জমে থাকা দুধের উপরের ঘন সাদা স্তর। মোলায়েম, সুস্বাদু সর অনেক বাড়িতেই বাড়তি হিসাবে গণ্য হয়। অনেক সময়ে অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দেন কেউ কেউ। কখনও আবার সরটুকু তুলে খেয়ে ফেলেন অনেকে। কিন্তু ওই সাধারণ উপাদান হেঁশেলের নানা কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। কেবল স্বাদবৃদ্ধি নয়, নানা ধরনের সমস্যার সমাধানও করতে পারে দুধের সর।
দুধ ফোটানোর পর ঠান্ডা হলে উপরে যে ঘন স্তর জমে, সেটিকেই সর বা মালাই বলা হয়। এতে থাকে প্রচুর ফ্যাট, ল্যাক্টিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন। তা দিয়ে নানা রকম খাবার বানানোর পাশাপাশি ত্বকচর্চাতেও ব্যবহার করতে পারেন।
দুধের সর দিয়ে হেঁশেলের কাজ। ছবি: সংগৃহীত
দুধের সর নানা কাজে লাগানোর উপায়—
১. মালাই টোস্ট: সেঁকা পাউরুটির উপর দুধের সর মাখিয়ে খেলে দুর্দান্ত লাগতে পারে। কেবল টোস্ট নয়, স্যান্ডউইচ হিসাবেও খাওয়া যায়। পাউরুটির ভিতরে দুধের সর, শসা, টম্যাটো বা অন্যান্য পছন্দের সব্জি রেখে খেতে পারেন। স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল, পাশাপাশি স্বাদও বৃদ্ধি করে দুধের সর।
২. মিষ্টি পদ: চিনির সঙ্গে মালাই মিশিয়েই নিমেষে তৈরি করা যায় মিষ্টি এক পদ। এ ছাড়া দুধের সর দিয়ে মালাই বরফি, মালাই লাড্ডু, ব্রেড মালাই রোল— অনেক রকম মিষ্টি বানানো সম্ভব।
৩. পালংয়ের তেতো ভাব কাটাতে: ৩-৪ চামচ দুধের সর দিয়ে রক্ষা করতে পারেন পালং পনিরের স্বাদ। এর ফলে ঝোলটি ঘন যেমন হবে, তেমনই পালংশাকের তেতো ভাব কাটানো যায় সরের ব্যবহারে।
৪. মাখন বা ঘি: প্রতি দিন দুধের সর জমিয়ে রাখলে তা থেকে সহজেই তৈরি করা যায় মাখন। আর সেই মাখন থেকেই তৈরি হয় খাঁটি ঘি। ঘরোয়া উপায়ে দুধের সর কাজে লাগিয়ে এগুলি বানিয়ে ফেলতে পারেন।
দুধের সর দিয়ে ত্বকচর্চা। ছবি: সংগৃহীত
৫. ত্বকচর্চা: দুধের সরে থাকা প্রাকৃতিক ফ্যাট, প্রোটিন এবং ল্যাক্টিক অ্যাসিড ত্বককে ভিতর থেকে আর্দ্র রাখে এবং শুষ্কতা কমায়। একই সঙ্গে এটি ত্বকের উপর একটি সুরক্ষার স্তর তৈরি করে, যা বাইরের রুক্ষ পরিবেশের প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে। রোদে পোড়া ত্বককে বাঁচানোর জন্য দুধের সর দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে ঘরেই ত্বকচর্চা করতে পারেন।