চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমীতে কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণা অবতীর্ণ হন। চলতি বছর ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার পালিত হবে অন্নপূর্ণাপুজো। অন্নপূর্ণাপুজোর দিন যদি মাকে ভক্তি-শ্রদ্ধার সঙ্গে ডাকা যায় তা হলে অন্নের অভাব হয় না। দেবী অন্নপূর্ণার পুজোয় দারিদ্র দূর হয়, অন্ন-বস্ত্রের কোনও অভাব থাকে না। অর্থভাগ্য হয় চোখে পড়ার মতো। পুরাণ মতে, দেবাদিদেবের সঙ্গে দেবী অন্নপূর্ণার মতবিরোধ হলে অন্নপূর্ণাদেবী কৈলাস ত্যাগ করেন। ফলে শুরু হয় খাদ্যের অভাব, ঘটে মহামারি। ভক্তগণকে সেই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য দেবাদিদেব ভিক্ষার ঝুলি নিজের কাঁধে তুলে নেন। কিন্তু দেবীর মায়ায় ভিক্ষারও আকাল ঘটে, ভিক্ষা মেলে না। অবশেষে দেবাদিদেব শোনেন কাশীতে এক নারী সকলকে অন্নদান করছেন। দেবীকে চিনতে মহাদেবের একটুও দেরি হয় না। অবশেষে মহাদেব দেবীর কাছে ভিক্ষা গ্রহণ করে ভক্তগণকে মহামারি এবং খাদ্যাভাব থেকে রক্ষা করেন। সেই কারণে অন্নপূর্ণাপুজোর দিন দানকার্যের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এই দিন খোলা মনে দান করতে পারলে এবং বিশেষ এক উপায় পালনে জীবনে সুদিন আনা সম্ভব।
আরও পড়ুন:
অন্নপূর্ণাপুজোর টোটকা:
- অন্নপূর্ণাপুজোর তিথি শুরু হওয়ার পর একটা তামা বা কাঁসার পাত্রে কিছুটা ধান, গম, যব, গোটা ধনে, কালো তিল, সাদা সর্ষে, কালো মাষকলাই এবং ভুট্টার দানা নিন। তার পর সেই পাত্রের মুখ লাল কাপড় দিয়ে আটকে দিন। এর পর সেটিকে রান্নাঘরে পূর্ব দিকে রেখে দিন। জীবনে কখনও খাদ্যাভাব আসবে না। সমৃদ্ধির অভাব দেখা দেবে না।
- বিশেষ এই দিনে যে কোনও দেবীর মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়া খুবই শুভ বলে মনে করা হয়। পুজো শেষে সেই মন্দিরের বাইরে বসে থাকা ভিক্ষুকদের সাধ্যমতো দান করুন এবং তাঁদের মধ্যে পুজোর প্রসাদ বিতরণ করে দিন।
আরও পড়ুন:
- অন্নপূর্ণা পুজোর দিন কয়েকটা লবঙ্গ পুড়িয়ে তার পোড়া অংশ যে কোনও মূল্যের একটা নোটের ওপর রেখে কাউকে দান করে দিন। এর ফলে অর্থাভাব কেটে যাবে। নতুন আয়ের উৎসের সন্ধান পাবেন।
- বিশেষ এই তিথিতে নতুন একটি পিতলের পাত্রে (ছোট/বড় যে কোনও আকৃতির) অল্প চাল দিয়ে কোনও গরিব মানুষকে দান করুন। এই দিন পিতলের পাত্র দান করলে দেবী অন্নপূর্ণা সন্তুষ্ট হন বলে মনে করা হয়।