স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে মার্শাল ট্যাঙ্ক এবং যুদ্ধবিমান চেয়ে পেন্টাগনের কাছে দরবার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী কাল স্বাধীনতা দিবসের সেই অনুষ্ঠানে আমেরিকার সামরিক শক্তি প্রদর্শনে আগ্রহী তিনি। যা দেখে বিশেষজ্ঞদের মনে হচ্ছে, কুচকাওয়াজে শক্তি জাহির করে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের দিকে হাওয়া কাড়তে চাইছেন ট্রাম্প। তাই এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারা।

অন্য সব দেশের মতো আমেরিকায় এত দিন পর্যন্ত স্বাধীনতা দিবসের বার্ষিক অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজের নজির ছিল না। ট্রাম্পের আগেকার প্রেসিডেন্টরা বরং ৪ জুলাইয়ে আড়ম্বর এড়িয়েই চলতেন। ১৯৯১ সালের জুন মাসে শেষ বার ট্যাঙ্ক এবং ৮০০০ সেনার বাহিনী নেমেছিল ওয়াশিংটনের পথে। ইরাকে মার্কিন অভিযানের শেষে ‘ন্যাশনাল ভিক্ট্রি সেলিব্রেশন’ হিসেবে আয়োজিত হয় সেই অনুষ্ঠান। 

এ বছর সেনাবাহিনী কতটা উৎসাহী, তা তাদের তরফে স্পষ্ট বোঝা না গেলেও ট্রাম্প লক্ষ্যে অটল। মঙ্গলবারই তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘‘বিগ ফোর্থ জুলাই ইন ডিসি। স্যালুট টু আমেরিকা।’ মার্কিন জনতার সামনে বিশ্বের সব চেয়ে শক্তিশালী এবং আধুনিক বাহিনীকে তুলে ধরতে পারবেন ভেবে পেন্টাগন এবং সেনাবাহিনীর সব মহান নেতা দারুণ উত্তেজিত।’’

২০১৭-র জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই ট্রাম্প স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ করানোর ইচ্ছে জানিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন কয়েক মাস আগে থেকে প্রেসিডেন্টের ইচ্ছে  মেনে প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে। সব ঠিক থাকলে আগামী কাল আতসবাজির সঙ্গে উড়বে যুদ্ধবিমান। পথে হাঁটবে সেনা। থাকবে সঙ্গীত আর প্রেসিডেন্টের বক্তৃতা। 

যদিও প্রাক্তন কয়েক জন সেনা-কর্তা এবং বর্তমান সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতাদের অনেকে ট্রাম্পের শক্তি প্রদর্শনের ‘রাজনীতি’ নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। ওই কর্তাদের মতে, ৪ জুলাইয়ে জাতীয় অনুষ্ঠান নয়, যেন মনে হচ্ছে, রিপাবলিকান পার্টির কোনও অনুষ্ঠান হতে চলেছে। ভোটের কথা মাথায় রেখে এ ভাবে  শক্তি প্রদর্শন একেবারেই অশালীন। দেশের সবার অনুষ্ঠান পরিণত হচ্ছে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিছিলে।