সকাল থেকেই জল্পনা তুঙ্গে ছিল যে, সুপ্রিম কোর্ট থেকেই আগাম জামিনের আবেদন জানাবেন আইপিএস রাজীব কুমার। কিন্তু সারা দিন কেটে গেলেও কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের আবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়ল না।

সরকারি সূত্রের খবর, রাজ্যের আদালতে যে হেতু আইনজীবীদের ধর্মঘট চলছে, সে হেতু কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করতে হলে রাজীবকে নিজেকেই বিচারপতিদের সামনে হাজির হয়ে সওয়াল করতে হবে। তাতে ঝুঁকি রয়েছে। তাই সুপ্রিম কোর্ট থেকেই সরাসরি আগাম জামিন নেওয়া ভাল বলে স্থির হয়। সেই অনুযায়ী রাজীবের পিটিশনের খসড়াও তৈরি হয়েছে। তা হলে সেই পিটিশন জমা পড়ল না কেন? সূত্রের খবর, রাজীব নিজেই এখনও এ বিষয়ে মনস্থির করতে পারেননি। তিনি আইনজীবীদের অপেক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। কলকাতা হাইকোর্টে গিয়ে আর্জি জানাতে হলে তাঁকে নির্বাচন কমিশনের থেকে ছুটি নিতে হবে। কারণ কমিশন তাঁকে সিআইডি থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে বদলি করেছে। কিন্তু এখনও ছুটি পাননি তিনি।

ওয়াকিবহাল মহল অবশ্য মনে করছে, রাজীব সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলে আগাম জামিন পেয়ে যেতে পারেন। কারণ রাজ্যে আইনজীবীদের ধর্মঘটের জন্য সুপ্রিম কোর্ট আগেই কলকাতার মামলায় অভিযুক্তদের আগাম জামিন দিয়েছে। ধর্মঘট ওঠা না পর্যন্ত গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। বুধবার আইনজীবীদের ধর্মঘটের জন্য ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহও সুপ্রিম কোর্ট থেকে গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদায় করে নিয়েছেন।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

সুপ্রিম কোর্ট রাজীবের গ্রেফতারি থেকে রক্ষাকবচ তুলে নিলেও তাঁকে আগাম জামিনের আবেদন করার জন্য সাত দিন সময় দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্যে আইনজীবীদের ধর্মঘট চলছে বলে রাজীব সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছিলেন, ওই রায় সংশোধন করে ধর্মঘট ওঠার পরে সাত দিনের সময় দেওয়া হোক। কিন্তু প্রধান বিচারপতি রায় সংশোধনের জন্য তিন বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করে শুনানিতে রাজি হননি। ফলে শুক্রবারের মধ্যেই হয় হাইকোর্টে, না হলে সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানাতে হবে রাজীবকে। কারণ ২৪ মে পর্যন্ত তাঁর সাত দিনের রক্ষাকবচ রয়েছে।