প্রয়াত হলেন প্রবীণ ব্রিটিশ সাংবাদিক মার্ক টুলি। দীর্ঘ দিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। গত এক সপ্তাহ ধরে ভর্তি ছিলেন দিল্লির এক হাসপাতালে। রবিবার সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৯০ বছর বয়সি এই প্রবীণ সাংবাদিক।
জন্মসূত্রে কলকাতা (তৎকালীন ক্যালকাটা)-র প্রায় তিন দশক বিবিসি-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২২ বছর ধরে তিনি ছিলেন বিবিসি-র নয়াদিল্লি দফতরের ব্যুরো চিফ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ভারতের জরুরি অবস্থা, ইন্দিরা গান্ধীর জমানার ‘অপারেশন ব্লু স্টার’, ইন্দিরা এবং রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা তিনি কভার করেছিলেন। ২০০২ সালে নাইট উপাধি পান টুলি। ২০০৫ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্ম সম্মানেও ভূষিত করে।
কলকাতায় ১৯৩৫ সালে জন্ম হয় টুলির। ভারত ছিল তখন ব্রিটিশ উপনিবেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে (১৯৪৫ সালে) ন’বছর বয়সে ব্রিটেনে চলে যান টুলি। সেখানেই পড়াশোনা। কেমব্রিজে ইতিহাস এবং ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তিনি যোগ দেন বিবিসি-তে। ১৯৬৫ সালে বিবিসি-র হয়ে তাঁকে ভারতে পাঠানো হয়। প্রথমে সংস্থার এক অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে ভারতে আসেন তিনি। পরে রিপোর্টার হয়ে কাজ শুরু করেন।
আরও পড়ুন:
রবিবার টুলির মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আনেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং প্রবীণ সাংবাদিক সতীশ জেকব। পিটিআই-কে তিনি বলেন, “আজ (রবিবার) বিকেলে হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন মার্ক।” ভারতের উপর বিভিন্ন বইও লিখেছেন টুলি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘নো ফুল স্টপ্স ইন ইন্ডিয়া’, ‘ইন্ডিয়া ইন স্লো মোশন’ এবং ‘দ্য হার্ট অফ ইন্ডিয়া’। বিবিসি রেডিয়ো ৪-এ ‘সামথিং আন্ডারস্টুড’ বলে একটি বেতার অনুষ্ঠানও পরিবেশন করতেন তিনি।