জিভে জল আনা মাছের কচুরি দিয়ে পাত সাজান অতিথির

নিজস্ব প্রতিবেদন
জিভে জল আনা মাছের কচুরি দিয়ে পাত সাজান অতিথির

বাঙালি জীবন কোনও দিনই অতিথিবিরল ছিল না। বরং দিনের পর দিন অতিথি বাৎসল্যই বাঙালিকে আলাদা পরিচয় এনে দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানের কর্মব্যস্ত জীবন ও সময়ের অভাব সেই বাৎসল্যে খানিক ভাটা এনেছে। তবু অতিথি এলে খুশি হওয়ার রেওয়াজ, তাঁকে যত্নাআত্তির ব্যত্যয় আজও বাংলার ঘরে হয় না।

বাংলার স্বভাবে যে আন্তরিকতার অভ্যাস অনেক আগে থেকেই ছিল তার প্রধান মিষ্টি। আপ্যায়ণের এই প্রথাতেই লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়াচ। এর মাঝেই অতিথির চায়ের প্লেটে যোগ হয়েছে নোনতা স্বাদ, লোভনীয় কিছু ভাজাভুজিও। রসগোল্লা, সন্দেশের পাশে প্লেটে জাঁকিয়ে জায়গা করে নিয়েছে ফিস ফ্রাই, কাটলেট, নিমকি, শিঙাড়া, ঘুগনিরা।

তবে শরীর সচেতনতার যে ঝাপট বাঙালির আতিথ্যে এসে ঘা মেরেছে সেখানে কেবল মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ণ আজকাল আর ভাবাই যায় না।  আবার কেনা খাবারে অতিথির পাত ভরাতেও মন চায় না। তাই আপনার জন্য রইল তেমন কিছু রেসিপির সন্ধান, যা এই অতিথির পাতে চমক তো আনবেই, সঙ্গে অতিথিসেবাতেও দেবে ফুল মার্কস!

মাছের কচুরি

অধিকাংশ বাঙালিই কম-বেশি মাছ ভালবাসেন। তাই মাছের কচুরি যে ভাল লাগার তালিকায় থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। জেনে নিন বাড়িতেই কী ভাবে বানিয়ে নেবেন চমৎকার মাছের কচুরি।

উপকরণ

পুরের জন্য:

রুই মাছ: ২০০ গ্রাম (সিদ্ধ করে কাঁটা ছাড়ানো)

পেঁয়াজ কুচি: ১টি বড়

আদা বাটা: ১ চা চামচ

রসুন বাটা: ১/২ চা চামচ

গরম মশলা গুঁড়ো: ১ চা চামচ

কাঁচালঙ্কা কুচি: ১ চা চামচ

কিসমিস: পরিমাণ মতো

নুন: স্বাদমতো

চিনি: স্বাদমতো

কচুরির জন্য

ময়দা: ২৫০ গ্রাম

ঘি: ৫০ গ্রাম

নুন: স্বাদমতো

প্রণালী

ময়দা ঘি ও নুন দিয়ে শক্ত করে মাখুন। কড়াইতে তেল দিয়ে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও লঙ্কা দিন। অল্প ভাজা হলে মাছ দিন ও স্বাদ মতো চিনি, নুন ও কিসমিস দিয়ে নাড়তে থাকুন। ভাজা ভাজা হলে গরম মশলা ও গোলমরিচ দিয়ে নামিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেল মাছের পুর। এবার ময়দা থেকে লেচি করে একটু বড় আকারের লুচি বেলুন। পুর ভরে দিন লেচির মধ্যে। ধারগুলো সুন্দর ভাবে মুড়ে দিন, যাতে ভাজার সময় পুর বেরিয়ে না যায়। ডুবো তেলে হালকা আঁচে গরম গরম ভাজুন।