সাতসকালে হাজার কাজের তাড়াহুড়োয় একটি বা দু’টি তরকারি বানাতে হবে। সে কাজ ১০ মিনিটেই করা সম্ভব হবে, যদি বুদ্ধি খরচ করে কিছু কাজ আগাম করে রাখা যায়।
যেমন ধরুন, তরকারির গ্রেভি অর্থাৎ কষানোর মশলাটি আগেই বানিয়ে রাখলেন। ঠান্ডা করে কৌটোয় ভরে রেখে দিলেন ফ্রিজে। এই কাজটি করে নিতে হবে ছুটির দিনে। অথবা যখন হাতে কিছুটা সময় আছে, তখন। যাতে তাড়াহুড়োর সময়ে সামান্য আনাজ, মাছ, পনির বা মাংসের টুকরো, যা দিয়ে তরকারি বানাবেন সেটি তেলে সাঁতলে নিয়ে কয়েক চামচ গ্রেভি মিশিয়ে ফুটিয়ে নিলেই চটজলদি তৈরি হয়ে যায় তরকারি। আর তার স্বাদে নুন-চিনি-ঝাল-টকও থাকে নিখুঁত।
তেমনই সব রান্নায় ব্যবহারের জন্য কষানো মশলা বা অল পারপাস গ্রেভি চটজলদি বানিয়ে ফেলা যায় বিনাপেঁয়াজ-রসুনে। রান্না করার সময় ওই গ্রেভি বা কষানো মশলার সঙ্গে আনুষঙ্গিক উপকরণ বদলে তার আলাদা আলাদা স্বাদও তৈরি করা সম্ভব।
কী কী লাগবে?
ফোড়ন ও গোটা মশলা— ১টি তেজপাতা, ৩-৪টি লবঙ্গ, ১টি বড় এলাচ, ২টি ছোট এলাচ, ১টি জয়িত্রী, ১ টুকরো দারচিনি, ১ চামচ গোটা জিরে।
গুঁড়ো মশলা— ১ চামচ হলুদ, ১ চামচ কাশ্মীরি লঙ্কাগুঁড়ো, ২ চামচ ধনেগুঁড়ো, ১/৪ চামচ হিং, ১/৪ চামচ কসুরি মেথি, ১ চামচ আমচুর, ৩ চামচ গুড়, ধনেপাতা এবং স্বাদমতো নুন।
বাটা মশলার জন্য— ৩-৪টি টম্যাটো কুচি, ১ টুকরো আদাকুচি, ৩-৪টি ভেজানো শুকনো লঙ্কা, ১/৪ কাপ ভেজানো কাজুবাদাম, ১/২ কাপ টক দই।
তেল এবং ঘি— ৪-৫ চামচ তেল, ২-৩ চামচ ঘি।
কী ভাবে বানাবেন?
১: প্যানে তেল ও ঘি গরম করে জিরে এবং সমস্ত গোটা মশলা ফোড়ন দিয়ে সুগন্ধ বেরোনো পর্যন্ত ভাজুন। এর পর আদাকুচি, ভেজানো কাজুবাদাম ও শুকনো লঙ্কা দিয়ে কয়েক মিনিট ঢাকা দিয়ে রান্না করুন।
২: একটি পাত্রে টক দইয়ের সঙ্গে হলুদ, ধনেগুঁড়ো ও কাশ্মীরি লঙ্কাগুঁড়ো ভাল করে ফেটিয়ে নিন। মিশ্রণটি প্যানে ঢেলে কম আঁচে অনবরত নাড়তে থাকুন, যাতে দই ফেটে না যায়।
৩: মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে টম্যাটোকুচি দিয়ে দিন। টম্যাটো নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।
৪: মিশ্রণটি নামিয়ে সামান্য ঠান্ডা করে মিক্সিতে মিহি করে বেটে নিন। তার পরে বেটে নেওয়া মশলাটি আবার প্যানে দিয়ে নুন, হিং, কসুরি মেথি, আমচুর এবং গুড় মিশিয়ে ফুটিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে অল-ইন-ওয়ান গ্রেভি।