ধুম পড়েছে কোরীয় ত্বকচর্চা অনুসরণের। এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে পশ্চিমি দেশ পর্যন্ত এর জল গড়িয়েছে। কোরীয়দের ত্বকচর্চা থেকে যা যা অনুসরণ করা হয়েছে, তার মধ্যে মুখ্য ভুমিকায় রয়েছে ‘রাইস ওয়াটার’ অর্থাৎ চাল ধোয়া জল। ত্বকের পাশাপাশি চুল দ্রুত বড় করার ক্ষেত্রেও কাজ দেয় চাল ধোয়া জল। অনেকেই মনে করেন, চালের জল চুলে লাগালে তা দ্রুত বাড়ে এবং ঘন হয়। তার কতটা সত্য আর কতটা ভ্রান্ত, তা নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশাও রয়েছে নানা জনের মধ্যে।
এই ধারণার কিছু অংশ সত্য হলেও অনেকটাই অত্যুক্তি। চালের জলে কিছু পুষ্টিগুণ অবশ্যই আছে। ভিটামিন থেকে শুরু করে নানা খনিজ, অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের মতো পুষ্টি উপাদানে ভরপুর চাল ধোয়া জল। তবে এটি কোনও অলৌকিক উপায় নয়। তাই চুলের যত্নে চালের জল ব্যবহারের আগে এর সত্য-মিথ্যা জানা জরুরি।
চুলের যত্নে চালের জল কী ভাবে কাজ করে? ছবি: সংগৃহীত
ভ্রান্ত ধারণা ১: চাল ধোয়া জলে মাথা ধুলে চুল খুব দ্রুত বাড়ে
অনেকেই মনে করেন, চালের জল ব্যবহার করলেই চুল দ্রুত লম্বা হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। চালের জলে অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও খনিজ থাকলেও এগুলি সরাসরি চুলের বৃদ্ধির গতি বাড়ায়, এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চুলের বৃদ্ধি মূলত জিনগত বৈশিষ্ট্য, শরীরের পুষ্টি এবং হরমোনের উপর নির্ভর করে।
ভ্রান্ত ধারণা ২: চালের জল যত বেশি ব্যবহার, ততই ভাল
অনেকে মনে করেন, প্রতি দিন চালের জল ব্যবহার করলে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। কিন্তু চালের জলে থাকা স্টার্চ ও প্রোটিন বেশি ব্যবহার করলে তা মাথার ত্বকে জমে যেতে পারে। এতে চুল শক্ত ও রুক্ষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করলেই ভাল।
ভ্রান্ত ধারণা ৩: চালের জল সকলের জন্যই উপকারী
এই ধারণা ভুল। এক এক ধরনের চুলে এক এক রকম প্রভাব ফেলে চাল ধোয়া জল। কেউ উপকার পান, কারও চুল আবার অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। তাই চুলের ধরন বুঝে মাখতে হবে।
কিন্তু চাল ধোয়া জলের উপকারিতা সত্যিই আছে। সেগুলি জেনে ব্যবহার করা যেতে পারে।
চালের জল চুল মজবুত করতে সাহায্য করে
যদিও এটি চুল দ্রুত বাড়ায়, এমন প্রমাণ নেই, তবে চাল ধোয়া জল চুলের স্বাস্থ্যের সামগ্রিক উপকার করে। এই জলে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে চুল কম ভাঙে এবং বেশি ঘন হয়।
চুলে ঔজ্জ্বল্য ও কোমলতা বাড়াতে পারে
চালের জলের প্রোটিন ও ভিটামিন চুলের উপর একটি পাতলা আবরণ তৈরি করে। এতে চুল মসৃণ, নরম ও উজ্জ্বল দেখায়। অনেক সময়ে চালের জল প্রয়োগের পর চুলে জট পড়ার সমস্যা কমতে দেখা গিয়েছে। আসলে স্টার্চের পাশাপাশি চাল ধোয়া জলে কিছু পরিমাণে কার্বোহাইড্রেটও রয়েছে, সে কারণে এই উপকারগুলি মেলে।
মাথার ত্বক স্বাস্থ্যরক্ষা করে
চালের জল মাথার ত্বককে শান্ত করতে এবং সামান্য প্রদাহ বা চুলকানি কমাতে সাহায্য করতে পারে। মাথার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে চাল ধোয়া জল।