Advertisement
E-Paper

নিজের যোগ্যতাকে নিজেই সন্দেহ করেছিলেন অভিষেক, বিশ্বকাপ জিতে মিচেলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন অর্শদীপ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর অভিষেক শর্মা স্বীকার করে নিয়েছেন, এক সময় তিনি নিজেকেই সন্দেহ করা শুরু করেছিলেন। অর্শদীপ সিংহও মুখ খুলেছেন ড্যারিল মিচেলকে বল ছোড়ার ঘটনা নিয়ে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ০০:১৪
cricket

(বাঁ দিকে) অভিষেক শর্মা। ড্যারিল মিচেল ও অর্শদীপ সিংহ (ডান দিকে)। ছবি: পিটিআই।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার ছিলেন। অথচ প্রতিযোগিতা শুরুই হয়েছিল শূন্যের হ্যাটট্রিক দিয়ে। সেই অভিষেক শর্মা নিজের সেরাটা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ফাইনালের জন্যই। ম্যাচের পর ভারতের ওপেনার স্বীকার করে নিয়েছেন, এক সময় তিনি নিজেকেই সন্দেহ করা শুরু করেছিলেন। কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পাশে না থাকলে আত্মবিশ্বাস পেতেনই না। অর্শদীপ সিংহও মুখ খুলেছেন ড্যারিল মিচেলকে বল ছোড়ার ঘটনা নিয়ে।

অভিষেক বলেন, “আগেই একটা কথা বলতে চেয়েছিলাম। আজ সেটা বলে ফেলার জন্য সেরা দিন। কোচ এবং অধিনায়কের বিশ্বাস ছাড়া এই জিনিস সম্ভব হত না। একটা সময় আমি নিজেকে সন্দেহ করা শুরু করেছিলাম। কারণ বিশ্বকাপটা একেবারেই ভাল যাচ্ছিল না। আগে কখনও এই জিনিস হয়নি। প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে নেমেও একটু চাপে ছিলাম। তবে বাকিরা প্রত্যেকে আমার পাশে ছিল। বার বার বলেছিল, আমি ঠিক বড় ম্যাচ জেতাব। আজ সেটাই হয়েছে।”

কোচেদের প্রতি ভালবাসা এখানেই থামেনি অভিষেক। তিনি বলেছেন, “যখন ভাল খেলছিলাম না, তখন কোচ এবং সতীর্থেরা সব সময় আমার পাশে ছিল। আমার উপর বিশ্বাস রেখেছিল। দলের জন্য ভাল খেলতে চেয়েও পারছিলাম না। তাই প্রতিযোগিতার মাঝে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। তখন কোচ এবং অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলি। ওঁরা সব সময় আমার পাশে থেকে সাহায্য করেছেন। আজই সেই দিন, যে দিন ওঁদের কিছুটা ফেরত দিতে পারলাম।”

অভিষেক জানিয়েছেন, তিনি শুধু নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, “সবে এক-দু’বছর ভারতীয় দলে এসেছি। তার মধ্যেই এ রকম খারাপ সময় কাটাতে হয়েছে। কাজটা সহজ ছিল না। সেই সময়ে দল যে ভাবে সাহায্য করেছে, তাতে কোনও ভালবাসাই যথেষ্ট নয়। আগে কখনও এমন ভালবাসা পাইনি।”

বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটারের মতো এক নম্বর টি-টোয়েন্টি বোলার বরুণও সমস্যায় ছিলেন। বিশ্বকাপে জসপ্রীত বুমরাহের সঙ্গে যুগ্ম ভাবে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী তিনি। কিন্তু রান দেওয়া নিয়ে বার বার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। সেই বরুণ বললেন, “অসাধারণ লাগছে। পর পর দুটো আইসিসি ট্রফি। বিশ্বাসই হচ্ছে না। অভিষেকের জন্যও খুশি। আজ ও রান পেয়েছে। বরাবর আমরা পাশাপাশি বসেছি। ফর্মে ফিরতে আসন অদল-বদলও করেছি। ভাবছিলাম, কী হচ্ছে এ সব? কিছুই তো কাজে লাগছে না। অবশেষে ট্রফিটা জিততে পারলাম। তাই বাকি সব কিছু ধুয়েমুছে গিয়েছে।”

দু’জনের আড্ডার মাঝেই অর্শদীপ সিংহ হাজির হয়েছিলেন। তাঁকে কিছু ক্ষণ পরে ধরেন সঞ্চালক হর্ষ ভোগলে। প্রথমেই প্রশ্ন করেন, কোথায় চলে গিয়েছিলেন অর্শদীপ? মজা করে ভারতীয় বোলারের উত্তর, “আসলে মিচেলের কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে গিয়েছিলাম। আমার থ্রো কিছুটা রিভার্স সুইং হয়ে ওর গায়ে লেগেছে। তাই ওকে বললাম ইচ্ছা করে ওর গায়ে মারিনি।”

অর্শদীপ আরও বলেন, “এখনই বোঝাতে পারব না কতটা আবেগপ্রবণ হয়েছি। দু’-তিনটে দিন গেলে বোঝা যাবে আসলে কী করে ফেলেছি আমরা। এটুকুই বলব, এই দলটা অসাধারণ। এতগুলো ম্যাচ জেতানো ক্রিকেটার রয়েছে। শুরু থেকেই বিশ্বাস ছিল যে আমরা ভাল খেলতে পারব। ট্রফি জেতাটা কেকের উপর চেরির মতো।”

যে ম্যাচে দল ২৫০ রান তুলেছে সেই ম্যাচে বোলারদের কী করার থাকে? অর্শদীপের জবাব, “আমাদের কাজ থাকে বিপক্ষকে ২৫০-র কমে আটকে রাখা। যা রান করব তার থেকে কমে বিপক্ষকে শেষ করতে হবে। এটাই আমাদের আসল ভূমিকা। প্রথম বল করলে যতটা কম সম্ভব রানে আটকে রাখতে চাই, যাতে ব্যাটারেরা খোলা মনে খেলতে পারি।”

সমাজমাধ্যমে রিল করতে ভালবাসেন অর্শদীপ। কিছু ভেবেছেন? অর্শদীপের উত্তর, “এখন তো ফোনটা উপরে রয়েছে। ১০-১৫টা রিল ভাবা আছে। দেখা যাক ক’টা হয়।”

ফাইনালে যাঁর জন্য ভারতের রান ২৫০ পেরিয়েছে, সেই শিবম দুবে বলেছেন, “আমি সব সময় ক্রিজ়‌ে নেমে বড় ছয় হাঁকাতে চাই। ওটাই আমার আসল কাজ। সব সময় নিজের উপরে বিশ্বাস রাখি। এটুকু মনে রাখি, সুযোগ পেলেই ছয় মারব।”

India Vs New Zealand Abhishek Sharma Varun Chakravarthy Arshdeep Singh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy