• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘মাথায় একটা বাড়ি পড়েছে, তাতেই এত কথা, এত রাজনীতি!’

Mamata Banerjee and Aishe Ghosh
ঐশী ঘোষের নাম না করে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।—ছবি পিটিআই।

Advertisement

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভানেত্রীর মাথায় আঘাতের ঘটনা নিয়ে সিপিএম রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ঐশী ঘোষের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘‘মাথায় একটা বাড়ি পড়েছে, তাতেই এত কথা, এত রাজনীতি!’’

নিজের শহর দুর্গাপুরে দু’দিন আগে মিছিল করার অনুমতি পাননি ঐশী ও তাঁর সতীর্থেরা। তাঁর সভা ছিল বলে বৃহস্পতিবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের দুই ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিধানসভায় শুক্রবার রাজ্যপালের ভাষণের উপরে বিতর্কে অংশগ্রহণ করে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী ঐশীকে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ‘‘আরএসএসের দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করেছে। তার পরেও লড়াইয়ের ময়দানে এসে দাঁড়িয়েছে মেয়েটি। বাংলার গর্ব ও!’’ জবাবি বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা বলেন, ‘‘দিল্লি থেকে কে এসেছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন সভা করতে পারেনি, তা-ই নিয়ে এত কথা! যখন বলেন, আপনারা সব ভুলে যান! মনে আছে, হাজরা মোড়ে সিপিএম মেরে আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। আমি ৩৪ বছরে অনেক কিছু দেখে নিয়েছি।’’ বাংলায় এখন যে কোনও দল যেমন খুশি সভা-মিছিল করতে পারে এবং অন্য রাজের তুলনায় এখানে গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী যখন তাঁকে কটাক্ষ করছেন, ঐশী তখন হাওড়ার শিবপুরে এসএফআইয়ের মিছিলে ছিলেন। জেএনএউএসএউ-এর সভানেত্রী বলেন, ‘‘এখানকার রাজ্য সরকার বলছে, তাঁরা সিএএ-র বিরুদ্ধে। কিন্তু এ রাজ্যেই আবার যখন কোনও রাজনৈতিক দল এই আইনের বিরুদ্ধে নিজেদের লড়াইটা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে, তখন কোথাও কোথাও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বা বাধা দেওয়া হচ্ছে। সিএএ-র বিরুদ্ধে যে সব দল আন্দোলন করছে, তাদের কর্মসূচিকে আটকে দেওয়ার অর্থ বিজেপি বা আরএসএসকে সুযোগ করে দেওয়া!’’ পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সভা করতে গিয়েও বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে ঐশীর মন্তব্য, ‘‘যদি ৩৪ বছরে মত প্রকাশের স্বাধীনতাই না থাকত, তা হলে তৃণমূল ক্ষমতায় এল কী করে?’’

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে পাল্টা মুখ খুলেছেন সুজনবাবুরাও। তাঁদের বক্তব্য, আরএসএস যাকে তাড়া করে মারছে, দিল্লি পুলিশ অপরাধীদের ধরছে না, সেখানে এ রাজ্যের সরকারের ভূমিকা বিজেপিরই সমতুল। সুজনবাবুর কথায়, ‘‘নিজের মাথা ফাটার ঘটনার রাজনৈতিক ফায়দা মুখ্যমন্ত্রী তোলেননি? সরকার এফআইআর করেছিল, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল, তাঁর রাজনৈতিক সংস্রবও ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সেই ঘটনার বিচারে সাক্ষ্য দিতে যাননি কেন? অভিযুক্তের পরিবারের এক জন তৃণমূল, এক জন এখন বিজেপি!’’

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন