কপালে ভাঁজ, ঘুম ছুটেছে কোচবিহারে
রবীন্দ্রনাথের কথায়, “দুই লক্ষের বেশ ভোটে জিতব আমরা। সমীক্ষার রিপোর্ট পুরোপুরি ভুল। ২৩ মে তা প্রমাণিত হবে।”
vote

পার্টি অফিসের ভিতরে কয়েক জন কর্মী বসে। উসকোখুসকো চুল। কপালের ভাঁজ স্পষ্ট। চুপ করে রয়েছেন সকলে। নেতাদের বাড়িতেও সকাল থেকে আনাগোনা কর্মীদের। কখনও জোর গলায় নেতা চিৎকার করছেন, “কিসের ভয়। বাড়ি গিয়ে আবির খেলার প্রস্তুতি কর।” আবার খানিক পরে নিজেই গিয়ে শুয়ে পরছেন বিছানায়। কেউ কেউ ‘হরি’ নাম জপছেন।

রবিবার শেষ দফার ভোট হওয়ার পরেই বুথ ফেরত সমীক্ষা শুরু হয়। বুথ ফেরত সমীক্ষা অবশ্য সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য নয়। অনেক সময় দেখা যায়, এই সমীক্ষা একেবারেই মেলেনি। আবার কখনও মেলেও। অনেক নেতারই বক্তব্য, এই সমীক্ষা প্রকাশের পরে তাই চিন্তায় পড়েছেন।

চিন্তার প্রধান কারণ, প্রত্যেক প্রার্থী এবং তাঁর দল ভোটের পরে নিজেদের মতো করে একটা হিসেব তৈরি করে। যেমন, কোন এলাকায় নিজেদের শক্তি কত আর সেখানে কত ভোট পড়েছে তা ধরে অনেকেই ভোটে কেমন ফল হবে, তার হিসেব কষেন। সেই হিসেব আর সমীক্ষার হিসেব মিলছে কি না, তা নিয়েই ধন্দে পড়েছেন অনেকে। সমীক্ষায় যে দলকে যে কেন্দ্রে সম্ভাব্য জয়ী বলে ধরা হয়েছে, সেই কেন্দ্রে সেই দলের কোনও কোনও নেতাই খানিকটা অবাক হয়ে গিয়েছেন। তাই এই সমীক্ষার উপরে নির্ভর করে আনন্দ প্রকাশ করবেন কি না, তা নিয়েও ধন্দ কাটেনি। উত্তরের এক বিজেপি নেতা যেমন বলেন, ‘‘আগেভাগেই কোনও উল্লাস দেখাতে বারণ করা হয়েছে কর্মীদের। ২৩ মে-ই সব ফল তো জানা যাবে। তার পরে উচ্ছ্বাস দেখালে আপত্তি নেই।’’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

কোচবিহারে বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক জিততে পারেন বলে একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে। কোচবিহার শহরে তাঁর ভাড়া বাড়ি রয়েছে। সোমবার সকালে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তৃণমূলের একাধিক কর্মী ঘুরঘুর করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁদেরই একজন বললেন, “যা অবস্থা তাতে আর ভরসা পাচ্ছি না। তাই বিজেপির সঙ্গেই থাকা ভাল মনে করছি। তাই একবার দেখা করতে এলাম।” আর এক জনের কথায়, “আমার সঙ্গে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল বিজেপি প্রার্থীর।” এ দিন সকালে উঠেই তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ শিলিগুড়ি চলে যান। তাঁর বাড়িতে অবশ্য তৃণমূল কর্মীদের আনাগোনা লেগেই ছিল। আতঙ্কিত মুখ নিয়ে ঘোরাফেরা করছিলেন এক-দু’জন। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য নেতা-কর্মীদের জিজ্ঞেস করছিলেন, “তোদের হিসেব কী বলছে? সমীক্ষা মিলবে? না অন্য রকম হবে?’’

সমীক্ষার ফল দেখে তৃণমূলের অনেক নেতা সকাল থেকেই আবারও হিসেব নিয়ে বসেছেন। বার বার নিজেদের মতো করে হিসেব করছেন। ঠিক কোথায় খামতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলেন তাও। কিছুই যেন মিলছিল না।
তৃণমূলের কোচবিহার জেলা পার্টি অফিসের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক জন কর্মী দাঁড়িয়ে। ভতিরের বেশিরভাগ চেয়ার ফাঁকা। এক কর্মী বললেন, “কাল রাতে ঘুম হয়নি ঠিক মতো। সমীক্ষায় কেন এমন দেখাচ্ছে বলুন তো! আমাদের হিসেব মতো আমরাই জিতছি।”

রবীন্দ্রনাথের কথায়, “দুই লক্ষের বেশ ভোটে জিতব আমরা। সমীক্ষার রিপোর্ট পুরোপুরি ভুল। ২৩ মে তা প্রমাণিত হবে।” জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তৃণমূল প্রার্থী পরেশ অধিকারী। এদিন তিনি মেখলিগঞ্জের বাড়িতেই ছিলেন।  সেখানেই কর্মীদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। তাঁর কথায়, “সমীক্ষা নিয়ে ভাবছি না।” তবে বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি মালতী রাভা বলেন, “এবারের সমীক্ষা মানুষ করেছেন। মানুষ জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি জিতবেই।’’

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত