উত্তরবঙ্গে পা দিয়েই এনআরসি-র প্রসঙ্গ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিজয়া সম্মিলনীর দিন এই নিয়ে আম-নাগরিকদের অভয় দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় উত্তরের তিন জেলার পর্যালোচনা বৈঠকে সরকারি আধিকারিকদেরও ‘রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে’ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, “এ রাজ্যে এনআরসি করার কোনও পরিকল্পনা নেই।” ভোটার তালিকায় যাতে অকারণে নাম বাদ দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে বারেবারে সর্তক করে তাঁর নির্দেশ, “যাঁরা বাংলায় থাকেন, তাঁদের এক জনের নামও যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়।” তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘‘এই রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প (অনাগরিক শিবির) হচ্ছে না।’’

অসমে সম্প্রতি এনআরসি তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। অনেকের দাবি, তালিকায় ওঠেনি প্রচুর হিন্দুর নাম। এঁদের কারও বাবার বাড়ি কোচবিহারে, কারও স্বজনেরা থাকেন জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুরে। ফলে উত্তর জুড়েই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অভিযোগ, সেই আতঙ্কে মৃতের সংখ্যা দশ ছাড়িয়েছে। 

তৃণমূল নেতাদের দাবি, এনআরসি নিয়ে জেলাস্তরের আধিকারিকদের অনেকের স্পষ্ট ধারণা নেই। তাই সাধারণ বাসিন্দাদের প্রশ্নের জবাব তাঁরাই সঠিক দিতে পারছেন না। বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাই মঙ্গলবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, “সরকারি বৈঠকে দায়িত্ব নিয়ে বলছি। সব আধিকারিক আছেন। এখানে এনআরসি করার পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমি যখন বলছি, মনে রাখবেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বলছি।”

এ দিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ভোটার তালিকা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। বুথস্তরে ভোটার তালিকায় কাজ করা বিএলওদের বেশিরভাগই অফিসে বসছেন না বলে জানিয়ে দেন ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কাছে খবর, বহু ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই না করেই নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। আবেদনকারীর কাছে প্রচুর নথি চাওয়া হচ্ছে বলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এমন হলে সেই আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। বলেন, ‘‘যাঁরা বাংলায় থাকেন, তাঁদের কারও নাম যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়।’’

এ বারে উত্তরবঙ্গে পা দেওয়া ইস্তক কেন এনআরসি নিয়ে জোর দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী? তৃণমূল সূত্রে বলা হচ্ছে, লোকসভা ভোটে যে ভাবে এনআরসি বিষয়টি তুলে এনেছিল বিজেপি, এ বারে তারই জবাব দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তাঁর এ দিনের কথার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি নেতা রাহুল সিংহ বলেন, ‘‘এনআরসি হবে কিনা, তা ঠিক করবে কেন্দ্র। খুব শীঘ্রই নাগরিকত্ব বিল পাশ হবে সংসদে। তার পরে এই রাজ্যে এনআরসি হবে।’’