আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে এ বারের বিশ্বকাপের প্রথম অঘটন ঘটিয়েছিল সৌদি আরব। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেটা করতে পারল না তারা। গোটা ম্যাচে লড়াই করল সৌদি। গোলের অনেক সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারলেন না আলশেহরিরা। উল্টোদিকে প্রথমার্ধে জিয়েলিনস্কি ও দ্বিতীয়ার্ধে লেয়নডস্কি গোল করলেন। ২-০ ম্যাচ জিতে গ্রুপ সি-র শীর্ষে পৌঁছে গেল পোল্যান্ড।
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জিতে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে নেমেছিল সৌদি আরব। প্রথম থেকে তাদের খেলা দেখে সেটা মনে হচ্ছিল। আক্রমণ বেশি করছিল সৌদি। তাদের আটকাতে শুরু থেকে কিছুটা কড়া ফুটবল খেলা শুরু করে পোল্যান্ড। প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যেই তাদের তিন ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখেন।
ধীরে ধীরে খেলায় ফেরার চেষ্টা করে পোল্যান্ড। জিয়েলিনস্কি, লেয়নডস্কিদের পায়ে আক্রমণ তুলে আনতে থাকে তারা। আক্রমণ, প্রতি-আক্রমণের খেলা চলতে থাকে। গোলের কাছে পৌঁছে গেলেও গোলের মুখ খুলতে পারছিল না দু’দল। অবশেষে ৪০ মিনিটের মাথায় প্রতি-আক্রমণ থেকে প্রথম গোল করে পোল্যান্ড। আক্রমণ শুরু হয় দলের গোলরক্ষক শেজিনির পা থেকে। তাঁর কাছ থেকে বল পান ম্যাটি ক্যাশ। তিনি বল বাড়ান লেয়নডস্কির দিকে। তিনি গোল করতে না পারলেও বক্সের মধ্যে থাকা জিয়েলিনস্কির দিকে বল দেন। ডান পায়ের শটে গোল করেন জিয়েলিনস্কি।
আরও পড়ুন:
প্রথমার্ধে সমতা ফেরাতে পারত সৌদি। দলের স্ট্রাইকার আলশেহরিকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন বিয়েলিক। ভার প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি দেন রেফারি। আলদাওশারির দুর্বল শট বাঁচিয়ে দেন শেজিনি। ফিরতি বলে গোল করার সুযোগ ছিল মহম্মদ আরব্রিকের কাছে। তাঁর শটও বাঁচান শেজিনি। ফলে পিছিয়েই বিরতিতে যায় সৌদি আরব।
দ্বিতীয়ার্ধে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করে সৌদি। তার ফলে মাঝেমধ্যেই গোলের কাছে পৌঁছে যাচ্ছিল তারা। কিন্তু দিনটা ছিল না সৌদি স্ট্রাইকারদের। ফলে ছ’গজ দূর থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আলশেহরি। গোলের নীচে ভাল খেললেন পোল্যান্ডের গোলরক্ষক। কয়েকটি ভাল সেভ করেন তিনি। শেষ দিকে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন সৌদির ফুটবলাররা। তার ফলে প্রতিআক্রমণ থেকে সুযোগ পাচ্ছিল পোল্যান্ড।
৮২ মিনিটের মাথায় আলমালকির ভুলে বল পায় পোল্যান্ড। সৌদি গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল করতে কোনও ভুল করেননি লেয়নডস্কি। এ বারের বিশ্বকাপে প্রথম গোল করলেন তিনি। তার পরেও গোল শোধ করার চেষ্টা করে সৌদি আরব। কিন্তু পারেনি তারা। অন্য দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়ে তা নষ্ট করেন লেয়নডস্কি। তাতে অবশ্য ম্যাচ জিততে তাঁদের সমস্যা হয়নি।