আবার আদালতে ধাক্কা খেল ট্রাম্প প্রশাসন। স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য তাদের চালু করতে চলা বিবেক-বিধি খারিজ হয়ে গেল আদালতে। 
বিবেক-বিধি কী? ঠিক হয়েছিল, এই বিধি অনুযায়ী  স্বাস্থ্যকর্মীরা নৈতিক বা ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পরিষেবা দিতে অস্বীকার করতে পারবেন। গর্ভপাত, বন্ধ্যত্বকরণ, নিষ্কৃতি মৃত্যুর মতো বিষয়গুলিতেই এই বিবেক-বিধি প্রযোজ্য হতে পারবে। ২২ নভেম্বর থেকে চালু হওয়ার কথা ছিল এই নয়া বিধি। জেলা আদালতের বিচারক পল এঙ্গেলমেয়ার বুধবার সেটি পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছেন। বলেছেন, স্বাস্থ্য দফতর নতুন বিধি তৈরি করে নিক। কিন্তু সেই বিধি মার্কিন সংবিধান এবং ‘আমেরিকান সাইকোলজিকাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর নির্দেশিকার অনুসারীই হতে হবে। 

এই রায় সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে গেল। স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মীয় অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত বছরই স্বাস্থ্য দফতরের অধীনে একটি বিভাগ খোলা হয়েছিল সরকারি নির্দেশে। তারাই এই বিবেক বিধি তৈরি করেছিল। গত বছর তার প্রাথমিক রূপটি সামনে আসার পরেই প্রজনন সংক্রান্ত অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলি তার বিরোধিতা করে। এ বছর মে মাসে ট্রাম্প নিয়ে বিধির চূড়ান্ত রূপটি ঘোষণা করেন। চারটি আদালতে এই বিধিকে চ্যালেঞ্জ করে আটটি মামলা হয়েছিল। এ দিনের রায়ের পর রিপাবলিকান শিবির দাবি তুলেছে, সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করুক। স্বাস্থ্য দফতর অবশ্য এখনই কিছু বলেনি।

স্বাস্থ্য পরিষেবার কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাটিক বিভাজন অনেক দিনের। বিশেষত গর্ভপাতের অধিকারের প্রশ্নটি নিয়ে বারে বারেই তীব্র হয়েছে পরস্পরবিরোধী প্রচার।  ডেমোক্র্যাটরা গর্ভপাতের ক্ষেত্রে মায়ের অধিকার, মায়ের সিদ্ধান্তের অধিকারের উপরে জোর দেন। রিপাবলিকানরা জোর দেন ভ্রূণের অধিকারে, সেখানে ধর্মীয় বিধিনিষেধের প্রশ্নও খুব বড় ভূমিকা নিয়ে থাকে।