জট কাটিয়ে রফাসূত্র বার করতে এ বার আসরে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)-এর সর্বভারতীয় সভাপতি তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন। এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে শনিবার সকালে জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বললেন তিনি। প্রস্তাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিকেল ৫টায় গিয়ে দেখা করার। যদিও জুনিয়র চিকিৎসকরা জিবি বৈঠক করেই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তাঁকে জানিয়ে দেন।  

শুক্রবার রাতেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া বৈঠকের প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। তাঁরা পাল্টা দাবি করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে এনআরএসে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। পাশাপাশি এসএসকেএম হাসপাতালে করা তাঁর মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের পাঁচ প্রবীণ এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে অচলাবস্থা কাটাতে যে সামান্য আলোর রেখা তৈরি করেন, মুহূর্তে তা নিভে গিয়েছিল আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থানে। এ দিন সেই বার্তাই ফের নিয়ে গিয়েছিলেন আইএমএ সভাপতি।

জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বাইরে এসে বলেন, ‘‘এমন অচলাবস্থা চলতে পারে না। জুনিয়র চিকিৎসকদের অনুরোধ করেছি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে। আলোচনা করলে নিশ্চয়ই সমাধান সূত্র বেরোবে। মুখ্যমন্ত্রী সময় দিয়েছেন।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে যে দাবি ছিল, তা ইতিমধ্যেই মেটানো হয়েছে।’’

আরও পড়ুন: পাড়ার ‘বখাটে’দের নিয়ে ভবিষ্যতের লড়াইয়ে নামতে চান মমতা

গত বৃহস্পতিবার এসএসকেএম-এ গিয়ে আন্দোলনকারীদের একাংশকে ‘আউট সাইডার’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এ দিন সে কথাই ফের শোনা গিয়েছে শান্তনুর মুখে। তিনি বলেন, ‘‘বাইরে থেকে বেশ কিছু মানুষ, যাঁরা স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নন, এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে জোর করে ঝামেলাটা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁদের কাছে অনুরোধ, দয়া করে জুনিয়র ডাক্তারদের আবেগ নিয়ে খেলবেন না।’’ এর পরেই শান্তনু অভিযোগ করেন, জুনিয়র চিকিৎসকদের জিবি বৈঠকেও বেশ কয়েক জনকে তিনি দেখেছেন যাঁরা স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর কথায়, ‘‘দয়া করে ঝামেলা জিইয়ে না রেখে ওঁদের সৎ পরামর্শ দিন। সাধারণ মানুষকে বাদ দিয়ে চিকিৎসক সমাজ নয়। অন্য দিকে সাধারণ মানুষেরও চিকিৎসকদের সম্মান করা উচিত।’’

আরও পড়ুন: আহত পরিবহকে দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও মত পাল্টালেন মমতা! গেলেন চন্দ্রিমা ও স্বাস্থ্যসচিব

স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আন্দোলনকারীরা গত কয়েক দিন ধরেই অনড় অবস্থান দেখানোর পরও পিছিয়ে আসেননি রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তারা। তাঁরা দ্বিমুখী প্রচেষ্টায় আলোচনার রাস্তা খোলার চেষ্টা করেন। এক দিকে স্বাস্থ্য কর্তারা শহরের কিছু বিশিষ্ট চিকিৎসকের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের কাছে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন নবান্নে আলোচনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার। অন্য দিকে স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ নিজেরাও সরাসরি যোগাযোগ রাখা শুরু করেন আন্দোলনকারীদের একাংশের সঙ্গে।

শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া চলার পর আন্দোলনকারীরা শনিবার আইএমএ-র সর্বভারতীয় সভাপতি শান্তনু সেন এবং সংগঠনের রাজ্য শাখার সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করতে সম্মত হন। এ দিন বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ এনআরএসের প্রশাসনিক ভবনের একতলার অডিটোরিয়ামে শান্তনু সেন-সহ আইএমএ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিনিধিরা। সেখানে এনআরএস ছাড়াও শহরের অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিরা ছিলেন। ছিলেন বিভিন্ন জেলার মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে যোগ দেন এনআরএসের পদত্যাগী সুপার শৈবাল মুখোপাধ্যায়।

যদিও ওই জিবি বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীরা শান্তনু সেনের করা এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের দাবি, ওই বৈঠকে কোনও ‘বহিরাগত’ ছিলেন না। সকলেই কোনও না কোনও মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসক।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।