ছুটিতে পাঠানোর তিন দিনের মধ্যে নিখিল নির্মলকে বদলি করল রাজ্য সরকার। নির্বাচন কমিশনের অনুমতির চিঠি পাওয়ার পরেই আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসকের পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে পাঠানো হল জনজাতি উন্নয়ন সমবায় নিগমের ম্যানেডিং ডিরেক্টর (এমডি) পদে। তাঁর জায়গায় আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসকের পদে পাঠানো হচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরের অতিরিক্ত সচিব শুভাঞ্জন দাসকে। 

গত রবিবার বিকেল থেকে একটি ভিডিয়ো ‘ভাইরাল’ হয়। সেখানে দেখা গিয়েছে, নিখিল নির্মল ও তাঁর স্ত্রী নন্দিনী কৃষ্ণন মিলে বিনোদ সরকার নামে ফালাকাটার এক যুবককে মারধর করছেন। এই ভিডিয়োর সত্যতা আনন্দবাজার যাচাই করেনি। ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ার পরে নিখিলের বিরুদ্ধে আলিপুরদুয়ার জেলার সব স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। এই সংক্রান্ত মামলায় বিনোদকে গ্রেফতার করেছিল ফালাকাটা থানার পুলিশ। তাতে শেষ অবধি জামিন পেয়ে যান বিনোদ। তাঁর পরিবারকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় রাখার পরে পুলিশ সেই এফআইআর নিয়ে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করে। 

এই অবস্থায় প্রশাসনের একটি অংশের ধারণা হয়েছিল, ছুটির শেষে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন নিখিল। আলিপুরদুয়ারে যেখানে বিজেপির প্রভাব বাড়ছে, সেখানে শাসক-ঘনিষ্ঠ নিখিলের এ হেন কর্মকাণ্ড দলের পক্ষে সমস্যা তৈরি করতে পারে বলেই এই ধারণা হয়েছিল প্রশাসনের ওই অংশটির। কিন্তু এ দিনের বদলির পরে প্রবীণ আধিকারিকদের অনেকেই বলছেন, নিখিলের নতুন পদ মোটেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই নিগম প্রধানত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে নিয়ে জনজাতি এলাকাগুলিতে কাজ করে থাকে। জনজাতি উন্নয়নে এখন জোর দিয়েছে রাজ্য। একাধিক নতুন প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণের সঙ্গে আগের চালু থাকা কাজগুলিরও গতি বাড়িয়েছে। সেই দিক থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নিগমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। 

আলিপুরদুয়ারের চা বাগানগুলিতে তৃণমূলস্তরে সরকারি প্রকল্প পৌঁছে দেওয়ার কাজটাই বিশেষ ভাবে করতেন নিখিল। এখন এক অর্থে তাঁকে গোটা রাজ্যের জনজাতি উন্নয়নের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হল। ফলে সেই নিগমের এমডি হিসেবে নিখিলের বদলিকে মোটেই ‘শাস্তিমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে মানতে নারাজ প্রশাসনের অনেকেই। 

ফালাকাটার বিনোদ সরকার জেলাশাসকের বদলির খবর পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘ঘটনার শেষ দেখে ছাড়ব।’’