Advertisement
E-Paper

সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নলবাহিত রান্নার গ্যাস না-নিলে ৩ মাসের মধ্যে এলপিজি বন্ধ! নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার

রান্নার কাজে নলবাহিত গ্যাস বা পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে কেন্দ্র। তার জন্যই মঙ্গলবার নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যেখানে পিএনজি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, সেখানে তা চালু করতে হবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫৯
রান্নার কাজে এলপিজি-র পরিবর্তে পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।

রান্নার কাজে এলপিজি-র পরিবর্তে পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নলবাহিত (পাইপলাইন গ্যাস বা পিএনজি) রান্নার গ্যাস না-নিলে তিন মাসের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট বাড়ির এলপিজি জোগান! নতুন নির্দেশিকায় এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভারতে রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্যাস মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে রান্নার কাজে নলবাহিত গ্যাস বা পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিশেষ সচিব সুজাতা শর্মা একাধিক বার অনুরোধ করেছেন পিএনজি-র গ্রাহক হওয়ার জন্য। কিন্তু দেশের বিস্তীর্ণ অংশেই এলপিজি ব্যবহার করা হয়। পিএনজি এখনও সে ভাবে প্রচলিত নয়। তার জন্য এ বার কড়া হচ্ছে কেন্দ্র। পিএনজি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

পিএনজি-র জোগান সর্বত্র চালু করা এখনও সম্ভব নয়। কোথাও কোথাও প্রযুক্তিগত কারণে বাধা রয়েছে। কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে সমস্ত গৃহস্থালিতে পিএনজি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, সেখানে এলপিজি-র পরিবর্তে তা ব্যবহার করতে হবে। যাঁরা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা করবেন না, তাঁদের এলপিজি-র সংযোগ তিন মাসের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে। দেশের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ এলপিজি বাইরে থেকে আমদানি করে কেন্দ্র। তবে পিএনজি পরিষেবায় আমদানির চিন্তা নেই। কারণ নলবাহিত এই গ্যাস দেশেই উৎপন্ন হয়। অনেক উৎস থেকে তা পাওয়া যায়। একে এলপিজি-র সুবিধাজনক বিকল্প বলে দাবি করছে সরকার। সঙ্কটের সময়ে এই পরিষেবা ব্যবহার করলে হেঁশেলে টান পড়ার সম্ভাবনাও কম। রান্নাঘরে পিএনজি-র জোগান অবাধ। যখন প্রয়োজন, তখনই নলবাহিত গ্যাস মিলবে। বার বার বুকিং করারও প্রয়োজন নেই।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক থেকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের অধীনে ‘প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিতরণ নির্দেশিকা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ। এর লক্ষ্য দেশে পিএনজি পরিকাঠামোকে ত্বরাণ্বিত করা, পিএনজি-র অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং এলপিজি থেকে পিএনজি-তে রূপান্তরের জন্য জনসাধারণকে উৎসাহিত করা। দেশের যে সমস্ত অংশে পিএনজি পরিষেবা প্রযুক্তিগত কারণে সম্ভব নয়, সেখানে এলপিজি-র জোগান সীমাবদ্ধ রেখে বাকি অংশে পিএনজি চালু করতে চায় সরকার। এ বিষয়ে তৈল সচিব নীরজ মিত্তলের মতে পিএনজি-উদ্যোগের মাধ্যমে ‘সঙ্কটকে সুযোগে পরিণত করে দিয়েছে’ সরকার।

পিএনজি-র নির্দেশিকা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন মঞ্জুর করতে বলা হয়েছে সরকারের তরফে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমাণের বাইতে বাড়তি অর্থ আরোপ করতেও নিষেধ করা হয়েছে। গৃহস্থালির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিন দিনের মধ্যে পিএনজি-র অনুমতি দিতে হবে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিষেবা প্রদান করতে হবে। কোনও আবেদন বাতিল করা যাবে না। এ ছাড়া, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চার মাসের মধ্যে গ্যাসের নল বসানোর কাজ শুরু করতে হবে। না হলে শাস্তি পেতে হবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র। প্রযুক্তিগত সমস্যার ক্ষেত্রে এলপিজি ব্যবহারের জন্য অনুমতির শংসাপত্র বা ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দেখাতে হবে।

LPG png Central Government West Asia Fuel Crisis
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy