বড় বড় নেশায় তো বটেই, মাত্রা রাখতে না পারলে চা–কফি–সিগারেট–মদেও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে ত্বকের। অন্তত এমনটাই মত ত্বক বিশেষজ্ঞদের। নেশার ধরনের উপরেই নির্ভর করে ত্বকের ক্ষতি।  

‘‘তা-কফি হোক বা ধূমপান বা মদ্যপান, এগুলো সবই ত্বকের এপিডার্ম ও এক্সোডার্মে নানা রকমের প্রভাব ফেলে। খালি চোখে সবটা দেখা না গেলেও, নেশার বাড়াবাড়িতে ক্ষতি ভালই হয়। তাই কোন নেশায় কতটা রাশ টানব সেটা জানা খুব জরুরি। মদ্যপান ও ধূমপানের অভ্যাস খাকলে তা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া ত্বকের ক্ষতি রোখার কোনও উপায় নেই।’’— জানালেন ত্বক বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় ঘোষ।

তা হলে কি চা-কফি সব থেকেই দূরে থাকতে হবে? না, বিষয়টা তেমন নয়। মদ্যপান ও ধূমপান ত্বক ছাড়াও শরীরে নানা ক্ষতি বলে এগুলি অবশ্যই পরিত্যজ্য। তবে চা-কফির বেলায় কিছুটা নিয়ম মানলে রুখে দেওয়া যায় ক্ষতি।

আরও পড়ুন: সম্পর্কে জড়িয়েছেন? প্রেম টিকিয়ে রাখতে আজই রাশ টানুন এই সব অভ্যাসে

কেমন তা? জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ধরুন, চিনি ছাড়া কালো চা দিনে ৩–৪ কাপ খান। ক্ষতি নেই। চায়ের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বরং ত্বককে আরও সজীব করবে৷ তবে সেটাই যদি ৮–১০ কাপ বা আরও বেশি হয়, ঘুম ও খিদে যেমন নষ্ট হবে, তার হাত ধরে ত্বকের চাকচিক্যও কমবে৷

চিনি ছাড়া চা চলে না? তা হলে অল্প চিনি দিয়েই খান৷ তবে সুগার ফ্রি একেবারেই নয়৷ ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে চাইলে সব রকম প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে একটু দূরে থাকাই ভাল৷ চায়ের উপকারিতা পেতে চায়ের জল ফুটিয়ে আঁচ নিভিয়ে উপর থেকে কিছু চা পাতা ছড়িয়ে কিছু ক্ষণ চাপা দিয়ে রাখুন। তাতে লেবু যোগ করে লেবু–চা কেতে পারেন। মেটাবলিক রেট বাড়িয়ে ওজন কমাতে গ্রিন টি-ও খেতে পারেন।

কফির ভক্ত? দিনে দু’–এক কাপ খেতে পারেন৷ কি বড়জোর তিন কাপ৷ তবে বাড়াবাড়ি করলে কিন্তু অকালে বুড়িয়ে যাবে ত্বক৷ অনিদ্রা ও অম্বলের প্রকোপ বাড়লে আরও তাড়াতাড়ি বয়সের ছাপ পড়বে। রোজাসিয়া নামে ত্বকের অসুখের প্রকোপও বাড়তে পারে এতে।

ধূমপান

ধূমপান ছাড়ার নানা কারণের মধ্যে সৌন্দর্যহানিও একটা বড় কারণ৷ কালচে ধূসর মুখে অকাল বলিরেখার ছড়াছড়ি, সঙ্গে একটু হাড় বার করা তোবড়ানো মুখ৷ যাকে বলে ‘স্মোকার্স ফেস’৷ সকলেরই এমন হবে তা নয়। তবে ধূমপান মাত্রা ছাড়ালে এমনটা হওয়ার আশঙ্কা বেশি৷ সঙ্গে উপরি পাওনা তর্জনি ও মধ্যমায় হলদেটে বাদামি ছোপ, যাকে বলে ‘নিকোটিন সাইন’৷

ধূমপানের ফলে অসুখ–বিসুখের সমস্যাও অনেক৷ ঠোঁট–জিভ–তালুর ক্যান্সার, গলা–ফুসফুসের হাজারো সমস্যার কথা তো ছেড়েই দিলাম৷ হাতে–পায়ে পুঁজভরা ফোস্কা নিয়ে ‘পামোপ্ল্যান্টার পাসচুলোসিস’ নামের অসুখে যাঁরা ভোগেন তাঁদের শতকরা ৮০ জনই ধূমপায়ী৷ ধূমপায়ী মহিলাদের সোরিয়াসিস নামের দুরারোগ্য অসুখে ভোগার আশঙ্কা অধূমপায়ীদের চেয়ে ৩ গুণ বেশি। নিকোটিন থেকে আমবাত হতে পারে৷ ঘা শুকোতে দেরি হতে পারে৷ যথাসময়ে শুকোলেও থেকে যেতে পারে বিশ্রি দাগ৷

আরও পড়ুন: সিঁড়ি ভাঙাতেই লুকিয়ে মেদ ঝরার মন্ত্র, কোন নিয়মে ঝরবে ওজন?

মদ্যপান

মদে ক্যালোরির ছড়াছড়ি৷ নির্বিচারে খেয়ে গেলে সারা শরীরে চর্বি জমবে, জমবে চোখের কোলে৷ প্রচুর মদ্যপানে শরীরের কোষ জলশূন্য হয়ে চামড়া কুঁচকে যাবে৷ নিয়মিত হতে হতে এক সময় অজস্র আঁকিবুকি পড়বে মুখে–চোখে–সারা শরীরে৷ মুখের এখানে-সেখানে লাল জালের মতো ছড়ানো রক্তবাহী নালি দেখা যেতে পারে৷ বাড়তে পারে রোজাসিয়া বা সোরিয়াসিসের মতো জটিল অসুখ৷ আবার প্রচুর মদ খাওয়ার হাত ধরে আসে অস্বাস্থ্যকর জীবন৷ খাওয়া–ঘুমের অনিয়ম৷ তারও প্রভাব পড়ে ত্বকে।

সমাধান

ধূমপান ও মদ্যপান ছেড়ে চা-কফির পরিমাণ কমিয়ে ত্বক সুস্থ রাখতে সারা দিন ধরে যতটা পারেন জল, ফলের রস, ঘোল ইত্যাদি তরল খাবার খান। সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সুষম খাবার খেতে থাকুন।