সুপ্রিম কোর্টে তিরস্কৃত আলিগড়ের বিজেপি যুব মোর্চা নেতা যোগেশ ভার্সনে। হনুমান জয়ন্তীতে অস্ত্র মিছিলের প্রতিবাদ জানানোয় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা কেটে নেওয়ার ফতোয়া দিয়েছিলেন তিনি। মামলা মোকদ্দমার মুখে পড়ে আবার শাস্তি রদের আর্জিও জানিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে শীর্ষ আদালত বলে,  ‘মাথা কাটার হুমকি দেওয়ার সাহস যখন রয়েছে, আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখিও হতে হবে।’

এ দিন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি দীপক গুপ্ত এবং সঞ্জীব খন্নার ডিভিশন বেঞ্চে যোগেশ ভার্সনের আবেদনটির শুনানি শুরু হলে, তাঁর আইনজীবীকে তিরস্কার করে বিচারপতি দীপক গুপ্ত বলেন, ‘‘হুমকি দেওয়ার সাহস যখন রয়েছে, তখন আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখিও হতে হবে।’’ বিচারপতি গুপ্ত আরও বলেন, ‘‘একজন সাংবিধানিক পদাধিকারী ব্যক্তিকে হুমকি দিয়েছেন আপনি। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছেন। এর পরেও আমাদের কাছে সাহায্য চাইতে এসেছেন। এই ধরনের মানুষের আবেদনের শুনানি করি না আমরা।’’

তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআরকে একটি আদালতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ারও আর্জিও জানিয়েছিলেন যোগেশ ভার্সনে। সেটিও খারিজ করে দেন বিচারপতিরা।  এ ব্যাপারে তাঁর আইনজীবীর বক্তব্যও শুনতে রাজি হননি তাঁরা।

আরও পড়ুন: রাফাল নিয়ে কংগ্রেসের রোষে ভাই, তাদের হয়েই ভোট চাইলেন মুকেশ!​

আরও পড়ুন: কোন নিয়মে বরখাস্ত ওড়িশার আইএএস অফিসার? মোদীর কপ্টারে তল্লাশি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন​

২০১৭ সালের এপ্রিলে হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে বীরভূমে অস্ত্র হাতে নিয়ে মিছিল বার করে গেরুয়া বাহিনী। প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে মিছিল করায় পুলিশ বাধা দেয়। তাদের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। অস্ত্র হাতে মিছিল করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিজেপি ও সঙ্ঘ। সেই সময়ই মমতার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেন  যোগেশ ভার্সনে।  মমতার মাথা কেটে আনতে পারলে ১১ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেবেন বলে ঘোষণা করেন। যার পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়। সংসদেও বিষয়টি ওঠে।