ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ইরানের দূতাবাসেও গিয়েছেন বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে শনিবার ভোরে। সেই ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় তেহরানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলল ভারত। এত দিন পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করলেও ভারত সরকারের তরফে ইরানের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশও হল এই প্রথম।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জয়শঙ্কর ফোনে আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেছেন। সমাজমাধ্যমেও সে কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে, তা খোলসা করেননি ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তিনি কথা বলেছেন ওমানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও। বৃহস্পতিবারই নয়াদিল্লিতে ইরানের দূতাবাসে গিয়েছিলেন মিস্রী। তিনি কথা বলেছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে ভারত সরকারের তরফে শোক প্রকাশ করেছেন মিস্রী। একটি শোকপত্রে স্বাক্ষরও করেছেন।
আরও পড়ুন:
গত শনিবার থেকে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল। তাতেই খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়। রবিবার সেই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তেহরান। তার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি ক্রমে বেড়েছে। মার্কিন-ইজ়রায়েলি হামলার প্রত্যাঘাত করতে গিয়ে একাধিক দেশের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, বাহরিন, সৌদি আরব, কুয়েত প্রভৃতি বিভিন্ন দেশে ইরানের ড্রোন আছড়ে পড়েছে। যত দিন যাচ্ছে, সংঘাত বাড়ছে। ইতিমধ্যে একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোনে কথা বলেছেন। পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তবে ইরানে মার্কিন-ইজ়রায়েলি হামলার নিন্দা করে এখনও কোনও বার্তা দেয়নি ভারত সরকার। মোদী কিছু দিন আগে ইজ়রায়েলে গিয়েছিলেন। তাঁর সফর শেষের পরেই ইরানে হামলা হয়। ফলে বিরোধীরা ভারতের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছিল। অবশেষে পাঁচ দিন পর ভারত যোগাযোগ করল ইরানের সঙ্গে। মার্কিন-ইজ়রায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোনও কথা না-বললেও খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ বিতর্কে ইতি টানতে পারে বলে মত অনেকের।
আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতে একাধিক দেশ জড়িয়ে পড়েছে। লেবাননে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাকে নিশানা করে পর পর হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েলের বাহিনী। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার কাছে ভারত ফেরত ইরানি জাহাজ উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন টর্পেডো। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধ থামার কোনও সম্ভাবনা নেই। ইরানে হামলা চলবে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পশ্চিম এশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করা যাবে। যোগাযোগের টোল ফ্রি নম্বর ১৮০০১১৮৭৯৭। এ ছাড়াও ১১২৩০১২১১৩, ১১২৩০১৪১০৪ এবং ১১২৩০১৭৯০৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। বিভিন্ন দেশে ভারতীয় দূতাবাসের জরুরি নম্বর বিদেশ মন্ত্রকের তরফে প্রকাশ করা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
১৩:২১
এ বার ওমান উপসাগরে মার্কিন রণতরীতে ড্রোন হামলা ইরানের! জাহাজ দখলের ‘বদলা’ নিল তেহরান -
০৯:৫৭
পাকিস্তানে আমেরিকার সঙ্গে শান্তিবৈঠকে কেন যোগ দিচ্ছে না ইরান? পাঁচ কারণ জানিয়ে দিলেন মোজতবা খামেনেইরা -
০৯:০১
ইরানি জাহাজের ইঞ্জিন রুমে গর্ত! মার্কিন সেনার দখলের বর্ণনা দিলেন ট্রাম্প, ফোন করে অন্য দেশকে নালিশ তেহরানের -
০৭:৫০
চিন থেকে আসা ইরানি জাহাজ দখল করে নিল মার্কিন ফৌজ! হরমুজ়ে উত্তেজনা, বৈঠক খারিজ করে বদলার বার্তা তেহরানের -
ওমান প্রান্ত দিয়ে জাহাজ গেলেই তো মিটে যায় সমস্যা! তবু কোন সূত্রে হরমুজ়ে ‘অ্যাডভান্টেজ’ পায় ইরান? কোথায় আতঙ্ক?