এ যেন গয়না পাচারে ‘স্লিপার সেল’! সরাসরি সোনার দোকানে ডাকাতি নয়, বরং উল্টো পথে হেঁটে সোনার গয়না হাতিয়ে নিত পাচার চক্র। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কারিগরকে সোনার দোকানে কাজে লাগিয়ে মূল্যবান সোনা অথবা হিরের গয়না গায়েব করা হত। কারিগরের গোবেচারা হাবভাব, গয়না তৈরির চৌখস হাত এবং সাজপোশাক দেখে কোনও ভাবেই সন্দেহ করতেন না মালিক। সেই সুযোগ নিয়েই ওই কারিগররা হাতিয়ে নিত গয়না। জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলের সদস্যদের মতোই বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই কারিগরেরাও অন্য কর্মচারীদের সঙ্গে মিশে থাকত।

সম্প্রতি গিরিশ পার্কের একটি দোকানের সোনার গয়না চুরির তদন্তে নেমে গোটা ঘটনাটি জানতে পারেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। চক্রের মাথা ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। ধৃতের নাম মান্নান শেখ। কলকাতা থেকে মুম্বইয়ের জাভেরি বাজারে হাতিয়ে নেওয়া গয়নাগুলি পাচার করত সে। যারা এ ভাবে গয়না চুরি করতে পারত, প্রতি চুরির জন্য তাদের ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হত।

মূল অভিযুক্ত মান্নান শেখের বাড়ি হুগলির বলাগড়ে। গিরিশ পার্কের দোকান থেকে চুরি হওয়া সোনার গয়নাটি মাটি চাপা দিয়ে লুকানো ছিল। বুধবার বলাগড়ে গিয়ে গোয়েন্দারা মাটি খুঁড়ে তা উদ্ধার করেন। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান মুরলিধর শর্মা বলেন, “৯৭টি হিরেখচিত ওই সোনার গয়নাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আর কে কে জড়়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

 

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত মান্নান শেখকে দমদম বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুম্বইয়ে  পালানোর চেষ্টা করছিল সে। গিরিশ পার্ক থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন দোকানের মালিক প্রশান্ত মাল। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৮, ১২০বি  ধারায় মামলা রুজু করে মান্নানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এই চক্রের জাল কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছে, ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যরা আর কোথায় কোথায় কাজ করছে, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা। কলকাতায় চক্রের মাথা মান্নান শেখ হিরে ও সোনার গয়না কেনাবেচার কাজ করে বলে জানা গিয়েছে। সে কারণে, কোন দোকানে কর্মচারীর প্রয়োজন, তা আগে থেকেই খবর পেয়ে যেত মান্নান। সে ভাবেই মান্নানের লোক পৌঁছে গিয়েছিল গিরিশ পার্কের ওই সোনার দোকানে।