সপ্তাহে মোটামুটি ৭০টা টুইট বাঁধা। আর নিতান্ত প্রয়োজনে হোয়াইট হাউস থেকে কালেভদ্রে সাংবাদিক বৈঠক। গত দু’বছর মোটামুটি এ ভাবেই জনসংযোগ সামলে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এ বার শাট ডাউনের ধাক্কায় ছক বদলাচ্ছেন। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় মঙ্গরবার রাতে ওভাল অফিস থেকে তিনি জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা দেবেন। ক্ষমতায় আসা ইস্তক এই প্রথম। মজার বিষয়, এই ঘোষণা করতে গিয়েও ট্রাম্প কিন্তু বেছে নিলেন প্রিয় টুইটার মাধ্যমকেই।

আমেরিকায় এখন যত গন্ডগোল মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর তোলা নিয়েই। ট্রাম্প চাইছেন, বাজেট বরাদ্দ। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা বেঁকে বসেছেন। এ নিয়ে ডামাডোলের শাটডাউন আজ ১৭ দিনে পড়ল। প্রেসিডেন্ট কিন্তু বুঝিয়ে দিলেন, তিনি অনড়ই। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সারা স্যান্ডার্স আজ একটি টুইটে জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দেশের দক্ষিণে ওই বিতর্কিত সীমান্তে যাবেন। সমাধান না বেরোলে সে দিন ২০ দিনে পা দেবে শাট ডাউন।

সারার টুইটের ঘণ্টা দু’য়েক পরেই টুইট করেন প্রেসিডেন্ট। জানান, মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর তোলার প্রস্তাব ঘিরে দেশে যে নিরাপত্তাজনিত এবং মানবিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা দেবেন তিনি। কূটনীতিকদের দাবি, ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়েই মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর তোলা নিয়ে ট্রাম্প এখন জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতির উদ্দেশে ভাষণও ঠিক সেই কারণেই।

বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের কটাক্ষ করতেও ছাড়ছেন না প্রেসিডেন্ট। গত সপ্তাহান্তেই ট্রাম্প বিদ্রূপ করে বলেছিলেন, ‘‘আচ্ছা ঠিক আছে। ওরা যদি কংক্রিটে রাজি না হয়, আমি না হয় ইস্পাতের প্রাচীর তৈরি করে দেব।’’ কূটনীতিক মহলের একাংশের দাবি, প্রেসিডেন্টের এমন ব্যঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে দেশে। হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, হাল ফেরানোর লক্ষ্যে অদূর ভবিষ্যতে তেমন কোনও বৈঠকেরও পরিকল্পনা নেই। আমেরিকা তাই অচলই। এখন শোনার, ট্রাম্প কী বলেন!