ফের এক তৃণমূল নেতাকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। গুলিতে নাজিমুল শেখ নামে বহরমপুর লাগোয়া নিয়াল্লিশ পাড়ার এক যুব তৃণমূল নেতার মৃত্যু হয়েছে। নাজিমুল বহরমপুর লাগোয়া নিয়াল্লিশ পাড়া-গোয়ালজান পঞ্চায়েতের মুসুরিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ নদী ঘাটের দিকে যাওয়ার সময়ই ওই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় নাজিবুল স্কুটি চালাচ্ছিলেন। তখন কাছ থেকে এক দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। স্কুটি থেকে নাজিমুল পড়ে যান। তার পর ওই দুষ্কৃতী কাছ থেকে আরও তিন রাউন্ড গুলি চালায় তাঁকে লক্ষ্য করে। গুলির শব্দে স্থানীয়েরা চলে এলে চম্পট দেয় সে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই নাজিবুলকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু নাজিমুলকে বাঁচানো যায়নি। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই দুষ্কৃতী কে, কেন নাজিমুলকে গুলি করল, তা এখনও জানতে পারেনি পুলিশ।

তবে নাজিমুলের পরিবার এবং স্থানীয়েরা এর পিছনে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। নাজিমুলের পরিবারের যেমন অভিযোগ, মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রাজীব হোসেনই তাঁকে খুন করিয়েছেন। কারণ, এত দিন রাজীবের ছায়াসঙ্গী ছিলেন নাজিমুল। কিন্তু বর্তমানে রাজীবের পরিবর্তে তাঁ ভাই সৌমিক হোসেনর সঙ্গে নাজিমুলের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছিল। সৌমিক বর্তমানে জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি তথা ডোমকলের পুরপ্রধান। রাজ্য যুব তৃণমূল নেতা সৌমিকের সঙ্গে নাজিমুলের ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে না পারাতেই রাজীব তাঁকে খুন করিয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

আরও পড়ুন: ফের তথ্যপ্রমাণ চেয়েও মোদীর কাছে ‘শান্তির সুযোগ’ চাইলেন ইমরান

আর স্থানীয়দের অভিযোগ, এই খুনের পিছনে সৌমিকেরই এক ছায়াসঙ্গীর হাত রয়েছে। যার নাম আনিকুল শেখ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সৌমিকের সঙ্গে নাজিমুলের ঘনিষ্ঠতা আনিকুল মানতে পারছিল না। দু’জনের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বও ছিল। নাজিমুলের পরিবার বা স্থানীয়েরা এই খুনের পিছনে তৃণমূলের অন্তর্কলহকে দায়ী করলেও তৃণমূল তা মানতে নারাজ। বরং তৃণমূল এর পিছনে বিজেপির ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। বিজেপি যদিও সে দায় অস্বীকার করেছে।

আরও পড়ুন: আত্মহত্যা সাজাতেই খুনের পর জ্বালিয়ে দেওয়া হয় প্রেমিকের দেহ!

চলতি মাসের মধ্যেই এই নিয়ে রাজ্যে তিন তৃণমূল নেতার উপর হামলার খবর প্রকাশ্যে এল। প্রথম শোনা যায়, সরস্বতী পুজোর সময় নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসকে একেবারে কাছ থেকে গুলি করে খুন করে এলাকারই এক যুবক। তার এক সপ্তাহের মধ্যেই বজবজ পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিঠুন টিকাদারের উপর প্রায় একই কায়দায় পার্টি অফিসে ঢুকে কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। হাঁসখালি বিধায়ক এবং বহরমপুরের যুব তৃণমূল নেতার মৃত্যু হলেও বজবজের কাউন্সিলর যদিও প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘দলের মধ্যে সমাজবিরোধী ঢুকে যায় এবং তারা কোনও পদ পেয়ে যায়, তাহলে এরকম হবেই। অন্যকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।’’