কোনও ভুল হয়ে থাকলে এড়িয়ে যাবেন না। ভুলের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জনসংযোগের মাধ্যমে তা শোধরানোর চেষ্টা করুন।  লোকসভা ভোটের পরে একসঙ্গে দলের সব বিধায়কের মুখোমুখি হয়ে এই বার্তাই দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লোকসভা ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পরে দলে পর্যালোচনার সময় দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের আচার-আচরণ ও জনসংযোগের অভাব নিয়ে বহু অভিযোগ সামনে এসেছে। সেগুলির অধিকাংশই যে ভিত্তিহীন নয়, তারও নজির তৃণমূল নেত্রী পেয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আগামী বিধানসভা ভোটের আগে দলকে ‘সংশোধন’ করার এই নির্দেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত। ভোট-কুশলী প্রশান্ত কিশোর ইতিমধ্যেই  মমতার সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। তৃণমূলকে তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনের বৈঠকে মমতার এই নির্দেশের পিছনে সেই সব পরামর্শও কাজ করছে বলে অনুমান। প্রশান্ত এ দিন বৈঠক চলাকালীন ভবনে থাকলেও বৈঠকে ছিলেন না। এর আগে অবশ্য পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা বৈঠকে তিনি আগাগোড়াই হাজির ছিলেন।

এ দিনের বৈঠকে অন্যতম অনুপস্থিতি সব্যসাচী দত্তের। আর প্রত্যাশিত ভাবেই এ বারেও অনুপস্থিত শোভন চট্টোপাধ্যায়। পার্থ চট্টোপাধ্যায় ব্যস্ত ছিলেন বিধানসভায়। পরিষদীয় দায়িত্ব সেরে বৈঠকে পৌঁছনোর আগেই তা শেষ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, দলের বিধায়কদের বৈঠকে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত, স্পিকার পদটি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে বলে গণ্য করা হয়। তবে বিমানবাবুর মতে, তিনি দল থেকে নির্বাচিত বিধায়ক। তাই সেই পদাধিকারে তিনি বিধায়কদের বৈঠকে যেতেই পারেন। পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থবাবুরও যুক্তি, ‘‘এ দেশে তো স্পিকার পদের জন্য নির্দল হয়ে কেউ লড়েন না। দলীয় বিধায়ক হিসেবেই স্পিকারকে নিজের কেন্দ্রে যেতে হয়। ফলে দলের প্রতি দায়বদ্ধতায় দলের বৈঠকে স্পিকার যেতেই পারেন।’’

বিধায়কদের অনেকের আচার-আচরণ, বিলাসী জীবনযাপন যে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার অন্যতম কারণ, তা বুঝিয়ে এ দিন মমতা বলেছেন, সাধারণভাবে মানুষের সঙ্গে মিশতে। বিধায়কদের সহজ-সাধারণ জীবনযাপন করতে। বিধায়কদের অনেকের ঔদ্ধত্য যে ‘নেতিবাচক’ বার্তা গিয়েছে, তাও সংশোধনের চেষ্টা করতে পরামর্শ দিয়েছেন মমতা। মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনে তা দ্রুত প্রতিকারের চেষ্টা করতেও বলেছেন তৃণমূল নেত্রী। বিধায়কদের নিজের এলাকায় ঘনঘন যেতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এমনকী, জেলা থেকে যাঁরা মন্ত্রী, তাঁদেরও প্রতি সপ্তাহে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার ও তা মেটানোর জন্য সময় বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। এলাকায় না গিয়ে কলকাতায় এসে সময় নষ্ট না করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। এলাকায় কোনও সমস্যা নিজে মেটাতে না পারলে তা দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জানাতে বলেন। দলের অজান্তে বিধায়কদের রাজ্য বা দেশের বাইরে না যেতেও বলে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

কোনও ঘটনা বা বিষয় নিয়ে দলের তরফে বক্তব্যে ‘বিভ্রান্তি’ যাতে না হয়, সে ব্যাপারেও তিনি বিধায়কদের সতর্ক করে দেন। দলের তরফে মুখপাত্ররা ছাড়া আর কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য যাতে না করেন, তা খেয়াল রাখতে বলেছেন মমতা।

প্রত্যেক বিধানসভা এলাকায় সমন্বয় বাড়াতে এখন থেকে চার জনের উপর দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার কথা বলেছেন মমতা। ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে প্রত্যেক বিধায়ককে চার জনের নাম পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ অনুযায়ী তরুণদের আরও বেশি করে দলের কাজে টানতে এই পথ নেওয়া হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। চার জনের এক জন দেখবেন সোশ্যাল মিডিয়া। একজন ভোটার তালিকার কাজ করবেন। অন্য দু’জন সংশ্লিষ্ট বিধায়কের সঙ্গে বুথভিত্তিক সমন্বয় রাখবেন।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।