ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানোর নেপথ্যে অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই গোটা দেশ মেতে উঠেছিল তাঁকে নিয়ে। বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটদলের সেই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রিচা ঘোষের নামও ‘বিচারাধীন’ তালিকায়। শনিবার এসআইআরের প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শুধু রিচা নন, রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুল হোসেনের নামও রয়েছে সেই একই তালিকায়।
শনিবার প্রকাশিত প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকায় ‘ক্যাটেগরি’ আকারে ভোটারদের চিহ্নিত করেছে কমিশন। যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘ডিলিটেড’ লেখা হয়েছে। যোগ্য ভোটারদের ‘অ্যাপ্রুভড’ করা হয়েছে। এ ছাড়া, নাম রয়েছে, অথচ নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তি হয়নি, ওই ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের তালিকায় লেখা ‘বিচারাধীন’। সেই তালিকায় রিচার নাম দেখে হতবাক তাঁর পরিবার।
শিলিগুড়ি পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিচা৷ বিশ্বকাপ জয়ের পর তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। সংবর্ধনায় ভরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। রাজ্য সরকারে তরফে রিচাকে ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানও প্রদান করা হয়। রিচাকে রাজ্য পুলিশে ডিএসপি পদে চাকরিও দেওয়া হয়েছে। সেই রিচার নাম ‘বিচারাধীন’ বিভাগে রয়েছে। তাঁর বাবা মানবেন্দ্র ঘোষের কথায়, ‘‘বছরের বেশির ভাগ সময়ই রাজ্যের বা দেশের বাইরে থাকে রিচা৷ এসআইআর চলাকালীন তার নামে শুনানির নোটিস জারি হয়েছিল। বিএলও সেই শুনানির নোটিস দিয়ে যান বাড়িতে।’’ রিচার বাবার দাবি, এসআইআর নোটিস পাওয়ার পর সব নথি অনলাইনে জমা করা হয়। কিন্তু তার পরেও কোনও সুরাহা মিলল না, আক্ষেপ মানবেন্দ্রের।
আরও পড়ুন:
শুধু রিচা নন, তাঁর দিদি সোমশ্রী ঘোষের নামও রয়েছে ‘বিচারাধীন’ তালিকায়। কী ভাবে একজন বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারের নাম এই তালিকায় থাকল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল-সিপিএম। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বামনেত্রী মৌসুমী হাজরা রিচার বাড়ি যান। তাঁর কথায়, ‘‘এটা লজ্জাজনক। যে রিচা গোটা ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছেন, তাঁর নামই বিচারাধীন। তা হলে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা এক বার ভাবুন।’’ গাফিলতির অভিযোগ তুলে সোমবার এসডিও অফিস অভিযানের ডাক দিয়েছেন স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব।
শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের উপর। তাঁর কথায়, ‘‘রিচা শুধু শিলিগুড়ির নয়, ভারতের গর্ব। এটা নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালিপনা। মহান নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার নিন্দা করি।’’
অন্য দিকে, ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাজ্যের মন্ত্রী তথা হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তাজমুলের নাম থাকাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তাঁর দাবি, গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এসআইআরের নোটিস পেয়েছিলেন তিনি। সেই নোটিস হাতে পাওয়ার পরে লাইনে দাঁড়িয়ে সব নথি জমা করেন। তার পরেও ‘বিচারাধীন’ তালিকায় নাম থাকায় অবাক হয়েছেন তাজমুল।