পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে ‘কঠিন পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে। সকলকে একসঙ্গে মিলেমিশে এর মোকাবিলা করতে হবে। রবিবার নিজের রেডিয়ো শো ‘মন কি বাত’-এ এমনটাই জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বলে দিলেন, এটা ‘স্বার্থপর রাজনীতি’ করার সময় নয়। তাতে দেশের ১৪০ কোটি জনগণের ক্ষতি হবে। নাম না-করে বিরোধী দলগুলিকে এই বার্তা দিয়েছেন মোদী। সেই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ‘বন্ধু’ দেশগুলিকেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মোদী বলেন, ‘‘আমাদের প্রতিবেশী অঞ্চলে গত এক মাস ধরে সাংঘাতিক যুদ্ধ চলছে। এটা নিশ্চিত ভাবেই কঠিন সময়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি সকল দেশবাসীকে হাত মেলাতে অনুরোধ করব। আমাদের একসঙ্গে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। যাঁরা এটা নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাঁদের এখনই থেমে যাওয়া উচিত। কারণ, এর সঙ্গে দেশের ১৪০ কোটি জনগণের স্বার্থ জড়িয়ে আছে। এটা স্বার্থপর রাজনীতি করার সময় নয়।’’
আরও পড়ুন:
নাগরিকদের যুদ্ধ নিয়ে কোনও গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘‘সকলে সাবধানে থাকুন। গুজবে কান দেবেন না। সরকার নিয়মিত যে তথ্য দিচ্ছে, শুধু তাতেই ভরসা রাখুন। তার উপর ভিত্তি করে যা করার করুন। গুজব দেশের বড় ক্ষতি করে দিচ্ছে।’’ অতীতে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একাধিক প্রতিকূলতাকে জয় করেছে ভারত। এ বারও তেমন ভাবেই সঙ্কটকে পেরিয়ে যাওয়া যাবে, আশা প্রকাশ করেছেন মোদী।
উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে কর্মসূত্রে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় থাকেন। তাঁদের রক্ষার জন্য ওই দেশগুলিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদী। বলেছেন, ‘‘উপসাগরীয় দেশগুলির কাছে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। ওরা এক কোটির বেশি ভারতীয়কে এই কঠিন সময়ে সবরকম সহায়তা করছে।’’ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্কই এই কঠিন সময়ে কাজে লাগছে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
ভারতের জ্বালানি চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র পশ্চিম এশিয়া। সেখান থেকে সারা বিশ্বেই পেট্রল ও ডিজ়েলের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভারত সাহসী ভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে বলে জানিয়েছেন মোদী। তিনি বলেন, ‘‘বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, যে সমর্থন আমরা পেয়ে থাকি এবং গত এক দশকে ভারত যে শক্তি লাভ করেছে, তার মাধ্যমেই আমরা এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারছি।’’ এ প্রসঙ্গে ফের করোনা অতিমারির স্মৃতিচারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, ওই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার পর পৃথিবী উন্নয়নের পথে যাত্রা করবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধ এবং সংঘাতের পরিস্থিতি বার বার সমস্যা তৈরি করছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় গত এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রত্যাঘাত চালিয়ে যাচ্ছে তেহরানও। কয়েক জন ভারতীয়ের মৃত্যুর খবর এসেছে। মোদী ওই অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখেছেন। ফোনে কথা বলেছেন রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে। গত মঙ্গলবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ় প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
পাকিস্তানে ফের বৈঠকের জন্য প্রস্তুত আমেরিকা-ইরান, তবে প্রথম বারের দুই নেতাই বাদ! কোন দেশ কাকে সরাল? কেন?
-
পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী! আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তি নিয়ে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনার দরজা কি খুলবে?
-
মাথায় দাম ৯৪ কোটি টাকা! পাকিস্তানে দ্বিতীয় বৈঠকের আগে মার্কিন নিশানায় ইরানের ঘনিষ্ঠ জঙ্গিনেতা
-
‘ফুটবল’ খুলতে চেয়ে শীর্ষ সেনাকর্তার সঙ্গে তুমুল তর্কাতর্কি! ইরানে পরমাণু হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলেন ট্রাম্প?
-
যুদ্ধবিরতির মাঝেই ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিপ্রদর্শন ইরানের! সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ নামলেন রাস্তায়