জ্যোতিষশাস্ত্র নিয়ে বহু মানুষের মনে বিভিন্ন প্রকার ধারণা রয়েছে। কেউ এতে বিশ্বাস রাখলেও, অনেকেই একে কুসংস্কারে পরিপূর্ণ বলে মনে করেন। জ্যোতিষশাস্ত্রকে বহু মানুষ বিভিন্ন ভাবে অপরের সামনে তুলে ধরেন। সেই কারণে এই শাস্ত্রের গায়ে কুসংস্কারের তকমা লাগে। তবে আদতে এই শাস্ত্রে যে কোনও বিষয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া রয়েছে। বহু জনই একটু বেশি বয়সে বিয়ে করেন। কম বয়সে তাঁদের বিয়ে যে আদৌ হবে, সেই নিশ্চয়তাও পেতে দেখা যায় না। শাস্ত্র জানাচ্ছে, সাধারণত পাঁচ রাশির ব্যক্তিদের মধ্যেই এই প্রভাব বেশি দেখা যায়। কম বয়সে এঁদের বিয়ে না হলেও, একটু বেশি বয়সে গিয়ে এঁরা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। এ সকল জাতক-জাতিকার দাম্পত্যজীবন অত্যন্ত সুখের হয়। তালিকায় কারা রয়েছে, জেনে নিন।
আরও পড়ুন:
কর্কট: কর্কট জাতক-জাতিকারা চাকরিজীবনে ঢোকার পর থেকে নিজের পেশার বিষয়েই বিশেষ গুরুত্ব দেন। সেই সময় এর বাইরে তাঁদের আর অন্য কিছু নিয়ে ভাবার অবকাশ থাকে না। এই রাশির জাতক-জাতিকারা আয়ের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন। পেশা এবং আয়ের দিক মনোমতো গুছিয়ে নেওয়ার পর এঁরা প্রেম, সম্পর্ক এ সব দিকে পা বাড়ান। সেই কারণে সাধারণত তিরিশের পরই এঁদের বিয়ে হতে দেখা যায়।
কন্যা: কন্যা জাতক-জাতিকারা যে কাউকে মন দিয়ে ফেলেন না। এঁরা ভালবাসার ব্যাপারে অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেন। এই রাশির জাতক-জাতিকারা প্রথমে সময় নিয়ে পছন্দের মানুষকে চেনেন, বোঝেন। তার পর প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। প্রেম যদি কন্যা জাতক-জাতিকাদের মনের মতো চলে, তা হলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। নচেৎ নয়। সেই কারণে কন্যা জাতক-জাতিকাদের বিয়ের ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়। তবে শেষে গিয়ে এঁরা যাঁকে বিয়ে করেন, তাঁর সঙ্গে বাকি জীবনটা সুখে সংসার করে কাটান।
আরও পড়ুন:
বৃশ্চিক: বৃশ্চিক জাতক-জাতিকারা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হন। কম বয়সে তাঁদের মধ্যে সেই আবেগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা মানুষ হিসাবে পরিণত হন, নানা জিনিস বুঝতে শেখেন। ঠিক-ভুলের বিচার করার ক্ষমতা আসে বৃশ্চিক জাতক-জাতিকাদের মধ্যে। প্রেমের ক্ষেত্রে কম বয়সে এঁরা সন্দেহের বশে নানা প্রকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, যা বড় হওয়ার পর তাঁরা আর করেন না। সেই কারণে বৃশ্চিক জাতক-জাতিকাদের বিয়েও একটু দেরিতে হয়।
ধনু: ধনু জাতক-জাতিকারা অত্যন্ত স্বাধীনচেতা হন। কম বয়সে এঁরা নানা প্রকার রোমাঞ্চ করে জীবন কাটাতে ভালবাসেন। সেই সময় প্রেম-ভালবাসায় মনোযোগ দেওয়া এঁদের রাশিগত প্রকৃতিতে নেই। বেশি বয়সে এসে সম্পর্ক বিষয়টাও এঁদের কাছে রোমাঞ্চ হিসাবেই ধরা দেয়। ধনু জাতক-জাতিকারা সংসারজীবন কেমন হয়, সেটি যাচাই করে দেখতে চান। তা বলে যে সঙ্গীর প্রতি নিষ্ঠাবান হন না, তা নয়।
আরও পড়ুন:
কুম্ভ: স্বাধীনতা ছেড়ে সম্পর্কের বন্ধন কুম্ভ জাতক-জাতিকাদের কাছে কম বয়সে জেলখানা-সম বলে মনে হয়। সেই কারণে এঁরা একটা বয়স পর্যন্ত নিজেদের প্রেম-ভালবাসা থেকে শতহস্ত দূরে রাখতেই পছন্দ করেন। কাউকে যদি পছন্দ হয়েও যায়, তাঁকে নিজেদের স্বাধীনতায় কুম্ভ জাতক-জাতিকারা হস্তক্ষেপ করতে দেন না। সেই কারণে প্রেম টেকে না। কিন্তু একটা বয়সের পর গিয়ে এঁরা সঙ্গীর মর্ম বোঝেন। তখন এমন কাউকেই সঙ্গী হিসাবে বেছে নেন, যে তাঁদের মতোই স্বাধীনতাপ্রেমী হন।