ভারতের চাপ ছিল অনেক দিন ধরেই। হালে চাপ দিতে শুরু করেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জ ও আমেরিকা। সেই আন্তর্জাতিক চাপের কাছে এ বার মাথা নোয়াতেই হল পাকিস্তানকে। বিভিন্ন সংগঠনের নামে জঙ্গিদের গোপনে অর্থ জোগানোর অভিযোগে ‘জামাত-উদ-দাওয়া’ প্রধান, কট্টর সন্ত্রাসবাদী হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল ইসলামাবাদ। শুধু হাফিজই নন, মোট ২৩টি মামলায় নাম জুড়ে দেওয়া হল কট্টর সন্ত্রাসবাদীর ১২ জন ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরও।

বুধবার ইসলামাবাদের সন্ত্রাসদমন দফতরের (সিটিডি) তরফে বলা হয়েছে, ‘জামাত-উদ-দাওয়া’ সংগঠনের প্রধান (পড়ুন, হাফিজ সইদ) ও তাঁর সঙ্গীরা জঙ্গিদের অর্থ জোগাতে তহবিল গড়ে তোলার জন্য পাঁচটি ট্রাস্টকে ব্যবহার করেছেন দীর্ঘ দিন ধরে। তাই ওঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’’

সম্প্রতি আইএমএফ এবং এফআইটিএফের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদীদের অর্থসাহায্য় বন্ধের যাবতীয় প্রচেষ্টায় ইসলামাবাদ রাশ টানতে না পারলে কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে পড়তে হবে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারকে। ইসলামাবাদের বিপুল অঙ্কের ঋণ মকুবের আর্জিও খারিজ করে দেবে আইএমএফ।

পাক প্রশাসন সূত্রে খবর, মোট ২৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে লাহৌর, গুজরানওয়ালা ও মুলতানে। ওই এলাকাগুলি থেকেই প্রচুর পরিমাণে অর্থ জোগাড় করা হয়েছে জঙ্গিদের সাহায্য করার জন্য। কয়েকটি ট্রাস্টের মাধ্যমে সেই অর্থ জোগাড় করা হয়েছে। ট্রাস্টগুলির নাম- ‘আল-আনফাল’, ‘দাওয়াত-উল-ইরশাদ’ এবং ‘মুয়াজ-বিন-জবল’।

আরও পড়ুন- ট্যাঙ্ক-কুচকাওয়াজে কি শক্তি প্রদর্শনই!​

আরও পড়ুন- আর্থিক সঙ্কটে দেশ, ফার্স্ট লেডির হাতে দুর্মূল্য ব্যাগ​

সিটিডি-র তরফে এও জানানো হয়েছে, শুধুই জামাত-উদ-দাওয়া নয়, সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ জোগানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে লস্কর-ই-তৈবা এবং এফআইএফের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে। তহবিল গড়ে তোলার জন্য সংগঠনগুলি তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখার কাজও চালায় বলে অভিযোগ।