পরিষ্কার করে কাটা দাড়ি-গোঁফ আর ঝকঝকে ত্বকের যে নীরব মোদীকে দেখতে আমরা অভ্যস্ত, তার থেকে কিছুটা আলাদা এই ছবি। মুখে এখন কাঁচাপাকা গোঁফ-দাড়ি। ফ্যাশনেও বেশ বদল ঘটেছে। ফর্মাল পোশাকের জায়গায় গায়ে এখন ফ্যাশনেবল জ্যাকেট। তবে দেখে চিনতে একটুও অসুবিধা হয় না ব্যাঙ্ক প্রতারণায় অভিযুক্ত নীরব মোদীকে। সম্প্রতি ব্রিটেনের সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফের ক্যামেরায় ধরা পড়লেন নীরব। খোলামেলা এবং নিশ্চিন্তে লন্ডনের রাস্তায় হেঁটে বেড়ানো নীরবকে দেখে কে বলবে ইনি ভারতে ব্যাঙ্ক প্রতারণায় অভিযুক্ত হিরে ব্যবসায়ী!

দ্য টেলিগ্রাপে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তিনি লন্ডনে নতুন করে হিরের ব্যবসাও ফেঁদেছেন। থাকছেন লন্ডল ওয়েস্ট এন্ড-এর ৮০ লক্ষ পাউন্ডের একটি অ্যাপার্টমেন্টে। যার মাসিক ভাড়া ভারতীয় মূল্যে ন্যূনতম ১৭ লক্ষ টাকা!

সম্প্রতি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দ্য টেলিগ্রাফের এক সাংবাদিকের চোখে পড়ে যান নীরব। তাঁর হেঁটে বেড়ানোর ভিডিয়ো করে টুইটারে পোস্ট করেছেন ওই সাংবাদিক। ভিডিয়োয় ওই সাংবাদিককে অনেকগুলো প্রশ্ন করতেও দেখা গিয়েছে। যদিও ‘নো কমেন্টস’ ছাড়া আর কোনও উত্তর পাননি তিনি।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সক্রিয় অন্তত ২২টি জঙ্গি ঘাঁটি, দাবি ভারতের

 

যেমন নীরব মোদীকে ওই সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেন, তিনি লন্ডনে নতুন করে হিরের ব্যবসা শুরু করেছেন কিনা। জবাব আসে ‘নো কমেন্টস’। তারপর জানতে চাওয়া হয়, তিনি অনেক মানুষের টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছেন কি না, জানতে চাওয়া হয়, লন্ডনে কতদিন তিনি থাকবেন। প্রথম দিকে নীরব মোদীও অস্বস্তি ঢেকে হাসি মুখে সব প্রশ্নের ওই একই জবাব দেন ‘নো কমেন্টস’। তার পর সাংবাদিকের পিছু ছাড়িয়ে হাঁটতে শুরু করেন। রাস্তা পার করে অন্য দিকে চলে যান। কিন্তু ওই সাংবাদিকও ছাড়বার পাত্র নন। তিনিও সে দিকে যান। সেখানে গিয়ে ফের প্রশ্ন শুরু করেন। নীরব মোদী রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন কি না জানতে চান, তাতেও জবাবের কোনও হেরফের হয় না। এর পর সাংবাদিকের আরও কোনও প্রশ্নের উত্তরই দেননি তিনি। বরং একটি ক্যাব বুক করে তাতে উঠে পড়েন।

আরও পড়ুন: ১৩০ কোটি মানুষই আমার প্রমাণ, বায়ুসেনা অভিযান প্রসঙ্গে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ওই দৈনিক সূত্রের খবর, নীরব মোদী কালো রঙের যে জ্যাকেটটা পরেছিলেন সেটা অসস্ট্রিচ হাইডের। যার দাম আনুমানিক দাম ৯ লক্ষ টাকারও বেশি।

অভিযোগ, পিএনবি থেকে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা শোধ না করেই বেপাত্তা হয়েছিলেন নীরব। একই মামলায় নীরবের মামা মেহুল চোক্সীও ফেরার। তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি হওয়ার পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তাঁকে গ্রেফতার করার জন্য একাধিকবার ব্রিটেনের সঙ্গে কথা বলেছে। যাতে দ্রুত তাঁর প্রত্যর্পনের মামলা শুরু করা যায়। কিন্তু এখনও ব্রিটেন সরকারের তরফে এ বিষয়ে কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি, জানান এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের এক অফিসার।