্চ দোলপূর্ণিমা। কিন্তু এই বছরের দোলপূর্ণিমা অন্যান্য বছরের থেকে খানিক আলাদা। কারণ, এই বিশেষ দিনই দুপুরে হবে চলতি বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ। দোলের দিন দুপুরে হতে চলেছে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। ভারতের আকাশে তা দৃশ্যমান হবে। সেই কারণে এই গ্রহণ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। গ্রহণের প্রায় ন’ঘণ্টা আগে থেকে শুরু হয় গ্রহণের সূতককাল। মঙ্গলবার দুপুর ৩টে ২০ মিনিট থেকে শুরু হবে গ্রহণ। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার ভোর ৬টা ২০ থেকে শুরু হবে গ্রহণের সূতককাল। দোলের দিন গ্রহণ পড়ায় অনেকের মনেই রং খেলা, দোলের পুজো করা প্রভৃতি ঘিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। গ্রহণ চলাকালীন বা গ্রহণের দিন শাস্ত্রে নানা নিয়ম মানার নিদান দেওয়া রয়েছে। দোল রং ও আনন্দের উৎসব। গ্রহণের দিন সেই উৎসব পালনে কি কোনও বিধিনিষেধ রয়েছে? দোলের পুজো করাতেও কি কোনও সমস্যা আছে? জ্যোতিষীর থেকে জেনে নিন।
আরও পড়ুন:
-
দোল মানেই নানা রঙের মেলা, মার্চের ৩ না ৪ তারিখ, দোল উৎসব কবে পালিত হবে? পূর্ণিমা শুরু এবং শেষ কখন?
-
মার্চের প্রথম সপ্তাহেই হবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ! গ্রহণ শুরু ও শেষ কখন? ভারতের আকাশে কখন দেখা যাবে?
-
দোলের সপ্তাহে লটারি কেটে চার রাশির পকেটে টাকার রং লাগার সম্ভাবনা! বাকিদের কি প্রাপ্তির আশা নেই? রাশি মিলিয়ে দেখে নিন
গ্রহণের দিন রং খেলা ও দোলের পুজোয় কি কোনও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে?
৩ মার্চ, মঙ্গলবার দুপুর ২টো ১৩ মিনিটে চন্দ্র উপচ্ছায়ায় প্রবেশ করবে। গ্রহণ শুরু হবে ৩টে ২০ মিনিটে। শেষ হবে ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং চন্দ্র উপচ্ছায়া ত্যাগ করবে ৭টা ৫৫ মিনিটে। শাস্ত্রমতে, মঙ্গলবার পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ চলবে মোট ৩ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ধরে। অন্য দিকে দোলপূর্ণিমা লাগছে ২ মার্চ, সোমবার বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিটে এবং ৩ মার্চ, মঙ্গলবার ৫টা ৮ মিনিটে দোলপূর্ণিমা ছেড়ে যাচ্ছে। দোলের দিন যে তিন ঘণ্টা ২৮ মিনিট ধরে গ্রহণ চলবে, সেই সময় রং খেলা বা পুজো দেওয়ার মতো কোনও শুভ কাজ করা যাবে না। দোলের পরের দিন, অর্থাৎ ৪ মার্চ বিয়ের শুভ দিন রয়েছে। বিয়ে সম্পর্কিত কোনও কাজও গ্রহণ চলাকালীন করা নিষিদ্ধ। পূর্ণিমা তিথি যে হেতু আগের দিন বিকেলেই লেগে যাচ্ছে, কেউ চাইলে আগের দিনও রাধা-কৃষ্ণ, সত্যনারায়ণ প্রভৃতি পুজো করে ফেলতে পারেন। এ ছাড়া দোলের দিন সকালে, সূতককাল থাকলেও দোলের পুজো বা রং খেলায় কোনও বাধা নেই। কিন্তু গ্রহণ এক বার শুরু হয়ে গেলে সেটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও শুভ কাজ করা যাবে না। গ্রহণ ছেড়ে যাওয়ার পর পুনরায় রং খেলা যেতে পারে। হোলির দিন, ৪ মার্চ বুধবার রং খেলায় বা পুজো করার কোনও বাধা নেই।
আরও পড়ুন:
-
মার্চে পেশাজীবনের শীর্ষে পৌঁছোবে দুই রাশি, কিছু রাশির ভাগ্যে জুটবে বসের বকুনি! আপনার ভাগ্যে কী রয়েছে?
-
দোলপূর্ণিমার দুপুরেই বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ! আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তিন রাশির, পকেটে লাগবে সমৃদ্ধির রং!
-
রকমারি রঙের আবির দেখে ভিরমি খেয়ে যাচ্ছেন? দোলের রং বাছুন রাশি মেনে, জীবন সফলতার রঙে রঙিন হয়ে উঠবে
গ্রহণ চলাকালীম কী করতে হবে?
- গ্রহণ শুরুর পূর্বে খাওয়া-দাওয়া করে নেওয়া আবশ্যিক। এ ছাড়া সমস্ত খাবার, পানীয় জলে তুলসীপাতা দিতে রাখতে হবে।
- গ্রহণের দিন দান করা শুভ। কিন্তু গ্রহণ চলাকালীন তা করা যাবে না। গ্রহণ শেষ হওয়ার পর স্নান করে দান করতে পারেন।
- গ্রহণের সময় ইষ্টদেবতার নাম জপ করা, ধ্যান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। মন চাইলে তা করতে পারেন।
- গ্রহণ চলাকালীন খাদ্যগ্রহণ নিষিদ্ধ হলেও অসুস্থ ব্যক্তি, শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যতিক্রম করা যেতে পারে। এ বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। শাস্ত্র কখনও কাউকে অসুবিধায় ফেলে কোনও নিয়ম পালনের নিদান দেয় না।