Advertisement
E-Paper

‘অবৈধ খননে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে অরাবলীর’, বলল সুপ্রিম কোর্ট, গড়া হবে নতুন বিশেষজ্ঞ কমিটি

সম্প্রতি একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত সাত বছরে রাজস্থানে ৭১ হাজারেরও বেশি অবৈধ খননের ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে। আর তার অধিকাংশই অরাবলী লাগোয়া জেলাগুলিতে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৫
Supreme Court bats for expert committee on Aravallis, says Illegal mining can lead to irreversible damage

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পূর্ববর্তী রায় কার্যকরের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল আগেই। এ বার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, অরাবলী পাহাড়ে খননের কাজ চালানোর ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নিবিড় পর্যালোচনার পরেই সিদ্ধান্ত হবে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘‘অবৈধ খননের ফলে অরাবলীর অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।’’

অরাবলী পাহাড়শ্রেণির কোন অংশকে ‘অরাবলী পাহাড়’ বলে বিবেচনা করা হবে, তা নিয়ে কয়েক মাস আগে একটি সংজ্ঞা নির্ধারণ করে কেন্দ্র। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নয়, বরং আশপাশের এলাকার চেয়ে ১০০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতার ভূখণ্ডই কেবলমাত্র অরাবলী পাহাড় বলে গণ্য হবে— এমনটাই ছিল কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের প্রস্তাবিত সংজ্ঞা। যদিও সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছিল। এর পরে গত ২০ নভেম্বর কেন্দ্র-নির্ধারিত ওই ‘সংজ্ঞা’য় সিলমোহর দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বিআর গবইয়ের বেঞ্চ।

শীর্ষ আদালতের ওই রায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরিবেশ এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এই রায়ের ফলে এত দিন যে ভূখণ্ড অরাবলী পাহাড়শ্রেণি বলে গণ্য হয়ে এসেছে, তার ৯০ শতাংশই আর পরিবেশ সংরক্ষণ বিধির অধীনে সুরক্ষাযোগ্য থাকবে না। ১২ হাজারেরও বেশি পাহাড়ের মধ্যে মাত্র হাজারখানেক আদালতের শর্ত পূর্ণ করতে পারবে। ফলে রাজস্থান, গুজরাত, হরিয়ানা, দিল্লি জুড়ে বিস্তৃত বাকি সব এলাকায় নির্বিবাদে খনি বানিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করা যাবে। পর্যটন এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কারণে নির্মাণ করা যাবে।

অরাবলী পাহাড়শ্রেণি সংরক্ষণের দাবিতে রাজস্থান এবং হরিয়ানার বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে সরব হন পরিবেশপ্রেমী এবং স্থানীয়েরা। একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত সাত বছরে রাজস্থানে ৭১ হাজারেরও বেশি অবৈধ খননের ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে। আর তার অধিকাংশই অরাবলী লাগোয়া জেলাগুলিতে। এই পরিস্থিতিতে গত ২৭ ডিসেম্বর এ বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। ২৯ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ জানায় এ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী রায় এখনই কার্যকর হচ্ছে না। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলেও শীর্ষ আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছিল। বুধবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি এবং ‘আদালত বান্ধব’ (অ্যামিকাস কিউরে) কে পরমেশ্বরকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশবিদ এবং বিজ্ঞানীদের নাম সুপারিশ করার নির্দেশ দিয়েছে যাতে দিকগুলি খননের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষণ সংস্থা গঠন করা যেতে পারে। বেঞ্চ জানিয়েছে, ওই কমিটি শীর্ষ আদালতের নির্দেশ এবং তত্ত্বাবধানে কাজ করবে।

aravalli hills controversy Supreme Court of India Iillegal Mining Scam Aravalli Range Illigal Mine
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy