প্রশিক্ষকের নির্দেশে বাঘ-সিংহরা কখনও উঠে দাঁড়াচ্ছে, কখনও বা ঠায় বসে। আবার পরক্ষণেই উঠে দাঁড়াচ্ছে ছোট্ট টুলের উপর। সার্কাসে এই দৃশ্য এক সময় ছিল ‘মাস্ট’। কিন্তু ভারতে হিংস্র ও বিরল প্রাণীদের খেলা দেখানো নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে শ্বাসরুদ্ধকর সেই ছবি উধাও। কিন্তু সার্কাসের আঁতুরঘর রাশিয়ায় এখনও তেমন কোনও বিধিনিষেধ আরোপ হয়নি। ফলে হিংস্র প্রাণীদের খেলা দেখানোটাই রীতি।

কিন্তু সেই খেলা দেখাতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। ঘেরাটোপের বাইরে বেরিয়ে এসে দর্শকদের উপর হামলে পড়ার মতো ঘটনার সাক্ষীও থেকেছে রাইন-ভল্গার দেশ। ফের তেমনই এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটল রাশিয়ার একটি সার্কাসে। তার জালের বেড়ার ভিতর থেকেই চার বছরের এক শিশুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল একটি সিংহ। ধারাল নখের থাবা বসিয়ে দিল গলায়। গোটা এই ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করেছেন এক দর্শক। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সেই শিশু। সার্কাসের ডিরেক্টরকে আটক করে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।

রবিবার ছুটির দিনে শিশু-কিশোরদের মনোরঞ্জনে সার্কাসের আসর বসেছিল মস্কো থেকে প্রায় ১২৫০ কিলোমিটার দূরে ক্রাসনোদর এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম উসপেনস্কোয়িতে। শারীরিক কসরত, ব্যালান্স, ম্যাজিক থেকে শুরু করে নানা ‘অত্যাশ্চর্য’ খেলা দেখে মুগ্ধ খুদেরাও। আর সব শেষে পশুদের খেলা। হিংস্র বন্য জন্তুদের পোষ মানানোর কেরামতি দেখানো শুরু হল। গলায় দড়ি পরানো সিংহ নিয়ে দুই প্রশিক্ষক এলেন জাল দিয়ে ঘেরা খাঁচার ভিতরে।

আরও পড়ুন: ফুটফুটে ছেলের জন্ম দিলেন সানিয়া মির্জা, গর্বিত শোয়েব

খেলা চলছিল ছন্দ মেনেই। কিন্তু আচমকাই বিপত্তি। ভিডিয়োটিতে দেখা যাচ্ছে, এক জনের হাতে সিংহের গলার দড়ি। ওই অবস্থাতেই জালের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল ওই সিংহ। জানা গিয়েছে, সেই তারজালের বেড়ার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল বছর চারেকের এক শিশু। তার গলায় ও মুখে থাবা বসিয়ে দেয় সিংহটি। গুরুতর জখম শিশুটিকে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় একটি শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই শিশুর শরীরের নানা জায়গায় নখের আঁচড়ে একাধিক ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভাগ্যিস ধর্মঘট হল! চাকরি-ভাগ্য খুলে গেল শর্মিলার

রাশিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোস্তভ-অন-ডন শহরের ওই সার্কাসের নাম মনডিয়াল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, দর্শকদের নিরাপত্তায় যে তারের জাল দিয়ে ঘেরা হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। ওই শিশু ঘেরাটোপের এত কাছে চলে এলেও কেন তাকে কোনও নিরাপত্তা কর্মী আটকাল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সার্কাসের ডিরেক্টরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। রাশিয়ার আইনে অপরাধ প্রমাণ হলে, ছ’বছর পর্যন্ত কারাবাস হতে পারে ওই সার্কাসের ডিরেক্টরের।