এফ-১৬ তরজা আরও উস্কে এ বার বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি ‘যুদ্ধ-জিগির’ তোলার অভিযোগ আনলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দুই কর্তাকে উদ্ধৃত করে ‘ফরেন পলিসি’ পত্রিকায় বলা হয়, বালাকোটে প্রত্যাঘাতের পরের দিন ভারত ‘ডগফাইটে’ যে পাক এফ-১৬ বিমান ধ্বংসের দাবি করেছিল, তা ঠিক নয়। কারণ, আমেরিকার হিসেব অনুযায়ী পাকিস্তানের হাতে থাকা এফ-১৬ বিমানের সংখ্যা একই আছে। আজ সেই মার্কিন পত্রিকার খবরকে হাতিয়ার করেই ইমরান টুইট করেন,  ‘‘বিজেপির মিথ্যা দাবি বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে। ভোটের আগে যুদ্ধ-জিগির তুলে ফের ক্ষমতায় আসার ছক কষেছিল বিজেপি। তা ব্যর্থ হয়েছে।’’

বালাকোটে হামলার পরে ভারতীয় বায়ুসেনা দাবি করেছিল, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাক সেনার হাতে ধরা পড়ার আগে উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমান ধ্বংস করেছিলেন। যে দাবি উড়িয়ে ইসলামাবাদ প্রথম থেকেই বলে আসছে, সে দিন আদৌ এফ-১৬ পাঠায়নি তারা। পাকিস্তানের সেই দাবিতেই কার্যত সিলমোহর দিয়েছে ‘ফরেন পলিসি’-র প্রতিবেদন। প্রতিবেদক লারা সেলিগম্যানের বক্তব্য, পাকিস্তানের হাতে থাকা বিমানগুলি সুরক্ষিত আছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করতে পারবে আমেরিকা, ওই মর্মেই চুক্তি হয়েছিল দুই দেশের।  আমেরিকা হিসেব করে দেখেছে, ভারতের বিমান ধ্বংসের দাবি মিলছে না। ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অধ্যাপক বিপিন নারাংয়ের কথায়, ‘‘এখন তো দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানের কোনও ক্ষতিই করতে পারেনি ভারত। উল্টে নিজেদেরই একটা বিমান আর হেলিকপ্টার খুইয়ে এসেছে।’’ ভারতীয় বায়ুসেনা কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ওই রিপোর্ট অগ্রাহ্য করেই জানিয়েছে—  শুধু এফ-১৬ নয়, ২৭ ফেব্রুয়ারি পাক বায়ুসেনার একাধিক জেএফ-১৭ এবং মিরাজ ৩/৫ ধরা পড়েছিল ভারতীয় রেডারে।  

এ দিকে, ইমরানের সুরেই আজ কেন্দ্রে বিজেপি সরকারকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে দুষেছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লা। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রতিশ্রুতি রাখতে না পেরেই যুদ্ধ-জিগির তুলেছে মোদী সরকার। তাঁর কথায়, ‘‘মোদী বলছেন, আমরা ওদের (পাকিস্তান) যুদ্ধবিমান নামিয়েছি। এ দিকে আবার আমেরিকা বলছে, সব বিমান হিসেব করা আছে। একটিও কমেনি। মোদীজি আপনি আর কত দিন লোককে বোকা বানাবেন? আপনি কি যুদ্ধ জিততে পেরেছেন? পাকিস্তান কি মানচিত্র থেকে মুছে গিয়েছে? তা হলে কেন মিথ্যে বলছেন?’’

পাকিস্তানের নাম না-করে বিজেপির পাল্টা তোপ, সরকার ও সেনাবাহিনীকে ‘অবিশ্বাস’ করছে বিরোধীরা। যার ফলে জঙ্গিদের যারা আশ্রয়দাতা তাদের হাতই শক্ত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযুষ গয়াল বলেন, ‘‘ফারুক আবদুল্লা এবং কংগ্রেসের নেতারা তাঁদের নিজেদেরই সরকার বা সেনাকে সন্দেহ করছে। তাঁদের এই আচরণ সেই সব মানুষ, সেই সব দল বা  সেই সব রাষ্ট্রের হাত শক্ত করছে, যারা সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেয়।’’