প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মার্কিন সফরে দ্বিপাক্ষিক ঘনিষ্ঠতার ছবি দেখা গেলেও ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সেই তিমিরেই। গোটা প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন জোগাতে এ বার ‘ট্র্যাক টু’র মাধ্যমে চেষ্টা শুরু হল। আজ নয়াদিল্লিতে ‘ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর উদ্যোগে দু’দেশের সরকারি ও বেসরকারি কর্তাদের উপস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের কথায়, ‘‘আমেরিকার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত করার আগে ঘরোয়া শিল্পের স্বার্থকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করা হবে।’’ তিনি জানান, বিদেশি উৎপাদন সংস্থাগুলির ভারতে কারখানা স্থাপনের খরচ কী ভাবে কমানো যায়, সে ব্যাপারে পর্যালোচনা করছে তাঁর মন্ত্রক। 

বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, পীযূষের মন্তব্যে নতুন কিছু নেই। মূল যে জায়গাগুলি নিয়ে মতবিরোধ, তা আজকের পর খুব বেশি লঘু হয়নি।  ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন, আমেরিকা থেকে ভারতে আসা অ্যাপল-এর মতো দামি ফোন, স্মার্ট-ঘড়ির উপরে শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়া হোক। নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য, তাতে চিন-হংকংয়ের ফায়দা হবে। তার বদলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্প সফল করতে অ্যাপল নিজেরাই ভারতে কারখানা খুলুক।  ট্রাম্প চান, মোদী আমেরিকার কৃষি এবং ডেয়ারি পণ্যের জন্য ভারতের বাজার আরও বেশি করে খুলে দিন। কিন্তু বিজেপি নারাজ। ট্রাম্প চাইছেন, হৃদ‌্‌রোগের চিকিৎসার স্টেন্টের দামে সরকারের বেঁধে দেওয়া ঊর্ধ্বসীমা তুলে নেওয়া হোক। কিন্তু মোদী সরকার তা করতে নারাজ। উল্টে দিল্লি চাইছে, ভারত থেকে রফতানি করা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম থেকে বাড়তি শুল্ক তুলে নিন ট্রাম্প। এ দেশের কৃষি ও ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের জন্য আরও বেশি করে মার্কিন বাজার খুলে দেওয়া হোক। ই-কমার্স নীতি ও বিদেশি সংস্থাগুলির ব্যবসার তথ্য এ দেশেই রাখতে হবে বলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের শর্তের ক্ষেত্রেও সমঝোতা প্রায় অসম্ভব বলে সরকারি সূত্রের খবর। 

বাণিজ্য মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, ট্রাম্পের দাবি মেনে তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর পণ্যের উপর ২০ শতাংশ শুল্ক তুলে নিলে বছরে ৩২০ কোটি ডলার রাজস্ব ক্ষতি হবে। বিনিময়ে আমেরিকা যে বাধা শিথিল করার প্রস্তাব দিচ্ছে, তাতে ভারতের লাভ হতে পারে ২০ কোটি ডলার। ফলে লাভের থেকে লোকসান বেশি।