পার্লারে গিয়ে ভ্রু প্লাক করানোর অভ্যাস রয়েছে অনেকের। কেউ কেউ আবার বাড়িতেও করেন। অধিকাংশ মহিলাই এখন সালোঁয় গিয়ে সুতো দিয়ে ভ্রু তোলান। ঘন ঘন যদি এ ভাবে ভ্রু প্লাক করা হয়, তা হলে ত্বকের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভ্রুর রোম তোলার পরেই সে জায়গায় লাল হয়ে চুলকানি হয়, অনেকেরই ত্বকে র্যাশ বেরিয়ে যায়। সারা মুখ ভরে যায় ফুস্কুড়িতে। তেমন হলে ওয়াক্সিংয়ের আগে ও পরে কিছু নিয়ম মানা জরুরি।
ভ্রু প্লাকের পরে র্যাশ কেন হয়?
ভ্রুর চারপাশের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়, তাই ভুল পদ্ধতিতে প্লাক করলে এই সমস্যা দেখা দেয়। আবার যদি ঘন ঘন ভ্রু প্লাক করেন কেউ, তা হলে চুলের গোড়া বা ফলিকল উন্মুক্ত হয়ে যায়। সেখানে ব্যাক্টেরিয়া জন্মে সংক্রমণ হয়। একে বলে ‘ফলিকুলাইটিস’। বার বার ঘর্ষণ বা টান লাগার ফলে ত্বকের উপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে প্রদাহ হতে শুরু করে।
আরও পড়ুন:
ভ্রুর চারপাশের চামড়া পাতলা হয়। বার বার টেনে প্লাক করলে তার স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়। ফলে চামড়া ঝুলে যেতে পারে। অতিরিক্ত প্রদাহের কারণে ত্বকে দাগছোপও দেখা দিতে থাকে।
ভ্রু প্লাকের আগে ও পরে কী কী নিয়ম মানবেন?
১) ভ্রুর রোম তোলার ঠিক আগে ঈষদুষ্ণ জলে মুখ ধুয়ে নিন বা উষ্ণ জলের ভাপ নিন। এতে রোমকূপগুলি খুলে যায় এবং ব্যথাও কম হয়।
২) প্লাক করার এক দিন আগে খুব হালকা স্ক্রাব দিয়ে ভ্রুর চারপাশ পরিষ্কার করে নিন। এতে মৃত কোষ দূর হবে। তাতে উন্মুক্ত রন্ধ্রের সমস্যাও দূর হবে।
৩) ব্যবহৃত টুইজ়ার বা থ্রেডিংয়ের জায়গাটি যেন জীবাণুমুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করুন।
৪) প্লাক করার সঙ্গে সঙ্গে সেই জায়গায় বরফ ঘষে নিন। যাঁদের ত্বক খুব সংবেদনশীল, তাঁরা ভ্রুর চারপাশের ত্বকে বরফ ঘষলে আরাম পাবেন। এতে ব্যথাও কমবে এবং র্যাশ হবে না।
৫) ত্বকের প্রদাহ কমাতে ভ্রুর চারপাশে অ্যালো ভেরা জেল বা শসার রস লাগাতে পারেন। এতে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান থাকে, যা সংক্রমণ রুখতে সাহায্য করে।
৬) প্লাক করার অন্তত ১২-২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই জায়গায় কোনও রাসায়নিকযুক্ত ক্রিম বা মেকআপ লাগাবেন না।
৫) যদি দেখেন ভ্রুর চারপাশের ত্বক লালচে হয়ে ফুলে উঠেছে, তা হলে সামান্য নারকেল তেলের সঙ্গে টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে লাগাতে পারেন। এতে র্যাশ বা ফুস্কুড়ি হবে না।