কিম জং উনের উত্তর কোরিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কায়েম করার নানাবিধ নৃশংস পদ্ধতির কথা বারবারই উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। এ বার সেই তালিকায় যোগ হল রাক্ষুসে মাছ পিরানহার ব্যবহার। 

তাঁর রাজত্বে বিরোধিতার শাস্তি যে ভয়ঙ্কর, সেই বার্তা দেশবাসীকে বারবারই পৌঁছে দিয়েছেন কিম। সূত্রের খবর, এ বার নাকি এক সেনা-কর্তাকে পিরানহা মাছে ভর্তি জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।  অভিযোগ, কিমের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করছিলেন ওই সেনা কর্তা। আর সেই খবর কানে আসতেই শাস্তি।

এর আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন সেনাপ্রধান হিয়ং ইয়ং চল-কে কামানের গোলার সামনে দাঁড় করিয়ে খুন করা হয়। পরের সেনাপ্রধান রি ইয়ং গিলকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ফলে কিমের এমন কার্যকলাপে অবাক নন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা। তাদের মতে, বিদ্রোহীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয়ের বার্তা দিতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত, যা একান্তই কিম-সুলভ। 

সূত্রের খবর, পিয়ংইয়ংয়ে কিমের প্রাসাদের ভিতরে একটি বিশাল জলাশয়ে ব্রাজিল থেকে আমদানি করা হয়েছে কয়েকশো পিরানহা মাছ। অভিযোগ, প্রথমে ওই সেনাকর্তার হাত-পা ধারালো অস্ত্র দিয়ে চিরে দেওয়া হয়। তার পরে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয় ওই জলাশয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত পিরানহার কামড়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর, নাকি ডুবে, নিশ্চিত জানা যায়নি।  

অনেকে মনে করছেন, ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া জেমস বন্ডের ছবি ‘ইউ অনলি লিভ টোয়াইস’ থেকেই হয়তো এই অভিনব  হত্যার ছক কষেছেন কিম। সেখানে ওই ছবির খলনায়ক ব্লোফিল্ডের এমন একটি পিরানহা ঠাসা পুকুর ছিল, যেখানে ছুড়ে ফেলে সহকারী হেলগা ব্র্যান্ডকে সে খুন করার ফন্দি এঁটেছিল। হিন্দি ছবিতেও এই ধাঁচের উদাহরণ আছে। ‘খুন ভরি মাঙ্গ’ ছবিতে যেমন রেখা অভিনীত চরিত্রটিকে কুমির-ভরা পুকুরে ফেলে মারতে চায় ভিলেন,  (কবীর বেদী)। ‘এক হাসিনা থি’ ছবিতে সইফ আলি খানকে ইঁদুর ভরা গুহায় বেঁধে রেখে আসেন ঊর্মিলা মাতন্ডকর।