হাতে সময় সত্যিই কম।সামনেই পুজো। এই সময় থেকে যে বেড়ানোর শুরু তা চলতে থাকবে আগামী আরও কয়েক মাস।তাই কোথায়, কত দিনের জন্য যাবেন, তার প্ল্যান করে ফেলুন এখন থেকেই।নিশ্চয়ই ভাবছেন, যাওয়ার জায়গা তো অনেক আছে, কিন্তু যা খরচ তাতে পুজো আর পুজোর পরের সব সামলেবেড়ানোর বাজেট কুলোবে তো? সে কথা ভেবেই এখানে আপনাদের জন্য এমন কয়েকটি গন্তব্যের সন্ধান দেওয়া হল যেখানে আপনি হাজার দশেক টাকার মধ্যে ঘুরে আসতে পারেন। তবে এর মধ্যে যাতায়াতের খরচ ধরা হয়নি। সময় ও সামর্থ্য অনুসারে ভ্রমণার্থীরা ঠিক করবেন তাঁরা ট্রেনে, বাসে না বিমানে গন্তব্যে পৌঁছবেন।

চারখোল: পাহাড়ি গ্রামে থাকতে এবং সেখানকার মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে ঘুরে আসুন কালিম্পং থেকে কিছুটা দূরে চারখোলে। কলকাতা থেকে মাত্র ৬৩০ কিমি দূরে রয়েছে এই চারখোল। কাঞ্চনজঙ্ঘার সূর্যোদয়, কমলালেবু ও এলাচ গাছ এবং অসাধারণ পাহাড়ি পথআপনার মন ভরিয়ে দেবে। গ্রামবাসীদের ভালবাসা এবং আপ্যায়নে বারবার সেখানে যেতে ইচ্ছা হবে আপনার। দৈনিক১০০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে হোটেল এবং খাওয়াদাওয়া হয়ে যাবে আপনার। অনেকসময় অনলাইনে হোটেল বুকিং করলে ছাড়ও মেলে।

আরও পড়ুন: অপার নিস্তব্ধতায় মোড়া ভালবাসার চারখোল 

পাবং: চারখোল থেকে মাত্র চার কিমি দুরেই রয়েছে নির্জন পাহাড়ি গ্রামপাবং।হোমস্টে বা হোটেলে বসে চোখের সামনে রাঙাসূর্যাস্ত দেখতে মন বারবার ফিরে যেতে চাইবে সেখানে। ২-৩ দিনের ছুটি কাটানোর পক্ষে উপযুক্ত জায়গা হল পাবং।

মানেভঞ্জন: দার্জিলিং থেকে ২৮ কিমি উঁচুতে এই টাউনটি অবস্থিত। ট্রেকিং ভালবাসলে এই জায়গাটি আপনার জন্য আদর্শ। এই জায়গা থেকে সান্দাকফু যাওয়া যায়।‘স্লিপিং বুদ্ধ’-র মনোরম দৃশ্যেমুগ্ধ হতে ঘুরে আসুন মানেভঞ্জন।

আরও পড়ুন: পায়ে পায়ে সান্দাকফু

ইয়কসাম: জলপাইগুড়ি থেকে ৬-৭ ঘণ্টার পথ পেরিয়েপশ্চিম সিকিমের ইয়কসাম। এটি একটি ঐতিহাসিক শহর। ঘিঞ্জি শহুরে জায়গা থেকে দূরে নির্জনে মনোরম পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে ঘুরে আসুন ইয়কসাম। ঐতিহাসিক রয়্যাল প্যালেস, পুরনো মনেস্ট্রি ডুব্দি গুম্ফা, নরবুগাং পার্ক আপনার ৩-৪দিনের সময় কাটানোর জন্য উপযুক্ত। ১০০০-২০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন অজস্র হোটেল, হোমস্টে এবং রিসর্ট।

আরও পড়ুন: পায়ে হেঁটে পশ্চিম সিকিমের অজানা অন্দরে

নামচি: ৪৪০০ ফুট উচ্চতায় দক্ষিণ সিকিম জেলায় অবস্থিত নামচি। কাঞ্চনজঙ্ঘা-সহ অন্যান্য তুষারশৃঙ্গের দৃশ্য দেখতে ঘুরে আসুন নামচি। গাড়িভাড়া করে যে জায়গাগুলি দেখে নেবেন তার মধ্যে সামদ্রুপচে (১৩৫ ফুট উঁচু গুরু পদ্মসম্ভবের মূর্তির অবস্থান এখানেই), রক গার্ডেন, চারধাম (কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, রামেশ্বরম, দ্বারকা, গঙ্গোত্রী ইত্যাদি মন্দিরের সুদৃশ্য রেপ্লিকা তৈরি হয়েছে অনেকটা জায়গা জুড়ে। আছে ১০৮ ফুট উচুঁ বিশাল এক শিবমূর্তি, সাঁইবাবার মন্দির, ‘তারে ভির’ উল্লেখযোগ্য। ৯০০ টাকা থেকে শুরু করে নানা মানের থাকাখাওয়ারসুযোগ আছে এখানে।

ছালামথাং: অসাধারণ তুষারশৃঙ্গের দৃশ্য, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, সুস্বাদু খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে ঘুরে আসুন সিকিমের এই অল্পচেনা জায়গা। গ্যাংটক থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে এই ছালামথাং। দুই থেকে তিন দিন ঘুরতে চাইলে ৫০০০-১০০০০ টাকার মধ্যে থাকাখাওয়া হয়েযাবে অনায়াসে। এখানে গাড়ির খরচ তুলনামূলক ভাবে বেশি। আলাদাগাড়ি ভাড়া করতে পারেন কিংবা পাবলিক ট্রান্সপোর্টও ব্যবহার করতে পারেন।

আরও পড়ুন: সামাটার... ছালামথাং... রাবংলা... নামচি...

মৌসিনরাম: বৃষ্টি প্রিয় হলে মৌসিনরাম ঘুরে আসুন একবার। মেঘালয়ের একটি ছোট গ্রাম, মনোরম গ্রামীণ পরিবেশ, ঝর্না, ট্রেকিংউপভোগ করতে মৌসিনরাম ঘুরে আসুন। এখানে ২-৪ দিন থাকাখাওয়া ৬০০০ থেকে ১০০০০ টাকার মধ্যে হয়ে যাবে।

মেঘ-পাহাড়ের টানে শিলং আর মৌসিনরাম

লুংলেই, মিজোরাম: মিজোরামের এই সুন্দর টাউনটির নাম শুনেছেন? এই পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরে আসুন লুংলেই। মনোরম পাহাড়ি পরিবেশ এবং অসাধারণ আবহাওয়া আপনার মন ভরিয়ে তুলবে। ৪০০০-৭০০০ হাজার টাকার মধ্যে মাথাপিছু খাওয়াদাওয়া, থাকা এবং ঘোরা হয়ে যাবে।

গোয়া: সমুদ্রপ্রিয় মানুষের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য গোয়া। সবথেকে কম খরচে আরামদায়ক ভাবে ঘুরতে যাওয়ার জায়গা হল গোয়া। তবে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আপনি সাউথ নাকি নর্থে যাবেন। ৩০০ টাকা ভাড়ার স্কুটার থেকে শুরু করে ২০০০ টাকার গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন সমুদ্রতটের চারপাশ ঘুরতে। শপিং, খাওয়া, নাইটলাইফ নিয়ে মজায় কাটবে গোয়া। মাথাপিছু ৭০০০-৮০০০ টাকার মধ্যে ঘোরা হয়েযাবে আপনার।

আরামবোল-ভাগাতোর-আঞ্জুনা-বাগা-কালাঙ্গুট

কোলভা-সেরনাবাতিম-আগোন্ডা-পালোলেম

জয়সলমির: সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যে ভরা রাজস্থানের জয়সলমির। রাজস্থানি খাবার ও আপ্যায়ন উপভোগ করতে এখনই ঘুরে আসুন। ৩-৪ দিনে মন ভরে জিপ সাফারি, ডেজার্ট ক্যাম্পিং করতে খরচ পড়বে মাথাপিছু হাজার দশেকটাকাকিংবা তারও কম। তবে রাজস্থানি লোকনৃত্য দেখতে ভুলবেন না।

কোদাগু: কফি, পাহাড় এবং সবুজে ঘেরা প্রকৃতি উপভোগ করতে চাইলে কোদাগু হল একদম উপযুক্ত স্থান। মাইসুরু থেকে কিছুটা দূরত্বে এই সুন্দর জায়গাটি ঘুরতে আপনার খরচ হবে পারে মাথাপিছু ৫০০০-৭০০০ টাকা।

কুর্গে কয়েকদিন

ভারকালা: কেরালার এই উপকূলবর্তী এলাকার ভারকালা আপনার গন্তব্য তালিকায়যুক্ত করতে পারেন। খুব কম খরচে তিরুঅনন্তপুরমের এই জায়গাটি ঘুরে আসা যায়। মন্দির, ক্লিফ, সমুদ্রতট, লাইট হাউস অজেনা এই মনোরম জায়গায় নিজের সময় কাটান মাথাপিছু ৭০০০-১০০০০ হাজার টাকার মধ্যে।

কেরলের সাগরসৈকত, ব্যাকওয়াটার, সবুজের আল্পনা

লোনার: মহারাষ্ট্রের লোনার নোনা জলের লেকের জন্য বিখ্যাত। ঔরঙ্গাবাদ থেকে সড়কপথে যেতে হবে এই জায়গায়। সল্ট ওয়াটার লেক ছাড়াও এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনোরম। ১০০০০ টাকার মধ্যে ঘুরে আসতে পারবেন এই জায়গাটি থেকেও।

শোজা: হিমাচলপ্রদেশের কুলুর অদূরে এই শোজা। কুলুতে থাকতে না চাইলে কম খরচে ঘুরে আসতে পারেন শোজা। পাহাড়ি সৌন্দর্যে ভরপুর এই শোজা আপনাকে থাকার সুযোগ দেবে খুবই কম খরচে।  মাথাপিছু৭০০০-৮০০০ হাজার টাকায় ঘুরে আসতে পারেন।

হেমিস: লে থেকে কিছুটা দূরে এই হেমিস। মনোরম পরিবেশে অচেনা জায়গায় থাকতে চাইলে ঘুরে আসুন হেমিস। সবুজে ভরা কাশ্মীর উপত্যকার সৌন্দর্য দেখতে হেমিস হবে আপনার প্রিয় স্থান। ছোট সুন্দর পাহাড়ি সবুজে ঘেরা কটেজে থাকতে এবং স্থানীও সুস্বাদু খাবার খেতে খুব কম খরচে ঘুরে আসা যায় হেমিস। মাথাপিছু ৮০০০-১০০০০ হাজারের মধ্যে ঘুরে আসা যায় এই জায়গা থেকে।

ছুটি কাটুক লাদাখের পথে প্রান্তরে